Advertisements
Skip to content

সিঙ্গাপুরে করোনা ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি ট্রেস-টুগেদার’।

ab_pcr_070220

 

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ব্লুটুথ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং-এর যন্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। দেশটির সরকার স্মার্টফোনে ব্যবহার করার যে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ চালু করেছে, নতুন এই ব্লুটুথ যন্ত্রটি তার বিকল্প ব্যবস্থা।

একটি টোকেন ব্যবস্থার নাম ‘ট্রেস-টুগেদার’। যাদের স্মার্টফোন নেই বা যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে চান না, তাদের জন্য নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তবে স্মার্টফোনে এমন অ্যাপ ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা যাবে কি-না, তা নিয়ে কোনো কোনো মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর নতুন এই যন্ত্রটি চালুর ঘোষণা করা হয়। খবর বিবিসির।

করোনা ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের দেখাশোনার জন্য পরিবারের কেউ নেই বা যাদের চলাফেরার অসুবিধা রয়েছে- এই যন্ত্রটি প্রথমে তাদের দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রত্যেক টোকেনধারীকে চিহ্নিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোড বা সঙ্কেত থাকবে। এই টোকেন যন্ত্রে চার্জও দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

এটির ব্যাটারি কাজ করবে নয় মাস পর্যন্ত। টোকেনটি ব্লুটুথের মাধ্যমে আশেপাশে টোকেন বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ‘ট্রেস-টুগেদার’ ব্যবহার করছে এমন ব্যক্তিদের সিগনাল ধরবে।

টোকেনটি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে এমন কেউ আশেপাশে আছে শনাক্ত করলে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কর্মকর্তা যন্ত্র ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সতর্ক করে দেবে। আশপাশের কারও সংস্পর্শে আসার কারণে সেই ব্যক্তির যদি কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়, তাহলে ওই টোকেন থেকে সেই তথ্যও ডাউনলোড করা হবে।

আর স্মার্টফোনে এই অ্যাপ ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি অবশ্য দেশটির মন্ত্রী নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, মানুষের গতিবিধির ওপর নজরদারি করার লক্ষ্যে এই যন্ত্র তৈরি করা হয়নি।

সিঙ্গাপুর সরকার বলেছে, এই টোকেন যে তথ্য সংগ্রহ করবে তা বিশেষভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে এবং সর্বোচ্চ ২৫ দিন তা ওই টোকেনে মজুত রাখা হবে। এছাড়া টোকেনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস ব্যবস্থা থাকছে না। ফলে আপনি কোন জায়গায় আছেন তা টোকেন নির্ধারণ করতে পারবে না।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, মার্চ মাসে তারা স্মার্টফোনে ব্যবহারযোগ্য ‘ট্রেস-টুগেদার’ অ্যাপটি চালুর পর প্রায় ২১ লাখ মানুষ এটি ডাউনলোড করেছে।

সরকার বলছে, সিঙ্গাপুরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার খুলে দেওয়া শুরু হয়েছে, ব্যবসাবাণিজ্য দোকানপাট আবার খুলছে। তাই ‘ট্রেস-টুগেদার’ কর্মসূচি যাতে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা হয় এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে আরও ব্যাপকভাবে অংশ নিতে পারে, সেটা তারা নিশ্চিত করতে চায়।

পিসিআই নামে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি এই টোকেন তৈরি করেছে। তারা প্রথম দফায় তিন লাখ টোকেন তৈরি করে। এতে টোকেনপ্রতি খরচ পড়েছে ২০ সিঙ্গাপুর ডলার।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৪৫৯ জন।

Advertisements
%d bloggers like this: