Skip to content

দুবাইয়ে পাচারের জন্য তরুণী সংগ্রহ করতে সারাদেশে অর্ধশতাধিক দালাল নিয়োগ করেন পাচার চক্রের গডফাদার আজম খান।

Untitled-23-samakal-5f0ccaafd5d7a

 

দুবাইয়ে পাচারের জন্য তরুণী সংগ্রহ করতে সারাদেশে অর্ধশতাধিক দালাল নিয়োগ করেন পাচার চক্রের গডফাদার আজম খান। নিম্নবিত্ত পরিবারের সুন্দরী তরুণীরা ছিল তার টার্গেট। বিশেষ করে যে পরিবারে মেয়ে একমাত্র উপার্জনক্ষম, তাকে সহজেই ফাঁদে ফেলতেন দুবাইয়ে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে। প্রতিটি মেয়েকে আগে আজম খান পছন্দ করতেন। তিনি দেশে থাকলে সরাসরি তার সামনে মেয়েকে হাজির করা হতো। তিনি দুবাইয়ে অবস্থানের সময় মেয়েদের দেখানো হতো ভিডিও কলের মাধ্যমে। তার পছন্দ হওয়ার পরই চূড়ান্ত করা হতো পাচারের পরিকল্পনা। প্রতি তরুণীর জন্য দালালের কমিশন ১০ হাজার টাকা। আজম খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দালালরা গা ঢাকা দেয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) খুঁজছে তাদের।

এদিকে গতকাল সোমবার আজম খান ও তার সহযোগী আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড ঢাকার আদালতে নারী পাচারের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আরেক সহযোগী আনোয়ার হোসেন ওরফে ময়নাকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল তিনজনকে আদালতে হাজির করেন সিআইডির কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী দুই তরুণীর জবানবন্দিও রেকর্ড করেছেন আদালত।

চাকরির প্রলোভনে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক তরুণীকে দুবাইয়ে পাচার করে যৌনকর্মে বাধ্য করেছেন আজম খান ও তার সহযোগীরা। তরুণীরা রাজি না হলে তাদের টর্চার সেলে রেখে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। সম্প্রতি কয়েক তরুণী সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। এর পর দূতাবাস ও সে দেশের পুলিশের সহায়তায় দেশে ফেরেন তারা। পাচারের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন তরুণীরা। তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পেরেছে আজম খান বিপুল পরিমাণ টাকা দুবাইয়ে পাচার করেছেন। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নির্যাতিত যে তরুণীরা দেশে ফিরেছেন, তাদের অনেকেই সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আজম খানের সহযোগী দালালদের ধরার চেষ্টা চলছে। সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার রাতে দুবাই থেকে পাঁচ তরুণী দেশে ফিরেছেন। তাদের পাচার করেছিলেন আজম খান। তরুণীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় কয়েকদিন পর তাদের সঙ্গে কথা বলবে সিআইডি।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা আজম খান দুবাইয়ে তিনটি ফোর স্টার এবং একটি থ্রি স্টার হোটেলের মালিক। হোটেলগুলো হলো- ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেলে ফরচুন গ্র্যান্ড, হোটেল রয়েল ফরচুন এবং হোটেল সিটি টাওয়ার। তার দুই ভাই নাজিম খান ও এরশাদ খান হোটেলের দায়িত্বে রয়েছেন। সবকিছুই দেখভাল করেন আজম খান। হোটেলের আড়ালে ড্যান্সবার এবং যৌন ব্যবসা চালানো হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণী পাচার করা হয় দুবাইয়ে। হোটেলে মেয়েদের আটকে রেখে যৌনকর্মে নামানো হয়। এটি আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্র। বাংলাদেশের তরুণী পাচারের বিষয়টি ছিল আজম খানের হাতে। আট বছর ধরে তিনি তরুণী পাচার করে আসছেন।

আজম খান মাঝে মধ্যেই দেশে আসতেন। কখনও ঢাকায়, কখনও চট্টগ্রামে অবস্থান করতেন। পাচারের আগে অগ্রিম বেতন হিসেবে দেশে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন প্রত্যেক তরুণীকে। সেখানে নেওয়ার পর প্রথমে হোটেলে ছোটখাটো চাকরি দেওয়া হতো। ্‌কয়েক দিনের মাথায় ড্যান্সবারে জোরপূর্বক নাচতে বাধ্য করা হতো। একপর্যায়ে যৌন ব্যবসা করানো হতো তাদের দিয়ে। দুবাইয়ে মাসে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও সেই টাকা দেওয়া হতো না।

তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুবাইয়ে প্রতিদিন যৌন ব্যবসায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় হতো আজম খানের। সম্প্রতি কয়েকজন তরুণী হোটেল থেকেই বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। এরপর তার পাসপোর্ট বাতিল করে দেয় দুবাই কর্তৃপক্ষ। পরে এক্সিট পাস নিয়ে আজম দেশে এসে নতুন করে পাসপোর্ট তৈরি করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এর আগেই গ্রেপ্তার হন। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফারহান সমকালকে বলেন, আজম খান ও আলামিন নারী পাচারে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

নিউজ সুত্র সমকাল #

%d bloggers like this: