Skip to content

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে সেখানে মিঠুর একটি প্রতিষ্ঠানেরও নাম নেই। 

Bd-Pratidin-20-06-20-F-01

স্বাস্থ্য খাতে মাফিয়া ডন বলে খ্যাত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু

 

স্বাস্থ্য খাত গিলে খেলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে মিঠু সিন্ডিকেট। আইনি জটিলতা এড়াতে বহু আগেই দেশ ছেড়েছে। তবু থেমে নেই তার দৌরাত্ম্য। যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। 

করোনাকালে দেশের স্বাস্থ্য খাতের যে নাজুক অবস্থা ধরা পড়েছে, সেই জন্য অনেকেই মিঠু সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন। আর টিআইবি বলছে স্বাস্থ্য খাতের এই পরিণতির দায় মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরও এড়াতে পারে না।

জানা যায়, মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর উত্থান হয় ২০০১ সালে। তখন তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে টুকটাক ব্যবসা করতেন। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে নাটকীয় উত্থান ঘটে এই মিঠুর। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দখলে নেয় মিঠু সিন্ডিকেট।

এ সময় তার সিন্ডিকেটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ নিয়ে আকাশছোঁয়া অবস্থানে চলে যান মিঠু। এক সময় তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের মাফিয়া হয়ে উঠেন। দেশে তার শতাধিক এজেন্ট রয়েছে।

সম্প্রতি মিঠুর বেনামি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৫০টি আইসিইউ মেশিন সরবরাহের কাজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। যার দাম ধরা হয়েছে বাজার দরের চেয়ে ৪-৫ গুণ বেশি। দুদকের তদন্তে মিঠুর ১৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া যায়।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে কয়েক দফায় তদন্তের উদ্যোগ নিলেও আইনের ফাঁক গলে মিঠু থেকেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এমনকি দুদকের সুপারিশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করেছে সেখানে মিঠুর একটি প্রতিষ্ঠানেরও নাম নেই।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া স্বাস্থ্যখাত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। আর দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানান, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে দুদক।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের বহুল আলোচিত পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে মিঠুর নাম আসে। তারপরও তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

নিউজ সুত্র আরটিভি নিউজ#

%d bloggers like this: