Skip to content

জেনে নিন কে এই শাহেদ?

This slideshow requires JavaScript.

 

এই লেখাটার পূর্বে একটা ছোট ভুমিকা দিতে চাই।২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের ঘটনা। আমি তখন একুশে টিভিতে কর্মরত। তৎকালীন সময়ে মধ্যরাতের জনপ্রিয় টকশো একুশে রাতের প্রযোজনার দায়িত্ব পালন করি। উপস্থাপনা করেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। একদিন একুশে টিভির চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালাম সাহেব ডেকে পাঠান। স্যারের রুমে ঢুকতেই বললেন, ‘রনি, টকশোতে আসার জন্য তোমাকে ও পান্নাকে অনেক এমপি,মন্ত্রীর পিএস ফোন করে জানি। প্যানেল তোমরাই সাঁজাও।আমি কোনদিন তোমাদের কাজে হস্তক্ষেপ করিনি। আমি তোমাকে বলছি, পান্নাকেও বলবো শাহেদ নামে একটা চিটার,বাটপার আছে। সে ফোন দিলে তাকে টকশোতে ডাকবা না। এটা আমার রিকোয়েস্ট।’
জ্বি আচ্ছা বলে স্যারের রুম থেকে বের হয়ে ভেবে পাচ্ছিলাম না কে এই শাহেদ? কিবা তার পরিচয়? কেনই বা চেয়ারম্যান সাহেব তাকে ডাকতে নিষেধ করলেন? তখন আসলে শাহেদ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। সেই সময় এই ভুঁইফোড়কে আমি বা পান্নাভাই চিনিও না,জানিও না। তার নাম সেদিন প্রথম শুনি চিটার বাটপার সম্বোধনে।
আমি ও পান্নাভাই কোনদিন তাকে ২০১৫ সালের ২৫ শে অক্টোবর পর্যন্ত ডাকিনি। কিন্তু এসময় একুশে টেলিভিশন জোরজবরদস্তি হ্যাইজাক করে দেয়া হয় এসআলম গ্রুপের কাছে। এই পটপরিবর্তনের পর একুশে টেলিভিশনের অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায়। এসময় কারেন্ট এফেয়ার্স হেড হিসেবে যিনি যোগ দেন তিনি একদিন অথিতি নির্বাচন করে সন্ধ্যাবেলায় আমাকে গেস্টলিস্ট দেন। বলেন, অথিতিদের কারো গাড়ি লাগবে কিনা আমি যেন ফোন করে জেনে নেই।
সেই তালিকায় চমকে দেয়ার মতন একটি নাম ছিল মোঃ শাহেদ। পদবী লেখা ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষক!
তখন কারারুদ্ধ চেয়ারম্যান স্যারের কথাগুলো মনে পড়লেও আমার বা পান্নাভাইয়ের কিছুই করার ছিল না। ডিজিএফআইয়ের জনৈক কর্মকর্তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে একুশে টিভির দখলদার গ্রুপের হম্বিতম্বিতে আমরা কোনঠাসা এবং সবাই চাকুরিচ্যুতির আশংকায় তটস্থ।
সেইরাতে প্রথম মোঃ শাহেদকে চাক্ষুস দেখি। তিন চারজন অস্ত্রধারী গার্ড নিয়ে রাত এগারোটায় একুশে টিভিতে আসেন। তাঁর আচার আচরনে যে ঔদ্ধত্যের প্রকাশ দেখেছি, তা আমি অতীতে কোন অথিতির কাছে পাইনি।

আমি যতোদিন টকশো প্রযোজনা করেছি এই শাহেদ ও রাশেক রহমানকে ডাকিনি তাদের দাম্ভিকতা এবং অসদাচারনের জন্য।

এবার জেনে নিন মোঃ শাহেদ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় কি লেখা হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে উদ্ধৃত করে নীচের লেখা।
২.
বহুমুখী প্রতারক শা‌হেদ দীর্ঘ অনেক বছর ধ‌রে তার প্রতারণা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে আর ইদানীং বিভিন্ন টিভিতে মধ্যরাতের টকশোতে এসে নীতিবাক্য বলে নিজেকে বুদ্ধিজীবি এবং আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ সেজে জাহির করছে।

বর্তমানে মোঃ শাহেদ/সা‌হেদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও তার আসল নাম কিন্তু মোঃ শাহেদ করিম, পিতাঃ সিরাজুল করিম, মাতাঃ মৃত সুফিয়া করিম। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএস‌সি। তার মা মৃত্যুবরন করেন ৬ নভেম্বর, ২০১০ সালে। প্রতারক শা‌হে‌দের একাধিক নাম রয়েছে। সে কখনো কখ‌নো মেজর ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, ক‌র্ণেল ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, কখ‌নো মেজর শাহেদ করিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু তার আসল নাম জাতীয় পরিচয় পত্রে শাহেদ করিম লেখা। কিন্তু বর্তমানে সে মোঃ শাহেদ নামে আরেক‌টি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে যার নাম্বার হল- ২৬৯২৬১৮১৪৫৮৮৫। আর এ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয় ২৫-৮-২০০৮ইং। কিন্তু তাতে তার মা মারা গেছে লেখা রয়েছে, অথচ তার মা মৃত্যুবরন করেন ০৬ নভেম্বর ২০১০ইং। তাতেই প্রমাণ হয় এটাও ভুয়া।

ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১ রয়েছে। গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়। এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও প্রতারণা বাটপারি করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। বিএনপি সরকারের আমলে রাজাকার মীর কাসেম আলী ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে সর্ম্পক গড়ে তা‌দের মাধ্য‌মে তা‌রেক জিয়ার হাওয়া ভব‌নের অন্যতম কর্তাব্য‌ক্তি হ‌য়ে উ‌ঠে সে।

শা‌হে‌দের বেশ কিছু প্রতারণার প্রমাণ তৎকালীন প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা বর্তমা‌নে জাতীয় পা‌র্টির সাংগ‌ঠিনক সম্পাদক সৈয়দ মঞ্জু , ঢাকা বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের সা‌বেক সাহসী ছাত্রলীগ নেতা এসএম হ‌লের শামীম তথা শামীম আহ‌মেদ এবং সা‌বেক ছাত্রলীগ নেতা পলাশ চৌধুরীর কা‌ছে র‌য়ে‌ছে।

১/১১ ফকরু‌দ্দিন সরকা‌রের সময় আর খাম্বা মামুনের সাথে সে ২ বছর জেলও খাটে। জেল থে‌কে বের হ‌য়ে শা‌হেদ ২০১১ সালে ধানমন্ডির ১৫ নং রোডে এমএলএম কোম্পানী বিডিএস ক্লিক ওয়ান নামে বাটপারী ব্যবসা প্র‌তিষ্ঠান খু‌লে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ক‌রে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। আর সেসময় তার নাম ছিল মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী।

তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ২টি মামলা, বরিশালে ১ মামলা, বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরির নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণার কারনে উত্তরা থানায় ৮টি মামলাসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে, সে মার্কেন্টাইল কো- অপারেটিভ ব্যাংক বিমানবন্দর শাখা থেকে ৩ কোটি টাকা লোন নেয় আর সেখানে সে নিজেকে কর্ণেল (অব.) পরিচয় দিয়ে কাগজপত্র দাখিল করেন সে ব্যপারে আদালতে ২টি মামলা চলমান আছে। এ সম্প‌র্কে একুশে টিভি ২০১৫/১৬ সা‌লে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে।

এই প্রতারক মোঃ শাহেদ ওরফে ‌মেজর/ক‌র্ণেল ইফতেখার আহম্মেদ চৌধুরী, ওরফে শাহেদ করিম, ওরফে মোঃ সাহেদ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকা‌রের বি‌ভিন্ন মন্ত্রী ও কর্তা ব্য‌ক্তি‌দের কা‌ছের লোক পরিচয় দিয়ে থাকে। প্রকা‌শ্যে অনেক মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করেই মানুষকে হুমকি দিয়ে থাকে।

তার গাড়ীতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড ও সাইরেনযুক্ত হর্ন ব্যবহার করে। সে নিজেকে কখনো মেজর, ক‌র্ণেল, সচিব, এমনকি সে নাকি ৯৬ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর এডিসি ছিলো এমন পরিচয়ও দিয়ে থাকে। আবার কিছুদিন যাবৎ সে বিভিন্ন টিভিতে টকশোতে খুব নীতিবাক্য বলে।

বর্তমানে সে উত্তরাস্থ ১১ নং সেক্টরের ১৭ নং রোডে, বাড়ী নং-৩৮ একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছে যার কোন বৈধ্য লাইসেন্স নেই, যা র‌্যাব এর অভিযানেই প্রমানিত হয়েছে আর হাসপাতাল চালা‌নোর মত কোন ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপা‌তি নেই তবুও দালালের মাধ্যমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল ক‌লেজ হাসপাতাল থেকে রোগী ক্রয় করে এনে তাদের আটকিয়ে রেখে হাজার হাজার টাকা আদায় করে।
এছাড়াও প্রতারণার টাকায় সে উত্তরা প‌শ্চিম থানার পা‌শে গ‌ড়ে তু‌লে‌ছে রিজেন্ট কলেজ ও ইউনির্ভাসিটি, আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটি যদিও এর একটিরও কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। আর অনু‌মোদনহীন আরকেসিএস মাইক্রোক্রেডিট ও কর্মসংস্থান সোসাইটির ১২টি শাখা করে হাজার হাজার সদস্যদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এর আগেও সে উত্তরাস্থ ৪,৭ ও ১৩ নম্বর সেক্টরে ভুয়া শিপিংয়ের ব্যবসা করেছে সেই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেই সাধারন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মেরে দিয়েছে। বর্তমানে তার ভিজিটিং কার্ডে সে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান প‌রিচয় দেয়। কিছুদিন আগে সে এক‌টি অস্ত্রের লাইসেন্সও নিয়েছে। অথচ অস্ত্রের লাই‌সেন্স কর‌তে বাৎস‌রিক ন্যূন্যতম ৩ লক্ষ টাকা ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া লা‌গে।

আমার জানাম‌তে সে কোনদিনও ইনকাম ট্যাক্স দেয় না। শা‌হে‌দের প্রতারনা সর্ম্পকে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ১১-১২-২০১৪ইং একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় এবং অপরাধ জগত প‌ত্রিকাও নিউজ ক‌রে। শা‌হে‌দের বেশ ক‌য়েক‌টি গাড়ি রয়েছে সে গাড়িগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। তার গাড়ী‌তে ভি‌ভিআই‌পি ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড, অবৈধ ওয়ারল্যাস সেট আর অস্ত্রসহ ৩ জন বডিগার্ড থাকার কারনে সাধারণত পুলিশ তার গাড়ী থামাবার সাহস পায়না।

107803532_10158045103298800_7151945516413677952_n

তার অফিসে লাঠিসোটা রাখা হয়। এমনিক তার অফিসের ভেতরে একটি টর্চার সেলও রয়েছে। কোন পাওনাদার টাকা চাইতে আস‌লে পাওনাদার‌দের সেখা‌নে টর্চার করা হয়। তার অফিসে সুন্দরী মেয়েদের রাখা হয় বেশী আর অনেক সুন্দরীর সাথে তার অবৈধ সর্ম্পক র‌য়ে‌ছে।

তার বিরুদ্ধে ৩২ টি মামলা রয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায় এর মধ্যে ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরায় বেশী সেগুলোর ক‌য়েক‌টি মামলার নং- বাড্ডা- ৩৭(৭)০৯, আদাবর-১৪(৭)০৯, লালবাগ-৪৭(৫)০৯, উত্তরা ২০(৭)০৯, উত্তরা১৬(৭)০৯, উত্তরা ৫৬(৫)০৯, উত্তরা ১৫(৭)০৯, ৩০(৭)০৯, ২৫(৯)০৯, ৪৯(০৯)০৯, ১০(৮)০৯ সবগুলো মামণাআ ৪২০ ধারায়।

তার প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেসিএস লিঃ ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩২১০১০০০০১০০০৩, রিজেন্ট হাসপাতাল লিঃ ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় একাউন্ট নং-০৮৩১১০১০০০০০০৬১৬, সহ ব্র্যাক ব্যাংক উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে শত শত কোটি রয়েছে।

বর্তমানে সে রি‌জেন্ট গ্রুপ ও কর্মসংস্থান সোসাইটি কেকেএসের নামে প্রতিষ্ঠান বাড়ী ১৬ রোড ১৭ সেক্টর ১১ উত্তরা ঢাকায় বসে সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, সে বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার। মধ্যরাতে ‌বি‌ভিন্ন টিভির টকশোতে এমন নীতিবাক্য বলে যা দেখে হাসি পায়। যে নিজে মহাচোর আর সেই টক‌শো‌তে ব‌সে অন্যকে বলে তুই চোর। অবাক লাগে ৩২ মামলার আসামি আজ নাম পাল্টিয়ে টকশোতে ব‌সে জা‌তি‌কে নী‌তিবাক্য আর রাজনী‌তির সবক দেয়।

তথ্য সূত্র – বাংলাদেশ প্রতিদিন

%d bloggers like this: