দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিও বাজাতে হবে: হাইকোর্ট

দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধের বিষয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটিও দেশের সব স্থানে বাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ব্যাংক খালি হয়ে গেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। এখন যদি বেসরকারি ব্যাংকের মতো সরকারি ব্যাংক থেকেও টাকা চলে যায়, তাহলে এ খাতে ধস নামবে।

বুধবার ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা নিয়ে করা রিটের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণের অংশ বিশেষ আদালতে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ইনশাল্লাহ সোনার বাংলা আবার জাগবে। যদি শোষণহীন সমাজ গড়তে পারি, তবে আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনাদের কাছে আমার আরেকটা অনুরোধ হলো, দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করতে রাজি আছেন কিনা? দুর্নীতি আর ঘুষ, রাজি আছেন? হ্যাঁ, খোদা হাফেজ-জয় বাংলা।’

এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ এখন বেশি করে জনগণকে জানানো দরকার। সেজন্য ভাষণটি সব স্থানে বেশি বেশি বাজানো দরকার। আদালত বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী ১০ কোটি টাকা রাখলে পাবেন মাত্র এক লাখ টাকা। এটা কি দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করতে করা হয়েছে? আদালত বলেন, ২০-২২ জন ব্যক্তি, যাদের কাছে সম্পদ রয়েছে, তারা যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে আর্থিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এরপর শুনানি মুলতবির আদেশ দেন হাইকোর্ট।

Advertisements