Advertisements
Skip to content

লকডাঊন এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ ও পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছেই

 

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ ও পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। স্থানীয় সময় শনিবারও বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, দেশটির ১৬টি রাজ্যের ২৫টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে কারফিউ অমান্য করে শহরে শহরে বিক্ষোভ চালিয়ে গেছেন আন্দোলনকারীরা।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পুলিশ, জাতীয় রক্ষীবাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে শক্ত অবস্থানে দেখা গেছে। এসব বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। রক্ষণশীল রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘লুটেরা ও নৈরাজ্যবাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার এক বিক্ষোভকারী ও এক নিরাপত্তাকর্মীর নিহত হওয়ার পাওয়া গেছে।

গত সোমবার জর্জ ফ্লয়েড নামে ৪৬ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার উপরে ফ্লয়েডকে ফেলে তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছেন এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। পরে শ্বাস বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। এই ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ফ্লয়েড হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডেরেক চাওভিন নামে ওই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হলেও তাদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টির বেশি শহরে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শিকাগোতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে শনিবার। এ সময় বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। লস অ্যাঞ্জেলসে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এক ছবিতে দেখা গেছে, পুড়িয়ে দেওয়া পুলিশের গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করছেন প্রতিবাদকারীরা।

দ্বিতীয় দিনের মতো ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। মিনিয়াপোলিস, নিউইয়র্ক, মিয়ামি, আটলান্টা, ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। নিউইয়র্কে বিক্ষোভকারীদের ওপর গাড়ি তুলে দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে মিনিয়াপোলিস, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলস, ফিলাডেলফিয়া, পোর্টল্যান্ডসহ বিভিন্ন শহরে। এসব শহরে কারফিউ অমান্য করে শনিবার রাতে বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রস্থল মিনেসোটা রাজ্যজুড়ে জাতীয় রক্ষিবাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানী ওয়াশিংটনেও মোতায়েন করা হয়েছে রক্ষিবাহিনী। আরও কয়েকটি শহরের গভর্নররা রক্ষিবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কয়েকটি শহরের মেয়ররা জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি শহর থেকে প্রায় দেড় হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবারও বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রকৃত গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মিনেসোটা রাজ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শনিবার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। অনেকের ওপর ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে চলা বিক্ষোভের লাইভ সম্প্রচারের সময় সিএনএনের এক সাংবাদিককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে আটক করে নিয়ে যায়। ওমর জিমিনেজ নামের ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজককে পুলিশ আটক করেছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সাংবাদিক নির্যাতনের নতুন তথ্য সামনে এলো।

Advertisements
%d bloggers like this: