Skip to content

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের

Illustration of election 2020 in America threatened by a virus.

 

যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) প্রধান ক্রিস্টোফার ওরে। ভুল তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে মস্কো ইতোমধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির শুনানিতে এসব কথা বলেছেন ক্রিস্টোফার।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রচারশিবির লক্ষ্য করে মস্কো ক্রমাগত ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলে শুনানিতে জানিয়েছেন ক্রিস্টোফার। তার আশঙ্কা, ধীরে কিন্তু ক্রমাগতভাবে ভুল তথ্য ছড়ানোর এ প্রক্রিয়া ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের প্রচারশিবিরে রুশ হ্যাকারদের হানা দেওয়ার ব্যাপারে সম্প্রতি সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

রুশ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে এফবিআই কী পদক্ষেপ নিচ্ছে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি পরিষদকে তা অবহিত করেছেন ক্রিস্টোফার। তিনি বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে যে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে এফবিআই বদ্ধপরিকর। সেই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘রুশদের হস্তক্ষেপ প্রক্রিয়া অতিমাত্রায় সক্রিয়।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বাইডেনের বিরুদ্ধে রুশ এজেন্টরা নানা রকম ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে দাবি ক্রিস্টোফারের। বাইডেনকে রাশিয়ার স্বার্থবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে প্রচার চালানো হচ্ছে।

গত ৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সেন্টার বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে একই রকম সতর্কবার্তা দিয়েছিল। এই গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, রাশিয়া একাই ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে না। চীন এবং ইরানও পৃথকভাবে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের তৎপরতা সম্পর্কে এফবিআইপ্রধান ওরে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি পদ্ধতি আয়ত্তে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন চীনা হ্যাকাররা। এই হ্যাকাররা এতটাই সক্রিয় যে প্রতি ১০ ঘণ্টায় একটি করে নতুন তদন্ত শুরু করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেয়েছে। গত নির্বাচনে রুশ এজেন্টরা ট্রাম্প সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে নানা নেতিবাচক তথ্য ছড়িয়ে দেন রুশ হ্যাকাররা। এতে ট্রাম্পের জয় পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুয়েলারের তদন্ত প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে আসে। যদিও তা অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রাশিয়ার কর্মকর্তারা।

আসন্ন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই ট্রাম্পের। তিনি ব্যস্ত ডাকযোগে ভোটের নানা ত্রুটি ধরতে। বৃহস্পতিবার এক টুইটে ফের ডাকযোগে ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ডাকযোগে ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে ভিত্তিহীন টুইটের কারণে সম্প্রতি টুইটার কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টে ফ্যাক্ট-চেক লেবেল জুড়ে দিয়েছে।

নভেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও পরিষদের শুনানিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এফবিআইপ্রধান ক্রিস্টোফার। বিশেষ করে পোর্টল্যান্ড, ওরেগন এবং উইসকনসিন রাজ্যকে বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে এফবিআই। এই তিন শহরে সম্প্রতি বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ট্রাম্প সমর্থক উগ্র-ডানপন্থিদের একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহতও হয়েছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি।

%d bloggers like this: