Skip to content

মুসলিম কোন একটি নির্দিষ্ট দলের নাম নয়,

ইসলাম = আত্মসমর্পণ “মুসলিম” শব্দটি একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা অর্থ হলো “আত্মসমর্পণকারী”, এবং ইংলিশ অর্থ হলো “Submitter”। মুসলিম কোন একটি নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, যেমন বাঙালি, বৃটিশ, আফ্রিকান ইত্যাদি কোন একটি নির্দিষ্ট জাতির নাম তেমন। বরং দুনিয়ার যেকেউ যদি নবী ইব্রাহিমের পন্থা/পথ/ধর্ম/পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করে তাকেই মুসলিম বলা যায়। যদি একটি তুচ্ছ উদাহরণ দেই তাহলে বিষয়টা বুঝতে সহজ হয়: জগতে প্রতিটা ধর্মীয় দলের মধ্যে ভালো ব্যক্তি এবং মন্দ ব্যক্তিরা রয়েছে; যারা মন্দ ব্যক্তি তারাও সেই দলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ধর্মের বিষয়টা পুরোপুরিভাবে ভিন্ন। একজন মন্দ ব্যক্তি কখনোই মুসলিম নয়, কারণ সে নবী ইব্রাহিমের পন্থায় জীবন পরিচালনা করে না। এটা কমন সেন্স যে, আপনি যা নন নামে মাত্র তা হওয়ার জন্য কোনো একটি দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজেকে সেটা দাবি করা স্পষ্টই ফাঁকিবাজি এবং নিজেকে নিজেই ধোঁকা দেওয়া। সুতরাং, মুসলিম কিংবা ইসলাম কোন দলের নাম নয়; যা নবী ইব্রাহিম থেকে এসেছে এবং এটি হলো দুনিয়াতে জীবন পরিচালনা করার একটি পন্থা, পথ বা ধর্ম। একজন মুসলিম হিসাবে এটা সবারই জানার কথা যে, “মুসলিম” নামটি প্রথম নবী ইব্রাহিম থেকে আসে (রেফারেন্স?) অর্থাৎ নবী ইব্রাহিমকে ধর্ম পালনের যে পদ্ধতি/পন্থা বা ধর্মশিক্ষা দেওয়া হয়েছিলো, সেই পন্থায় বা পদ্ধতিতে যারা ধর্ম পালন করবে তারাই হলো মুসলিম (রেফারেন্স?)। সুতরাং, এমনটা বলা কখনোই সঠিক নয় যে, মুসলিম নির্দিষ্ট কোনো একটি জাতির নাম, বা কোনো দলে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে নিলেই মুসলিম হওয়া যায়! মুসলিম কোনো দল, জাতি বা সম্প্রদায়ের নাম দাবি করা সম্পূর্ণরূপে একটি বর্ণবাদী প্রথায় বিশ্বাস করার ন্যায়। অর্থাৎ আমি এই দলে আর তুমি ঐদলে। দুনিয়ার যেকেউ মুসলিম হতে পারে (রেফারেন্স?)। নবী ইব্রাহিমের ধর্মে বর্ণবাদের স্থান নাই, কারণ আল্লাহ তাকে বর্ণবাদ শিক্ষা দেন নি। এবং নবী ইব্রাহিমের পরবর্তীতে নবী মোহাম্মদসহ সকল নবী রাসূলগন নবী ইব্রাহিমের ধর্ম অনুসরণ করে গেছেন (রেফারেন্স?)। মানুষ মাত্রই ভুল; মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। মানুষ তার নিজেকে সংশোধন করার জন্যই এই জগতে এসেছে। এটি শয়তানের জগত, এই জগতেই মানুষের পরিক্ষা এবং নিজিকে সংশোধন করার পালা। আর সংশোধনটি হলো যে, মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, এবং মানুষ সুবিধা বুঝে মিথ্যার পক্ষে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়। মানুষ জানা সত্বেও নিজেকে বাহাদুর প্রমাণ করতে সত্য ত্যাগ করে। এটা মানুষের আত্মার দূর্বলতা। তাই তাকে সংশোধন হয়ে আবার আল্লাহর রাজ্যে পুনরায় ফিরতে হবে। যে ব্যর্থ হবে সে আর কোনো দিন আল্লাহর রাজ্যে পুনরায় ফিরতে পারবে না, তাকে উপহার হিসাবে দেওয়া হবে নরক। মানুষ ভুল করে, তাই কোনো মানুষকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়; তাতে পথভ্রষ্ট হওয়ার নিশ্চিত। তাহলে আল্লাহ যে বললো নবী-রাসুলদের অনুসরণ করতে? হ্যা অবশ্যই করবেন; যদি আপনি কোন নবী-রাসুলের সাক্ষাৎ পেয়ে যান তাহলে। যদি তা না হয়, তাহলে আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করবেন। কিতাব কী? কিতাব হলো আল্লহর বাণী, জ্ঞান, যার দ্বারা যুগে যুগে আল্লাহ মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। কিন্তু মানুষের মুখের কথা অনুসরণ যোগ্য নয়। অমুক এটা বলেছে, তমুক এটা বলেছে, অমুকের পিতা তমুক এই কথা শুনেছে ইত্যাদি ইত্যাদি অনুসরণ যোগ্য নয়। তবে হ্যা, যে কারো যে কোন কথা অনুসরণীয় হতে পারে যদি তা কিতাব সমর্থন করে, যদি তা আল্লাহর থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান হয়, যদি তা শিরিক করতে না বলে, যদি তা কুসংস্কার না হয়, যদি তা মিথ্যা বানোয়াট কথা না হয়, যদি তাতে অকল্যাণ না থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। কোন সাহাবা বলেছে? বুজুর্গ বলেছে? পীর বলেছে? ইমাম বলেছে? শিক্ষক বলেছে? বাবা-মার আদেশ? অবশ্যই তা বর্জনীয় যদি তা আল্লাহর কথার সাংঘর্ষিক কথা হয়! যদি তা শয়তানের শিক্ষা হয়! হাজার বছর সাধনা করেছে? মদিনা ইউনির্ভাসিটিতে পড়াশোনা করে বিশাল শায়েখ, আল্লামা হয়েছে? তার কথাও বর্জনীয়! আল্লাহর কথার উপরে কথা বলার সাহস কেবল শয়তানের। যারা আল্লাহর কিতাবের থেকেও এক-লাইন বাড়িয়ে কথা বলে তারা শয়তানকে অনুসরণ করছে।

 

আব্দুল আলিম । প্রবাসী ।

অনুবাদক।

%d bloggers like this: