Skip to content

যুক্তরাষ্ট্র আ. লীগের দুই নেতার ব্যাংক লুট !

 

দর্পন কবীর ।নিউইয়র্ক ।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান সভা করে প্রকাশ্যে বলেছেন-যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ করে কেউ কিছু পায়নি-এ কথা কেউ বলতে পারবেন না। নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে পালকী রেষ্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেছিলেন গতবছর। সকলের কথা জানিনা, দু’জন তো আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন রাতারাতি। তারা হলেন ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী ও নিজাম চৌধুরী। ফরাসত আলী একসময় ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার ম্যানহাটানে ‘গ্রেট ইন্ডিয়া’ নামে একটি রেষ্টুরেন্ট ছিল। তাঁর সঙ্গে সখ্যতা ছিল প্রয়াত নেতা ও সাবেকমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে। অনেক আগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তার বাড়িতে বেশ কিছুদিন আতিথিয়েতা গ্রহণ করেছিলেন। ওই সম্পর্কটা তার ওপরে উঠার সিঁড়ি হিসাবে কাজ করেছিল। এনআরবি কর্মাশিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন এবং শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন-খবরে জানা যাচ্ছে। একসময় তাঁর রেষ্টুরেন্টে যেতাম, তিনি খুব অমায়িক ব্যবহার করতেন। ব্যাংকের চেয়ারম্যান হবার পর তার আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন দেখেছি।
আরেক লুটেরার নাম-নিজাম চৌধুরী। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এখনও সিনিয়র সহ-সম্পাদক। তিনি মর্টগেজ ব্রোকার ছিলেন। এর আগে ম্যানহাটানে পারফিউমের দোকানে বিক্রয় প্রতিনিধির কাজ করতেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হবার আগ অব্দি ম্যানহাটানে তার পারফিউমের দোকান ছিল। নিয়মিতভাবে প্রতিমাসে ভাড়া দিতে হিমসিম খেতেন। বর্তমানে শত কোটি বা তার চেয়ে বেশি অর্থের মালিক। তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি ও ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গেও আমার ভাল সম্পর্ক ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ-এমন কথা প্রায় সকলকে বলে বেড়াতেন। রাতারাতি তিনি ধনী হয়েছেন। ব্যাংক ছাড়াও পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়েছেন। এমপি হবেন, স্বপ্ন ও লক্ষ্য ছিল। এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে পারেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যান্টিনে তিনি একসময় ভাত-ডাল বিক্রি করতেন। টিভি চ্যানেলে টক-শো করেন। পরিচয় দেন, অর্থনীতির গবেষক।
এদের উন্নতি নিয়ে অহংকার করতে পারলে ভাল লাগতো। কিন্তু দেশের মানুষের অর্থ লুট করে নেয়া এই দূর্বৃত্তদের কি প্রসংশা করা যায়? যারা এদের গুণ-গান গায়, তারাও কি দেশবিরোধী নয়? দেশপ্রেমিক হতে হলে নিজেকেও সৎ মানুষের পক্ষে এবং অসৎ মানুষের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়। কথাটি কি ঠিক বললাম?
নোটঃ আরো বেশ কয়েকজন নেতা আছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ করে বিত্তবান হয়েছেন। রাজনীতি যেন আলাদীনের চেরাগ!

%d bloggers like this: