Category: জীবন যাত্রা

তথ্যপ্রযুক্তি সভ্যতার উন্নয়ন ? নাকি ধংস !

সভ্যতার উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির অবদান অ’পূরণীয়। প্রযুক্তির ডানায় ভর করে পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন আবিষ্কার সহ’জ করে দিচ্ছে জীবনযাত্রাকে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের দরুন মোবাইল ফোন আজ যোগাযোগের দ্রুততম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। গোটা বিশ্বকে এনে দিয়েছে হাতের মুঠোয়। কিন্তু প্রযুক্তির উপকারী একটি মাধ্যম যখন ক্ষতির কারণ হয়, তখন সেটা ভয়াবহ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটি আজ এমনই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইলের ‘ভয়ংকর’ ব্যবহারে আমাদের দেশের স্কুলপড়ু য়ারা ‘সর্বনাশের’ চরম সীমায় চলে যাচ্ছে।

প্রযুক্তির এ মাধ্যমটি ব্যবহার করে তারা বিনোদনের রঙিন আ’গুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। কিছু না বুঝে ওঠার আগেই এ আ’গুনে পুড়িয়ে ফেলছে মূল্যবান সময় ও মেধা। নিজেকে ঠেলে দিচ্ছে এক অশুভ স্রোতের মাঝে। বাংলাদেশে অনলাইন অ’প’রাধ প্রবনতা ব্যাপক বেড়ে গেছে। বেশীরভাগ অ’প’রাধই করছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

বেসরকারি এক জরিপ অনুযায়ী, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তির পেছনে যে কারণগুলো উঠে আসছে এর মধ্যে অন্যতম হল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন রগরগে ওয়েবসাইটে সহ’জে প্রবেশ ও গেমস। এ আসক্তি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তা কি আম’রা কখনও গভীরভাবে ভেবে দেখেছি? কেন কোমলমতি শি’শু-কিশোররা মা’দকের মত মোবাইল আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে? এজন্য কি শুধু তারাই দায়ী? নাকি এর পছনে অন্য কারণও আছে?

অনুসন্ধান দেখা গেছে, বেশীরভাগ স্কুল-কলেজের মেয়েরাই অনলাইন সুরক্ষা স’ম্পর্কে জানেনা। মেয়েরা বিভিন্ন বয়সের পুরুষের মাধ্যমে প্রতারণা স্বীকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশী। স’ম্পর্কের নামে ভিডিও কলের মাধ্যমে এ সকল মেয়েরা নানা অ’প’রাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে, তার মাশুল দিতে হচ্ছে অ’ভিভাবকদের।

ঢাকা মেডিক্যাল লা’শ কা’টাঘর প্রতিদিনই আসছে বিভিন্ন কিশোরীর আত্নহ’ত্যার দেহ। এদের অনেকের বয়স ১৩ থেকে ১৭। যারা অনলাইনে ভিডিও কলসহ ম্যাসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে নানা অ’প’রাধ করতে গিয়ে নিজেরাই প্রতারণার স্বীকার হয়ে আত্নহ’ত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে ভুলেও স্মা’র্টফোন তুলে দেওয়া ঠিক নয়। এতে অ’ভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিজেই নষ্ট করছে। অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে আমি আরও খুঁজে পেয়েছি অনেক কিশোরী স্মা’র্টফোন ব্যবহার করে নিজের ব্যাক্তিগত গো’পন ছবি তুলে দিচ্ছে অন্যের কাছে। যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালের নামে অশান্তি তৈরি হচ্ছে দেশে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মেস, হোস্টেলে অনেক কিশোরী স্মা’র্টফোন ব্যবহার করে প্রবাসীদের সাথে প্রতারণা করছে।

যেটা আমাদের এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হতে পারে। আমা’র অনুসন্ধান বলছে, বাংলাদেশ থেকে ১৩ থেকে ১৭ বছরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা স্মা’র্টফোন ব্যবহার করে নানা অ’প’রাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই গড়ে তুলছে পাড়া মহল্লায় বিভিন্ন গ্রুপ। যেটা সমাজের চিত্র ভয়ানক করে তুলছে।

অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমা’র চোখে পড়েছে এমন ভয়ানক চিত্র তা তুলে ধ’রা খুবই জরুরী। বেশীরভাগ কিশোর এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন ম্যাসেজ গ্রুপ খুলে সেখানে ছিনতাই, ধ’র্ষণ ও নি’র্যাতন, চু’রিসহ হ’ত্যা পরিকল্পনা করে চলেছে। অ’ভিভাবকদের অসচেতনতাই এগুলো বাড়াচ্ছে বলে আমি মনে করি৷ এই ব্যাপারে আমি অনেক অ’ভিভাবকের সাথে কথা বলে বুঝলাম, সন্তান ঘরে ফিরেছে কিনা, কি করছে এমন তথ্যগুলো জানার জন্যই তারা স্মা’র্টফোন কিনে দিচ্ছে। অনেক শি’শু, কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীরা পথ হারাচ্ছে স্মা’র্টফোন ব্যবহার করে। আরও ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে স্মা’র্টফোন ব্যবহার দিনে দিনে মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করে দিচ্ছে৷ সময় থাকতে স্মা’র্টফোন ব্যবহার বন্ধ করুন ও সন্তান, ছোট ভাইবোনকে দিন বাটন ফোন। যেগুলো ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সারাদিন নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ফোন একদমই নয়৷

লেখক : আরিফ রহমান শিবলী, নির্বাহী পরিচালক, কিডস মিডিয়া ও সদস্য, আমেনেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল।

বাংলাদেশী সমকামী নারী বিয়ে করেছেন আমেরিকান আরেক নারীকে! অসহায় অভিবাবক ।

Image may contain: 2 people

নববধূর নাম ইয়াশরিকা জাহরা হক (৩৪)। বাবার নাম ইয়ামিন হক, মায়ের নাম ইয়াসমিন হক। ইয়াশরিকা জাহরা হক ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন করেছে। তারপর ইলিনয়েসের নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছে। বর্তমানে ম্যানহাটনের একটি ল’ ফার্মে এসোসিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। জাতিগতভাবে বাঙালি ইয়াশরিকা হক বিয়ে করে মার্কিন যুবতী এলিকা রুথ কুকলিকে (৩১)। ইয়াশরিকা হকের পরনে ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি। অর্নামেন্টস পয়েন্টে নানন্দিক সোনার গহনা। দু’হাতের কনুই থেকে হাতের তালু পর্যন্ত মেহেদির আলপনা। ব্রুকলিনের ২৪০ কেন্ট এভিনিউ’র “The W LOFT” ওয়েডিং ভেন্যুতে সাউথ এশিয়ান রিচুয়াল ফলো করে মহা ধুমধামে ইয়াশরিকা– এলিকা দুই লেসবিয়ানের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসে এই দুই লেসবিয়ানের বিয়ে নিয়ে একটি বিশেষ আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসে উল্লেখ করা ছিল, এই বিয়েতে আনুমানিক হাফ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল।

Image may contain: 2 people, people smiling, people standing and outdoor

এলিকা রুথের পরনে ছিল অফ হোয়াইট কালার শেরওয়ানি, লাল পাজামা। দু’হাতে মেহেদির নকশা। গলায় মুক্তার মালা। এলিকা পেশাগতভাবে একজন অডিওলজিস্ট।

অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশী কন্যার অভিবাবক এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি । উল্লেখ আমেরিকায় সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পর বাবা মা কোন কারনেই বা কোন প্রকার কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না এমন কি কোন বয়সেই পিতা মাতা স্পন্তান দের কোন প্রকার মানুষিক বা শারিরিক নির্যাতন বাধা নিষেদ করতে পারে না যদি কোন অভিবাবক করে তবে সন্তান ইচ্ছে করলে পুলিশ এ জানিয়ে মা বাবা কে আইনের আয়ত্তে আনতে পারবে ।

Image may contain: 3 people, people smiling, people standing

আমিরিকায় সমকামীতা বৈধ

নিউজ সুত্র যুবরাজ শাহাদাত হসেইন এর ফেসবুক থেকে

প্রতারনার রংচং মাখা বিজ্ঞাপনের ফাদে দেশের বিদেশগামী তরুনেরা !

ছবি প্রতিকী

কানাডা ভিসা ২০ লাখ !! আমেরিকা ভিসা ২০ লাখ !! ইউরোপ ভিসা ১৫ লাখ !! ভিসার আগে বা পরে ১ টাকাও নয়, সমস্ত পেমেন্ট পৌঁছানোর পরে।।
এরকম রংচং মাখা বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে, আমার পরিচিত এক ভাই এই ফাঁদে পা দিয়ে তার সর্বশেষ খুয়িয়েছেন।। তার করুন কাহিনী হুবহু তুলে ধরা, যদি কারো কোনও উপকার এ আসে।।

সে এমনই কোনও এক বিজ্ঞাপন দেখে ঢাকায় অভিজাতো এলাকায় একটা অফিসে গিয়েছিলেন, সেখানে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চায়। এবং তারা বলে যে, আমরা গ্রান্টি দিয়ে আপনাকে বিদেশ নিয়ে যাবো, ২ বছর এর জন্যে জব ভিসা, মাসিক ২০০০-২৫০০ ডলার বেতন, ৫ বছর পরে নাগরিকত্ত পেতে আমরাই সাহায্য করবো।। এমনকি ভিসার আগে ও পরে কোনও অর্থ প্রদান করতে হবে না, সমস্ত খরচ আপনি বিদেশ পৌঁছানর পরে আপনি যখন বিদেশ থেকে আপনার পরিবার কে ফোন দিয়ে বলবেন যে আপনি ভালোভাবে পৌঁছে গেছেন, তার পর আপনার পরিবার আমাদের টাকা দিবে।। আমাদের আমেরিকা কানাডা তে সরাসরি প্রতিনিধি আছে, তারাই সরসরি আমেরিকা কানাডা থেকে আপনার নামে ভিসা ইসু করে পাঠাবে, তাই এখানে এম্বাসি ফেস করার কোনও ঝামেলা নেই।।

এক সঙ্গে এতো অফার পেয়ে বেচারা কনফিউস হয়ে গেলো !! সে নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলো বিদেশ যাওয়া এতো সোজা ?? নিজে নিজে উত্তর ও খুজে নিলো, আরে কি আর, এক বার চেষ্টা করে দেখি, আমার তো ২৫ পয়সাও আগে দিতে হবে না, সমস্ত খরচ যেখানে আমেরিকা/কানাডা পৌঁছানর পরে, সেখানে আমার আবার টেনশন কি !! যেই কথা সেই কাজ, বাড়িতে গিয়ে বাবা-মা এর সাথে আলোচনা করলো।। যেখানে সমস্ত খরচ পৌঁছানর পরে সেহেতু বাবা-মা আর দ্বিধা না করে রাজী হয়ে গেলো, শুরু হয়ে গেলো সুদের টাকা গুছানো ও অবশিষ্ট জমিজমা বিক্রি করার প্রস্তুতি।। ১৮-২০ দিনের মাথায় টাকা গুছানোর প্রস্তুতি শেষ করে পাসপোর্ট নিয়ে আবার অফিসে গিয়ে নিজের নামটা বুকিং দিয়ে আশা, বুকিং এর সময় অরিজিনাল পাসপোর্ট সহ ২ কপি ফটো ও ন্যাশনাল আইডি এর ফটোকপি রাখলো সঙ্গে মোবাইল নাম্বার।।

৭ দিন পরে, তাকে ফোন করে অফিসে ডাকা হলও।। যথারীতি, অফিসে যাবার পরে দেখলও সেখানে তার মতো আরও ১১ জন অপেক্ষা করছে কানাডা বা আমেরিকা যেতে চায়।। এর পরে অফিস থেকে তাদের বলা হলও, টোটাল ১২ জন এর একটা গ্রুপ এদের প্রত্যেকের (৯ জন কানাডা, ৩ জন আমেরিকা) ভিসা রেডি, এনাদের ফ্লাইট আগামী ৪ দিন পরে।। ফ্লাইট ভারতের নিউ দিল্লী থেকে সরাসরি, তাই প্রত্যেকের পাসপোর্ট এ ইন্ডিয়ান ভিসা লাগানো আছে, ২ দিন এর ভীতর ১২ জন এর গ্রুপ বাংলাদেশ থেকে নিউ দিল্লী এর উদ্দেশে রউনা দিতে হবে, সঙ্গে তাদের প্রতিনিধি থাকবে।। তাদের প্রত্যেকের ভিসা অনলাইন এ ইসু হয়ে গেছে, অনলাইন ভিসা কপি ও বিমান টিকিট নিউ দিল্লী থেকেই উনাদের প্রতিনিধি প্রত্যেক ক্যান্ডিডেট এর হাতে দিয়ে দেবে।।

এই ১২ জন এর ভীতর ২/১ জন এর মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিলো যে, পাসপোর্ট এর স্টাম্প ছাড়া কি আসলেই তারা কানাডা যেতে পারবে তো, আবার নির্ভয়ে ২/১ জন এই প্রশ্ন করেও ফেলে, কিন্তু তারা রিতিমত ধমক খেয়ে যায়।। আরে মিয়া, আপ্নারা কি আমাদের থেকে বেশি বোঝেন, আমরা ২৫ বছর ধরে এই লাইন এ, আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, আপনাদের আগে আমাদের যে সব ক্যান্ডিডেট বিদেশ গেছে, এই নেন ফোন নাম্বার, এদের সাথে কথা বলেন।।

আপনাদের কি টেনশন ?? আপনার কি ২৫ পয়সা পেমেন্ট করেছেন??? আপনাদের পিছনে আমাদের কত করে ইনভেস্ট করতে হয়েছে জানেন?? একটা কানাডা এর ভিসা রেডি করতে কতো টাকা লাগে জানেন?? এর পরে প্লেন এর টিকিট নেটে সার্চ দিয়ে দেখেন কত খরচ ।। কথাগুলি (ঝারি) শোনার পরে সবাই চুপ হয়ে গেলো ও নির্ধারিত তারিখ সবাই নিউ দিল্লী এর উরদ্দেশে রউনা দিলো।।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কোলকাতা, এর পর কোলকাতা থেকে নিউ দিল্লী ট্রেনে সবমিলিয়ে ২/৩ দিন পরে তারা নিউ দিল্লী পউছালো !! নিউ দিল্লী স্টেশন থেকে প্রায় ৩/৪ ঘন্টা প্রাইভেটকারে করে কোথায় নিয়ে গিয়ে রাতে এই ১২ জন এর গ্রুপ কে রাখা হলো কেউ সঠিক বলতে পারলো না।।
((একটা নিরিবিলি এপার্টমেন্ট, আশেপাশে ফাঁকা সর্বশান্ত পরিবেশ))

প্রত্যেকে ২/৩ ঘন্টা করে পিটালো আলাদা ভাবে, এবং সারারাত রাতে কোনও ফাঁকা রুমে আটকিয়ে রাখলো (খাবার পানি ছাড়াই সারারাত)।। পরেরদিন সকাল এ এক একজন করে অন্য ফাঁকা রুমে নিয়ে গেলো এবং মাথায় পিস্টল ঠেকিয়ে বাড়িতে ফোন করতে বাদ্ধ করলো যে ” মা/বাবা আমার আজ রাতে কানাডা এর ফ্লাইট আমার জন্যে দোয়া করবে সবাই” !!

প্রত্যেকে আলাদাভাবে তাদের পরিবার এর সাথে একই কথা বলালো এবং এর পরে ২ দিন তাদের একসাথে সেই বদ্ধ ঘরে আটকিয়ে রাখলো (দিনে ১ বার খাবার সহ)।।

২ দিন পরে একই স্টাইল এ মাথায় পিস্টল ঠেকিয়ে বাড়িতে ফোন করতে বাধ্য করলো যে ” মা/বাবা আমি ভালো ভাবে কানাডা পৌঁছে গেছি, কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি, এমন কি আগামিকাল থেকে আমি কাজে জয়েন্ট করবো, তোমরা এনাদের প্রাপ্প টাকা দিয়ে দাও “!!

নিরিহ বাবা মা দ্বিধা না করে সবাই সবার চুক্তি সরূপ টাকা দিয়ে দিলো !!! টাকা হাতে পাবার গ্রিন সিগ্নাল পাবার পরে, প্রত্যেক কে একই স্টাইল এ নিউ দিল্লী স্টেশন এ পৌঁছে দেয় কোনও এক রাতের বেলায়, সঙ্গে কোলকাতা ফেরার ট্রেন এর টিকিট সহ।

আমাদের অনেক পরিচিত আত্মীয়সজন যাতে এইরুপ প্রতারণার না পড়ে তাই পোস্ট করা….

নিউজ সুত্র #কালেক্টেড

ডাকাতির নাটক সাজিয়ে শিশুকে হত্যা করলো সৎ মা সাবরিনা বেগম সিনথি।

টাঙ্গাইল পৌর শহরের আমিন বাজার এলাকায় শিশু সাইফ উদ্দিনকে (৮) শ^াসরোধ করে হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার সৎ মা সাবরিনা বেগম সিনথি। সোমবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মুনিরা সুলতানার কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত জানান, শহরের আমিন বাজার এলাকায় সাইফের বাবা ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার দিন শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শিশু সাইফকে নিয়ে টিভি দেখছিলেন তার সৎ মা সাবরিন বেগম সিনথি। এ সময় টিভির সাউন্ড বাড়িয়ে দেয় সাইফ। বেশ কয়েকবার সাইফকে সাউন্ড কমাতে বললেও সাইফ টিভির সাউন্ড না কমানোয় তার হাত-পা বেঁধে বাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন সিনথি। ৩০/৪০ মিনিট পর ঘর খুলে দেখতে পান সাইফ বেঁচে নেই। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থাতেই সাইফকে তিনি বাথরুমে থাকা পানির বালতির মধ্যে মুখ ডুবিয়ে রাখেন। পরে ডাকাতির নাটক সাজিয়ে সাইফের বাবাকে ফোন দেন তার সৎ মা সাবরিনা বেগম সিনথি।

ফোনে সাইফের বাবা মো. সালাউদ্দিনকে সিনথি জানান, অজ্ঞাতনামা তিনজন দূষ্কৃতকারী তাদের বাসায় ঢুকে তার ও ছেলের হাত-পা বেঁধে স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় তারা সাইফকে বাথরুমের পানির বালতিতে ডুবিয়ে রেখে গেছে।

খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সিনথির ঘটনার বর্ণনা রহস্যজনক মনে হলে পুলিশ তাকে ও তার স্বামী সালাউদ্দিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সিনথি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

নারীদের হাড় ক্ষয় রোধে করণীয়

নারীদের হার ক্ষয় রোধে করণীয়

শরীরের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায় অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়। এতে হাড় অতি দ্রুত ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মারাত্মক হাড় ক্ষয়ে হাঁচি বা কাশি দিলেও তা ভেঙে যেতে পারে। ৫০ বছর পেরুবার পর থেকে শরীরের হাড় ক্ষয় বা এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে। কারও কারও আগেও হয়।

যাদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি তাদের দ্রুত হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। নারীদের পিরিয়ডের পর হাড় ক্ষয়ের হার বেড়ে যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে শরীরে হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। হাড়ের এই সমস্যাকে বলে অস্টিওপোরোসিস। সাধারণত পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। আধুনিক এবং সঠিক চিকিৎসায় হাড়ের ক্ষয় অনেকটা কমিয়ে আনা যায়।

হাড় গঠন শরীরের একটি চলমান প্রক্রিয়া। শরীরে সব সময় ব্যথার অনুভূতি বাড়িয়ে স্বাভাবিক হাঁটাচলা, কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটিয়ে জীবনের ভোগান্তি বাড়ায়। ৫০ বছর বয়সের আগে হাড়ের বৃদ্ধি বেশি হয় আর ক্ষয় কম হয়। এরপর থেকে হাড়ের ক্ষয় বেশি হয়, বৃদ্ধি কম হয়। হাড় ক্ষয় নির্ভর করে হাড়ের ঘনত্বের সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়াম, ফসফেট, কোলাজেন ফাইবারের উপস্থিতির ওপর। 

গর্ভধারণ এবং মায়ের দুধ পান করানোর ফলে নারীদের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া মেনোপজের সময় এস্ট্রজেন হরমোনের অভাবে শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ কমে যায়। ফলে খুব দ্রুত হাড় ক্ষয় হতে থাকে।

এছাড়া আরও কয়েকটি কারণে হাড় ক্ষয় হতে পারে। যেমন- ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত শরীর চর্চা না করা, অলসতাপূর্ণ জীবনযাপন করা, কিছু ওষুধ যেমন-  ডাই-ইউরেটিক্স, হেপারিন, জন্মনিয়ন্ত্রণের ইনজেকশন দীর্ঘদিন ব্যবহার করা ইত্যাদি কারণে হাড় ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।

হাড় ক্ষয় এড়াতে যা করবেন

একটু সতর্ক থেকে জীবনযাপন করলেই হাড় ক্ষয় এড়ানো সম্ভব। এজন্য প্রথমেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতে হবে। এক্ষেত্রে দুধ, পনির, চিজ বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম, ব্রকলি, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। 

নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকা যাবে না।
প্রেগনেন্সি এবং ল্যাক্টেশনের সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে হবে। 

দুধ খাওয়ার প্রয়োজন। নারীদের  দুধ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ছোট মাছ, ফল খেতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। বয়স্ক লোক, অবসরে সারাদিন ঘরে বসে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি করতে হবে। যারা হাঁটতে চলতে পারেন না তারা ঘরেই হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। যেমন একটি লোক বিছানায় সারাদিন শুয়ে থাকেন। তিনি যদি শুয়ে না থেকে কিছুক্ষণ বসে থাকেন তাহলে ভালো। বয়স্কদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। চোখে যদি ঝাপসা দেখেন। তাহলে পড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। কাজেই চশমা ব্যবহার করতে হবে।

বয়স চল্লিশের কোটা পার হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

চিকিৎসকের অবহেলায় নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতির মৃত্যু !

চিকিৎসকের অবহেলায় মেয়ের মৃত্যু, রাত জেগে লাশের পাহারায় বাবা
রাত জেগে লাশের পাহারায় বাবা

নেত্রকোনা, ১৩ জানুয়ারি – চিকিৎসকের অবহেলায় নেত্রকোনার আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) রাতে সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর ওই প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় বিষয়টি জানিয়ে রাতেই নেত্রকোনা মডেল থানায় অভিযোগ দেন মৃতের স্বজনরা। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় প্রসূতির মরদেহ রাখা হয়েছে। সারারাত মরদেহের পাশে ছিলেন স্বজনরা। মৃতের বাবা ও স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিজারিয়ান অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মারা যাওয়া প্রসূতি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আশিক মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (২৩)।

রোজিনার স্বামী আশিক ও বাবা চান্দু মিয়া জানান, আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের সঙ্গে রোববার রাতে ১২ হাজার টাকায় রোজিনার সিজারিয়ান অপারেশনের চুক্তি হয়। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালে এসে তাড়াহুড়ো করে রোজিনার সিজারিয়ান অপারেশন করেন।

অপারেশনের আগে চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং নার্স কেউ বলেননি রোগীর রক্ত লাগবে। অপারেশনে ছেলে সন্তান জন্ম হওয়ার ঘণ্টাখানেক পর প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে রক্ত লাগবে জানিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণ। ততক্ষণে প্রসূতির মৃত্যু হয়।

এ অবস্থায় রোগীকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেয়ার পর রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু রায়।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল কর্মকর্তা চিকিৎসক টিটু রায় বলেন, রোজিনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে হাসপাতালের বারান্দায় তার মরদেহ রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের বারান্দায় ওই প্রসূতির মরদেহ রাখা হয়। হাসপাতালের বারান্দায় মেয়ের মরদেহের পাশে বসে সারারাত কাটিয়ে দেন বাবা চান্দু মিয়া।

বাবা চান্দু মিয়া বলেন, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রোজিনার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার চাই আমি। তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। তারা মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করে। মৃত্যুর পর মরদেহ অন্য হাসপাতালে পাঠায়। আমি তাদের কঠিন শাস্তি চাই। তাদের শাস্তি না হলে রোজিনার মতো আরও অনেক রোগীর মৃত্যু হবে।

এ বিষয়ে জানতে আল-নূর হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার এবং কর্তৃপক্ষের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি কেউ। ঘটনার পর থেকে চিকিৎসক জীবন কৃষ্ণের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৩ জানুয়ারি

মজনুই আসামী, অন্য কেউ নয়

Image may contain: 5 people, sunglasses

যে কারণে মজনুই আসামী, অন্য কেউ নয়

একজন বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট হিশেবে অসংখ্য রেপিস্ট এবং ভিকটিমের জবানবন্দী আমি গ্রহণ করেছি। তাছাড়া আমার একাডেমিক পড়াশোনাও ক্রিমিনোলোজি এবং ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে। পেশাগত এবং একাডেমিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি রেপ, রেপিস্ট, ভিকটিম এবং এই সম্পর্কে গণ-মনস্তত্ব বিষয়ে কিছু লেখা প্রয়োজন মনে করেছি বলেই এই দীর্ঘ লেখা।

Showkat Hossain: একজন বিচারক/ম্যাজিস্ট্রেট হিশেবে অসংখ্য রেপিস্ট এবং ভিকটিমের জবানবন্দী আমি গ্রহণ করেছি। তাছাড়া আমার একাডেমিক পড়াশোনাও ক্রিমিনোলোজি এবং ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে। পেশাগত এবং একাডেমিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি রেপ, রেপিস্ট, ভিকটিম এবং এই সম্পর্কে গণ-মনস্তত্ব বিষয়ে কিছু লেখা প্রয়োজন মনে করেছি বলেই এই দীর্ঘ লেখা।

কুর্মিটোলা রেইপ মামলার অভিযুক্ত/সম্ভাব্য রেপিস্ট ধরা পড়েছে। তার নাম মজনু, সে একজন ভবঘুরে, মাদকাসক্ত, অল্প- বুদ্ধিসম্পন্ন (low IQ, Idiotic), রেললাইনের পাশের খুপড়িতে থাকা, শীর্নকায় যুবক। এই আসামী ধরা পড়ার আগে থেকেই বিভিন্ন সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে ভিকটিম বলেছিল অপরাধীটার বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে, অপরাধীটার গায়ের রং শ্যামলা, অপরাধীটার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, চুল ছোট করে কাটা, অপরাধীটার পরনে ময়লা প্যান্ট এবং পুরনো জ্যাকেট ছিল, ভিকটিম আরো বলেছে অপরাধীটার সামনের দুইটা দাঁত নাই। এই সবই ধরা পড়া আসামীর সাথে হুবহু মিলে যায়। ভিকটিম আরো বলেছিলেন যে অপরাধীটা তার মোবাইল এবং ২০০০ টাকা নিয়ে গেছে। তার পোশাকের বিবরণ এবং মোবাইল ও ২০০০ টাকা নিয়ে যাওয়া ইংগিত করে যে সে ছ্যাচ্ছর স্বভাবের, দরিদ্র এবং ছিনতাইকারীও বটে। সে যেরকম impulsive বা প্রবৃত্তি-তাড়িত এবং যেরকম এলোমেলোভাবে ক্রাইম সিনটি (Crime scene) রেখে গেছে, এবং যেরকম চরম ঝুঁকি নিয়ে কাজটা করেছে তাতেও অনুমান করা যায় যে সে অশিক্ষিত, লো আইকিউ সম্পন্ন এবং অগোছালো প্রকৃতির কোন অপরাধী হবে। এইসবও ধরা পড়া মজনুর সাথে মিলে যায়। তাছাড়া মজনুর কাছ থেকে ভিকটিমের মোবাইল ও চার্জারও উদ্ধ্বার হয়েছে।

ভিকটিম বলেছিল অপরাধীটি খুব দাম্ভিক ছিল। দাম্ভিক মানে সে খুব পাওয়ার/কনট্রোল/ডমিনেশান শো করেছিল। সব রেপিস্টরাই এইটা করে। বলতে গেলে সব অপরাধীরাই এটা করে, এমনকি একজন ছিঁচকে ছিনতাইকারীও যখন ছিনতাই করে, তখন সেও খুব পাওয়ার এবং ডমিনেশন প্রদর্শন করে। এই পাওয়ারফুল ফিল করা হচ্ছে অপরাধীর আনন্দের একটা উৎস। ভিকটিম দাবী করেছেন যে অপরাধীটা তাকে পোশাক পরিবর্তনেও বাধ্য করেছে। এটাও রেপিস্টদের একটা ট্রেডমার্ক আচরণ (signature behaviour)। রেইপিস্টরা এটা করে নিজেকে ‘powerful feel’ করতে চায়। সে নির্দেশ দিচ্ছে- ভিকটিম তার নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হচ্ছে, এইটা দেখে রেপিস্টরা king like/master like/in absolute control and power টাইপের একটা ফিলিংস পেতে চায়। ভিকটিম বলেছিল অপরাধীটি অনেক শক্তিশালী ছিল, ভিকটিম এরকম বলেছে কারণ অপরাধীটি শক্তি প্রয়োগ করেছিল। ক্লান্ত, নার্ভাস এবং আক্রান্ত যেকোন ভিকটিমের কাছেই মনে হয় যে আক্রমনকারী ছিল অনেক শক্তিশালী- এটাও স্বাভাবিক।

এইখানে আরো একটি ব্যাপার আমাদেরকে স্মরনে রাখতে হবে, তা হলো- বেশীরভাগক্ষেত্রেই দেখা যায় আঘাত-পরবর্তী (Post Traumatic) বিচ্ছিন্ন মানসিক অবস্থার কারণে রেইপ ভিকটিমরা তার সাথে ঠিক কি কি ঘটেছিল তার ধারাবাহিক ও গোছানো বিবরণ দিতে পারেন না। এরুপ ক্ষেত্রে ভিকটিম টুকরো টুকরো দুঃস্বপ্নের মতন ঘটনাটা স্মরন করতে পারেন, আগের ঘটনা পরে বলে ফেলেন বা পরের ঘটনা আগে বলে ফেলেন, কিছু জিনিস মনে করতে পারেন আবার কিছু সহয জিনিস মনে করতে পারেন না। এমনও দেখা গেছে যে ঘটনা ঘটার পরপরই ভিকটিম অপরাধীটির উচ্চতা কত ছিল বা মাথায় চুল ছিল কিনা তা বলতে পারছেন না, তবে অপরাধীটি কোন ব্র‍্যান্ডের পারফিউম ব্যাবহার করেছিল বা তার উচ্চারণে কোন বিশেষ এলাকার টান (accent) ছিল কিনা তা বলে ফেলতে পারছেন। এমনও দেখা গেছে যে ঘটনা ঘটার পরপরই ভিকটিম পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে উচ্চস্বরে হেসে উঠছেন, বা একেবারেই আবেগহীনভাবে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছেন। এইসবই ঘটে আঘাত পরবর্তী শরীরবৃত্তীয় ও আবেগগত কারণে। কয়েকদিন যাওয়ার পরে, ভিকটিম আঘাত সামলে নেওয়ার পরে ধীরে ধীরে গোছানো আকারে তার সব মনে পড়তে থাকে। এই জন্য ঘটনা ঘটার পরপরই ভিকটিমের কথাবার্তায় কোন অসংলগ্নতা পাওয়া গেলেও তা স্বাভাবিক মর্মে ধরে নিতে হয়। তবে কুর্মিটোলার ভিকটিম নিজে বেশ দৃঢ় নিশ্চয়তার সাথে অপরাধীকে দেখেই চিনতে পেরেছেন এবং সনাক্ত করেছেন।

তো সবকিছু মিলে যাওয়ার পরেও এবং ভিকটিম নিজে আসামীকে আইডেন্টিফাই করার পরেও ফেসবুকবাসী কেন তার ছবি দেখে এত অবাক/আশ্চর্য? কেন এত অবিশ্বাস? এটা তো কোন রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধ নয় যে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার জন্য রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ষড়যন্ত্র হবে! তাহলে কেনো এত অবিশ্বাস? অপরাধীর ছবি প্রকাশ হবার পর আজ সারাদিন প্রকাশিত সংবাদের নিচে ফেসবুক গোয়েন্দাদের কমেন্ট পরে যা বুঝতে পারলাম তা হল মোটামুটি ২ টি কারণে ফেসবুকবাসী বিশ্বাসই করতে পারছে না যে এই সেই আসল অপরাধী। কারণ দুইটি হলো-

১) ধরা পড়া মজনু – ফেসবুকবাসী যেমনটি আশা করেছিলেন সেরকম বলিষ্ঠ, ম্যাসকুলিন, ম্যানলি বা দেখতে দুর্ধর্ষ নয়।

২) এরকম একজন শীর্নকায় ব্যাক্তি কি করে ভিকটিমকে একা একা ফুটপাথ থেকে টেনে হিঁচড়ে/পাজাকোলা করে ঝোপে নিয়ে গেলো এবং ভিকটিম কেন তাকে বাধা দিতে পারলো না, সেইটাও ফেসবুকবাসীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য ঠেকছে না।

ভাইয়েরা আমার! প্রথমেই বলে রাখি, সিনেমায় যেরকম দেখেন যে নায়িকাকে রেপিস্ট আক্রমন করলে নায়িকা তার স্বরে চিৎকার শুরু করে “বাঁচাও বাঁচাও, ছেড়ে দে শয়তান!” বাস্তবে এমন ঘটে না। বাস্তবে কাউকে sudden/আচমকা আক্রমণ করা হলে আক্রান্ত ব্যক্তি স্থানু বা স্থবির হয়ে যায়, তার স্নায়ুতন্ত্র কাজ করে না, হাত পা কাঁপতে থাকে, মাথা কাজ করেনা, কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারেনা। ভিকটিম প্রায় ‘বিবশ’/ ‘অবশ’ হয়ে যায়। মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় এটাকে বলে Tonic immobility বা Local paralysis। যারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছেন তারা হয়তো কেউ কেউ এই অনুভুতির সাথে পরিচিত আছেন। আধুনিক নিউরো সায়েন্টিস্টরা গবেষণা করে দেখেছেন যে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভিকটিমরা প্রতিরোধ করা তো দুরের কথা – এমনকি চিৎকারও করতে পারেন না। রেপিস্টটা যতই লো আই-কিউ সম্পন্ন লোক হোক না কেন, সে তার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ভিকটিমদের এই ‘অবশ’/ ‘বিবশ’ প্রতিকৃয়া (Tonic immobility) সম্পর্কে ভালোমতই অবগত ছিল, এই জন্যই সে নির্দ্বিধায় ফুটপাথে আক্রমন করেছিল। কুর্মিটোলা ভিকটিমকে অপরাধীটি পেছন থেকে আক্রমণ করার সাথে সাথেই ভিকটিম অবশ হয়ে যায়, সে সম্ভবত ঘটনার আকস্মিকতায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।

এবারে আসি অপরাধীটি দেখতে এরকম চোরের মতন কেন বা শৌর্যেবীর্যে বলিয়ান, মহা-ম্যাসকুলিন, বলশালী ও সেইরকম শক্তপোক্ত ‘আসল পুরুষের’ মতো দেখতে নয় বলে যারা সন্দেহ করছেন তাদের ব্যাপারে। রেপিস্টদের নিয়ে FBI দীর্ঘদিন গবেষনা করে রেপিস্টদের একটা টাইপোলজি/প্রোফাইলিং (প্রকারভেদ) করেছে। রেপিস্টদের testosterone বা male hormone বেশী বা রেপিস্টরা অতিমাত্রায় সেক্সি এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি, বরং উল্টোটারই প্রমাণ পাওয়া গেছে বেশী। বেশীরভাগ রেপিস্টরাই আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে, অনেকেই ধ্বজভঙ্গ বা erectile dysfunction এ ভোগে, বেশীরভাগ রেপিস্টরাই নিজের যৌন জীবন নিয়ে হতাশ। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলা দরকার। রেপিস্ট আছে ৪ রকমের। যথা,

১) Sadistic
২) Anger Retaliatory
৩) Power Assertive
৪) Power Reassurance

Sadistic রেপিস্টরা যৌন আনন্দ লাভ করার জন্য রেইপ করে না। সে রেইপ করে ভিকটিমকে টর্চার করার জন্য। সে মূলত ভিকটিমের সাফারিং/যন্ত্রণা/হিউমিলিয়েশান উপভোগ করে। এই ধরণের রেপিস্টরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের ভিকটিমকে ধর্ষণের পরে হত্যা করে ফেলে বা চরম যন্ত্রণা যেমন সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়া বা হাত পা, স্তন, যোনীপথ কেটে ফেলা এইসব করে আনন্দ লাভ করে। তবে এরকম Sadistic রেপিস্ট এর সংখ্যা পৃথিবীর মোট রেপিস্টদের মাত্র ৪ বা ৫ শতাংশ। হরর মুভিতে বা রিভেঞ্জ মুভিতে এই ধরণের রেপিস্টদের বেশী বেশী দেখানো হয় বলে সাধারণভাবে মানুষ মনে করে রেপিস্ট মাত্রই স্যাডিস্টিক রেপিস্ট।

দ্বিতীয় টাইপটি হচ্ছে Anger Retaliatory রেপিস্ট। এরাও যৌন আনন্দের আশায় রেইপ করে না। এই টাইপের রেপিস্টদের বেশীরভাগেরই নিজেদের শৈশবে নির্যাতিত হবার ইতিহাস আছে। এরা বেশীরভাগই ছোটবেলায় মায়ের হাতে বা দাদীর হাতে বা চাচী বা বড় বোনের হাতে প্রচণ্ড মারধোরের বা এবিউজের স্বীকার হয়েছিল (childhood abuse by mother or mother figure women)। সেই থেকে এরা নিজের অবচেতন মনে পৃথিবীর সকল নারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা এবং বিদ্বেষ লালন করে। এদের অনেকেই হয়তো নিজেই জানে না যে সে নিজের অবচেতনে পৃথিবীর সকল নারীর প্রতি এরকম hostility (ঘৃণা/বিদ্বেষ) বহন করে বেড়াচ্ছে। এরা রেইপ করে নিজের এই রাগ/ বিদ্বেষ চরিতার্থ করার জন্য। প্রতিশোধ নেবার মতন একটা বিকৃত আনন্দ এরা পায় ধর্ষণ করে। এই প্রকারের রেপিস্টরাও তাদের ভিকটিমের সাফারিং/অপমান/যন্ত্রণা উপভোগ করে প্রতিশোধের আনন্দ পায়। এদের সংখ্যাও ১০ থেকে ১৫ পারসেন্ট।

তৃতীয় প্রকারটি হচ্ছে Power Assertive রেপিস্ট। এরা মুলত রেইপ করে নিজেকে ক্ষমতাবান ফিল করার জন্য। নিজেকে ক্ষমতাবান ফিল করার বিকৃততম ও সহজতম উপায় হচ্ছে অন্যকে অপমান করা। এদের কাছে এই ক্ষমতাবান ফিল করার অংশ হচ্ছে রেইপ করা। They rape because thats how they feel that they are powerful, that they can rape or do whatever they want to। এদের চলাফেরায় দেখবেন একটা অতিরিক্ত গা-জোয়ারি ভাব আছে, অতিরিক্ত ব্যাটাগিরি দেখানোর প্রবণতা আছে, নিজেকে ম্যাচো গাই (macho guy) বা টাফ গাই দেখানোর একটা প্রবণতা আছে এদের মধ্যে। প্রায়শই এরা দলবেধে ( Gang) চলাফেরা করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এরাও ভেতরে ভেতরে ইনসিকিউরড বলেই এরকম ওভার পাওয়ারফুল ভাব নেওয়ার চেষ্টায় থাকে। এই প্রজাতির পুরুষেরা বন্ধুর সাথে হ্যান্ডশেইক করার সময়ও প্রয়োজনের চেয়ে জোরে হাতে চাপ দিবে,৷ “কি দোস্ত কেমন আছিস” বলে বন্ধুর পিঠে চাপড় দেবার সময়ও এরা অন্যদের চেয়ে জোড়ে চাপড় দিবে। এরা সাধারনত স্কুলে বা কলেজে বা ভার্সিটিতে বুলি / bully টাইপের হয়। তবে এদের সংখ্যাও ১০ পারসেন্ট এর বেশী না।

সবশেষে, বেশীরভাগ – প্রায় ৭৫% রেপিস্টরাই হচ্ছে Power Reassurance টাইপের। এরা মুলত নিজের ম্যাসকুলিনিটি বা পৌরুষ নিয়ে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা socially awakward হয়, চার্মিং পারসোনালিটির অভাবে বা অন্য যেকোন কারনেই হোক এরা বন্ধুমহলেও তেমন একটা জনপ্রিয় নয়। হয়তো ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময়ও সহপাঠী মেয়েরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। সবমিলিয়ে সে মুলত একজন ইনসিকিউরড, লুজার এবং আত্মবিশ্বাসহীন ব্যক্তি। তার ধারণা সে নারীদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় এবং চিত্তাকর্ষক নয়, মেয়েরা কেনো তাকে পছন্দ করে না এই নিয়ে সে পৃথিবীর সকল নারীর ওপর কিছুটা ক্ষিপ্ত এবং নিজের প্রতি কিছুটা হতাশও বটে, তার সন্দেহ হয় যে “I may not be man enough to conquer women that I deserve”, এই রুঢ় বাস্তবতাটা সে আবার মেনেও নিতে পারে না। এই বিপরীতমুখী আবেগের অত্যাচারে সে নিজের সাথেই নিজে দগ্ধ হতে থাকে। মোটা দাগে দুইটা ভ্রান্ত ধারনায় ( illusion) সে ভুগতে থাকে। যথা-

১) আমি আসলে যোগ্য এবং ম্যানলি তবে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি হয়তো যথেষ্ট ম্যানলি বা আকর্ষণীয় নই , তবে সুযোগ পেলে একদিন দেখিয়ে দিতাম।

২) মেয়েরা মুখে যতই না বলুক আসলে একবার মেয়েদেরকে কাবু করতে পারলে নারীরা আসলে রেইপ উপভোগই করবে (ইভটিজিং করলে মনে মনে মেয়েরা খুশী হয় এরকম একটা বাংলা ফেসবুক পেইজে প্রায় ২ লক্ষ লাইক / ফলোয়ার ছিল- পেইজটা এখন আর নাই)।

যাই হোক, নিজের পৌরুষ নিয়ে অনিশ্চয়তা / ইনসিকিউরিটি থেকে সে কোন নারীকে রেইপ করে নিজের পৌরুষ জাহির করতে চায়, নিজেকে সুপার ডুপার, ম্যাসকুলিন এবং তেজস্বী হিশেবে প্রমান করতে চায়। কার কাছে সে এই পৌরুষ জাহির করে? নিজের কাছেই। সে reassure হতে চায় নিজের কাছে। এইজন্য এই টাইপের রেপিস্টদের নাম power reassurance, প্রায় ব্যাতিক্রমহীনভাবেই এই ধরনের রেপিস্টরা আক্রমণ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ভিকটিম যথা বাসার কাজের মেয়ে, গার্মেন্টস কর্মী, দুর্বল পথচারী, প্রতিবন্ধী নারী, নিজের বাসার ভাড়াটিয়া, অফিসের অধস্তন, প্রবাসীর স্ত্রী, নিজের ছাত্রী, ভিখিরি বা ভাসমান নারী এবং কমবয়েশী শিশু বা ভালনারেবল ভিকটিমদের। এই প্রজাতির রেপিস্টদের সংখ্যা মোট রেপিস্টদের প্রায় ৭৫%।

কুর্মিটোলা রেইপ কেসের আলোচ্য অপরাধীটি হচ্ছে এই প্রজাতির (Power Reassurance) রেপিস্ট (তার মধ্যে anger retaliation এর কিছু বৈশিষ্ট্যও আছে)। নিজের পৌরুষ সম্পর্কে অনিশ্চিত, ইনসিকিউরড এবং আত্মবিশ্বাসহীন রেপিস্টদের সংখ্যা যদিও মোট রেপিস্টদের ৭৫% তবুও কোন এক অজানা কারণে আমাদের দেশের অনেকের ধারনা রেপিস্ট মানেই বাহুবলি টাইপের দুর্ধর্ষ, বলশালী- সেইরকম ম্যাসকুলিন কোন পুরুষ। কি অদ্ভুত বৈপরিত্য। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী ফেসবুক ইউজারের চিন্তাভাবনা Power Reassurance রেপিস্ট এর চিন্তাধারার সাথে হুবহু মিলে যায় – এটা যে কতবড় দুঃসংবাদ তা কি আমরা অনুধাবন করতে পারছি? কারন ফেসবুকবাসীরা তো আদতে দেশবাসীই, নাকি?

এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে রেপিস্ট কেন ভাবা শুরু করলো যে কাউকে রেইপ করতে পারলে নিজেকে ‘আসল পুরুষ’/real man বা পাওয়ারফুল পুরুষ হিশেবে জাহির করা যাবে? কেন-ই বা সে তার ম্যাসকুলিনিটি reassure করার জন্য রেইপ করা আবশ্যক মর্মে ভেবে নিলো? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজ সারাদিনের সংবাদের নীচে আমাদের বংগীয় ফেসবুকবাসীর কমেন্ট পড়লে। হাজারে হাজারে, লাখে লাখে কমেন্ট দেখলাম যারা কমেন্টে তাদের বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ধরা পরা মজনুর ছবি দেখে। এই কমেন্টকারীদের মাথার ভিতর রেপিস্ট এর ছবি আকা আছে বলশালী, বলিস্ট, তেজী, সেইরকম ম্যাসকুলিন কোন পুরুষ হিশেবে। এই কমেন্টকারীরা বেশীরভাগই নিজেরাই নিজেদের পৌরুষ নিয়ে ইনসিকিওরিটিতে ভুগছেন, এবং অনুকুল পরিবেশ এবং সুযোগ পেলে নিজের গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রী বা পাশের বাসার মেয়েটির ওপর চড়াও হয়ে নিজের ম্যাসকুলিনিটি রিএশিওর করে নিবেন। আফটার অল, কে না চায় নিজেকে বলশালী, ডিজার্ভিং, তেজী এবং ম্যানলি হিসেবে নিজের কাছে জাহির করতে।

প্রিয় ফেসবুকবাসীগন, ধরা পড়া মজনু যে, আসলেই অপরাধী তা ভিকটিম নিজেই নিশ্চিত করেছেন। (তবুও তর্কের / আইনের খাতিরে আমরা তাকে এখন আসামী বলবো, রেপিস্ট বলছি না) বেশীরভাগ (অন্তত power reassurance টাইপের ৭৫ ভাগ) রেপিস্টরাই এরকম দুর্বল চরিত্রের, আত্মবিশ্বাসহীন লুজার এবং লো আইকিউ সম্পন্ন হয়ে থাকে। তবুও শুধুমাত্র মজনুকে দেখেই যারা হতাশ হয়েছেন এবং যারা ধরেই নিয়েছেন যে রেপিস্ট মানেই বলিষ্ঠ, ম্যাসকুলিন, এবং সেইরকম ব্যাপার-স্যাপার তাদেরকে নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে, যথাসময়ে এবং যথাযথ সুযোগ পেলে নিজেকে reassure করার জন্য আপনারাও তেজী ও বলশালী এবং ম্যানলি হয়ে উঠার ট্রাই করবেন বলে আমার সন্দেহ হয়।

ডিসক্লেইমার- সরকারী প্রতিষ্ঠানসমুহের কাজের সচ্ছতার অভাবে বা দীর্ঘ বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে হতাশা থেকে যারা সন্দেহ পোষন করেছেন তাদের জন্য আমার সমবেদনা, একটা উত্তেজনাকর গল্পের সাদামাটা এন্ডিং দেখে যারা হতাশ হয়েছেন তাদের জন্য থাকলো করুনা।

এই লেখার বিষয়বস্তু হচ্ছে অভিযুক্ত মজনু শীর্নকায় বলে সে রেইপিস্ট হতে পারে না এই পুর্বানুমানকে খন্ডন করা, ভিকটিম কেন অভিযুক্ত মজনুকে পাল্টা আঘাত করতে পারলো না তার ব্যখ্যা দেওয়া, এবং বলিষ্ঠ ও ম্যাসকুলিন হবার সাথে ধর্ষক হবার যে কোন সম্পর্ক নেই তা দেখানো এবং নিজেকে ম্যাসকুলিন/ ম্যানলি বা ‘ আসল পুরুষ হিশেবে জাহির করার জন্য কেউ কেউ যে ধর্ষক হয়ে উঠতে পারেন সেই মনস্তত্ত্বকে ব্যখ্যা করা।

কপি ফ্রমShowkat Hossain:এগিয়ে চলো ডট কম।”

সমুদ্রের মাঝে এক দ্বীপ।

Image may contain: sky, aeroplane, outdoor and nature

আমি জানিনা কই আসছি, আমি জানিনা তাদের ভাষা। শুধু জানি আলাদা এক দ্বীপ রাষ্ট্রে আসছি, যেখানে অনেক গুলো দ্বীপ মিলে এক প্রেসিডেন্ট। তাঞ্জানিয়ার আন্ডারে হলেও জাঞ্জিবার আলাদা প্রেসিডেন্ট, ভিন্ন এক দেশ, সমুদ্রের মাঝে এক দ্বীপ।

আজ সারাদিন কিলিমাঞ্জারো ভ্রমণ করে বিকাল ৫ টার ফ্লাইট ধরে আসছি জাঞ্জিবার। ঘন্টা দেড়েকের ফ্লাইট। সব কিছুই ঠিক ছিলো, হঠাৎ করেই পাল্টে গেলো সব। এয়ারপোর্টে আসার পথে হুট করেই আমার হাজবেন্ডের শরীর খারাপ হয়ে গেলো। কিলিমাঞ্জারো থেকে এয়ারপোর্টে আসতে আসতে সে গাড়ি থামিয়ে চার বার বমি করেছে। এয়ারপোর্টে আসতে আসতে তার আর হুশ নাই, অনেকটা বেহুশের মতো।

ইমিগ্রেশন এর সব কাজ আমরা মা ছেলে করলাম। তার শরীরে এক ফোঁটা শক্তি ছিলোনা। সে চেয়ারে মাথা দিয়ে পুরাই বেহুশ। প্লেনে উঠার আগে সে এয়ারপোর্টের ই এক কর্মকর্তার উপর বমি করে দিলো। তাঞ্জানিয়ার মানুষ অসাধারণ, বমি গায়েই সে লোক তাকে ধরে সাথে সাথে টয়লেটে নিয়ে গেলো।

প্লেনেও সে বেহুশের মতই। জাঞ্জিবার নেমে গাড়ি নিয়ে শুধু বাংলোর নাম বললাম, ড্রাইভার যখন ড্রাইভ করছিলো সে ইংলিশ বুঝেনা, শুধু বাংলো চিনে। প্রায় ২ ঘন্টার উপর পুরো অন্ধকার রাস্তায় ড্রাইভ করে সে নিয়ে এলো বাংলোতে। কই আসছি, কই থাকবো জানিনা কিছুই৷ সাথে মারাত্মক অসুস্থ আমার হাজবেন্ড।

কোথাও লাইট দেখলাম না। শুধুমাত্র বাংলোর কাছাকাছি এসে দেখি কিছু দোকানে লাইট এবং এত রাতে রাস্তাঘাট ভরা ইউরোপিয়ান, আমেরিকান ঘুরে বেড়াচ্ছে, শপিং করছে, খাচ্ছে। কিন্তু দোকান পাট পুরাই ভাংগাচূড়া টাইপ। কিন্তু এত্ত এত্ত ইউরোপিয়ান, আমেরিকান দেখে বুঝলাম এখানে ওরা নিরাপদ। গাড়ি বাংলোতে ঢুকতেই এক লোক আমাদের বাংলো দেখিয়ে দিলো। বাংলোতে ঢুকার সাথে সাথেই আমার হাজবেন্ড আবারো বমি শুরু করলো।

আমি পুরাই অসহায়৷ আমার ডাক্তার লাগবে অথবা হস্পিটাল, তাকে নিয়ে সারারাত কিভাবে পার করবো সেটা মাথায় ধরছেনা। বাংলোর রিসিপশনে এসে দেখি কেউ নাই। পুরাই সুইজারল্যান্ড সিস্টেম। খোলা গেট, অর্ধ নগ্ন হয়ে ভিজে ভিজে আসছে ইউরোপিয়ান, আমেরিকান। বুঝে নিলান বাংলোর সাথেই লাগোয়া বিচ৷ আমার এসব দেখার সময় নাই, আমার লাগবে ডাক্তার। পাগলের মতো খুজছি কাকে বললো আমার ডাক্তার লাগবে।

এক মাসাই লোক বাংলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাকে বললাম আমার এক্ষুনি ডাক্তার লাগবে। সে ইংলিশ বুঝেনা। মাসাই ট্রান্সলেটর ইউজ করে বললাম, আমার হাজবেন্ড প্রচন্ড সিক, এক্ষুনি ডাক্তার চাই। মাসাই লোক মাসাই লিখে আমাকে গুগুলে ইংলিশ করে দেয়। এভাবে আমরা কথা বললাম।

সে কাকে যেনো ফোন করলো। সে ট্রান্সলেট করে বললো এক্ষুনি ডাক্তার আসবে। ডাক্তার আসছে, চিকিৎসা চলছে, তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

বাংলোতে খাওয়ার ব্যবস্থা নাই। বাইরে খেতে হবে। অন্ধকারে আসছি, কিচ্ছু চিনিনা। আবার মাসাই ট্রান্সলেট করে বললাম, আমার খাবার লাগবে, ডলার চেঞ্জ করা লাগবে। মাসাই পড়ে মাসাই ভাষা থেকে ইংলিশে ট্রান্সলেট করে বললো সে একজনকে আমার সাথে দিবে, আমাকে খাওয়ার দোকান আর মানি এক্সচেঞ্জ কোথায় করবো দেখিয়ে দিবে। অচেনা এক দেশে, অথবা রিজনে, যেখানে কেউ ইংলিশ জানেনা সেই দ্বীপে ডলার ভাংগিয়ে গেলাম খাবার কিনতে৷ রাত অনেক, প্রায় সব দোকানে খাবার শেষ। লাস্ট এক দোকানে এসে বললাম আমাকে রান্না করে দাও।

তারা রান্না করছে আর আমরা মা ছেলে অপেক্ষা করছি। খাবার নিয়ে বাংলোতে যাবো। ডাক্তার আসার সময় বলেছে, তুমি যাও, বাইরের কাজ সারো, আমি দরকার হলে সারারাত থাকবো। ডাক্তার যেনো ফেরেশতা হয়ে আসছে। সকল কিছু ভালো হোক এই প্রার্থনা।

Ferdousha Ruhi #

প্রবাসি ব্লগার

সত্যিই, আমাদের সৃষ্টি বিচিত্র।

Image result for image

পুরুষের মগজ (চিন্তা-ধারা) এবং নারীর মগজ (চিন্তা-ধারা) নিয়ে অনেক হাসি ঠাট্টা করা হয়। এই তো, সেই দিনও একটা বুড়োবুড়ি দাম্পত্যের কথা নিয়ে অনেকক্ষণ হাসলাম। সত্যিই, আমাদের সৃষ্টি বিচিত্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ আমরা অনেকেই একে অপরকে বুঝি না, কিংবা বুঝতে অনেক সময় নিয়ে ফেলি। আমি বলছি না যে আমি বুঝে ফেলছি বা কিছু; কখনও না। তবে নিজের সম্পর্কে কিছুটা বুঝতে পারছি যে কেন বা কিসে আমার মধ্যে এমন বাধা সৃষ্টি করে; তা হচ্ছে সহিষ্ণুতার অভাব, বিনয়িতার অভাব, মনোযোগ দিয়ে না শোনা, অন্যান্য দৃষ্টিকোণকে বিবেচনায় না নেওয়া, ইত্যাদি।নারীরা হচ্ছে মানসিক দিকে দিয়ে vulnerable (সহজে আঘাত বা আক্রমণ করা যায় এমন). এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই সম্ভবত নারীরা ‘মা’-এর ভূমিকা পেয়েছে। মানুষ ছোট থাকতে তাদের আদর যত্ন সোহাগের প্রচুর প্রয়োজন পড়ে যা কিনা কোনো ‘মা’ কিংবা কোনো অত্যন্ত যত্নশীল (নারী) অভিভাবক থেকে পাওয়া যেতে পারে। যেসব নারীকে ব্যতিক্রম দেখা যায়, তারা আসলে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এই বিচার-ভাবনার বিকৃতি ঘটেছে অন্যদের প্রভাবে, বা নির্মম পরিস্থির শিকার হয়ে।দিন দিন লক্ষ্য করছি যে নারীরা খুব সহজেই সামনের ব্যক্তিকে মার্জনা করে দেয়। ছোটকালও দেখেছি নারীদের এই বিস্ময়কর গুণ। তখন ভাবতাম যে হয়ত স্বজনদের মধ্যে যে স্বজনপ্রীতি বলে কথা আছে তাই হয়ত কেউ বিরাট অপরাধ বা আপত্তিকর কাজ করলেও সে মাফ পায়। যেমনি বয়সে বুড়ো হচ্ছি, লক্ষ্য করছি যে নারীরা আপন কেউ হোক, বা পর … সব ক্ষেত্রে বড় উদার- অর্থাৎ লাপরোয়া করে না।স্বামী যেমনই হোক, তালাকের মনোভাব তাদের মনে অরিজিনালি উদয় হয় না। স্বামী যেমনই হোক, তাকে দেখলে স্ত্রীর চোখ শীতল হয়, যে কোনো মুহূর্তে সে তার হয়ে পুরো পৃথিবীর সাথে লড়াই করবে- এমনই হচ্ছে স্ত্রী। তার জন্য তার স্বামীই যথেষ্ট; অথচ অকৃতজ্ঞ ও অন্ধ পুরুষ অধিকাংশ সময়ই এটা লক্ষ্য করে না। আর বোকা নারী আকাশ-কুসুম কল্পনা করতে করতে করতে থাকে যে একদিন তার স্বামী বদলাবে। অনেক ক্ষেত্রে তা ঘটে অনেক দেরিতে, অনেক ক্ষেত্রে স্বামী গর্দভের গর্দভই থেকে যায়, যা হোক।হিন্দি ছায়াছবিতে বা খবরের কাগজে বা এখানে সেখানে যখনই কোনো ধর্ষণ বা ধর্ষকের কথা আসে, সবাই কেমন উত্তেজিত হয়ে যায়- মারো কাটো অবস্থা। কিন্তু বাস্তবে কোনো ধর্ষিতাও সেই ল্যাভেলের বিরূপ ভাবনা রাখে না যা বাকি সবাই ধর্ষকের প্রতি রাখে। এটা দেখে আমি তাজ্জব। ধর্ষিতাদের প্রতিক্রিয়া এবং কথাবার্তায় এমনও প্রকাশ পায় যেন উল্টো তারা ধর্ষকের প্রতি সহানুভূতি রাখে। তারা ঘটনার জন্য দুঃখিত বটে যে তা ঘটেছে, তবে ক্ষোভ কম, তাদের আফসোছ বেশী।………… আমি কেবল আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। পুরুষদের এমন থাকতেই পারে যাদেরকে নারীদের সাথে তুলনা করা যায়, তবে আমার জানা নাই। নারীদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা রইল। আল্লাহ্‌র কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এমন সৃষ্টির জন্য; আর আফসোছ সেসব সত্তার প্রতি যারা এদের মনকে দূষিত করে, বিকৃত করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে। ASHRAFUL AHAMED·SUNDAY, 1 DECEMBER 2019

বাড়ির বারান্দায় পিয়াজ চাষ

পাঁচ লিটার তেল বা জলের বোতলে জৈবসারযুক্ত মাটি ভরুন। বোতলটির সব দিকে চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটি ছিদ্র করে পেঁয়াজের চারা লাগিয়ে দিন। প্রতি সপ্তাহে ৫০০ মিলি জল দিন একেকটি বোতলে। বারান্দায় অন্তত বিশটি বোতলে পেঁয়াজ চাষ করুন, প্রতি তিন মাসে কমপক্ষে ষাট কেজি দেশি সুস্বাদু পেঁয়াজ ঘরে তুলুন।

ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে কী করবেন

দৈনন্দিন জীবনে মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে নানাবিধ শারীরিক সমস্যাও। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে অল্প বয়সেই মানুষ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া তেমনই এক জটিল সমস্যা। এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গেঁটে বাত, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া কিছুক্ষেত্রে জিনগত সমস্যাও থাকে। ইউরিক এসিডের সমস্যা কমাতে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-
১. রান্নায় তেল মশলা কম দিন। এছাড়া বড় মাছ, রেড মিট, দুধ, বেকন, কলিজা, চিনি এড়িয়ে চলুন। ইউরিক এসিডের সমস্যা হলে সামুদ্রিক মাছও এড়িয়ে চলুন।
২. ফ্যাট ফ্রি দুধ খাওয়া শুরু করুন। এছাড়া পিনাট বাটার, ফল, শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। শস্যদানা, রুটি, আলু খেতে পারেন। এছাড়া দুধ ও চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৩. অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে দূরে থাকুন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এ জন্য হাঁটা বা সাঁতার বেছে নিতে পারেন। ওজন কোনও ভাবেই বাড়তে দেবেন না। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ থাকলে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে সবসময় নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন।
৫. বাজারে পাওয়া জুস, কোমল পানীয়, লাচ্ছি খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এতে বিপাকে সমস্যা হয়।
৬. চায়ের বদলে কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ কালো কফি খেলে শরীর ভালো থাকে। তবে এতে যাতে কিডনির সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৭. খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি রাখুন। নিয়মিত লেবু বা ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খান। ভিটামিন সি ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে। সূত্র : এই সময়

পুরুষ বউয়ের যন্ত্রণায় নীরবে কাঁদেন, পুরুষদের বিষয়টি দেখার কেউ নেই।পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন

পুরুষ শাসিত এই সমাজে সব সময়ই আলোচনায় আসে নারী নির্যাতনের খবর। তবে সংসারে কি শুধুই নারীরা স্বামীদের দ্বারা নির্যাতিত হন? পুরুষরা কি নারীদের দ্বারা নির্যাতিত হন না? পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন নামের একটি সংগঠন বলছে, সমাজে অনেক পুরুষই বউয়ের যন্ত্রণায় নিরবে কাঁদেন। লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে চোখ মোছেন..।

সংগঠনটি সমাজে নির্যাতিত এসব পুরুষের জন্য পুরুষ নির্যাতন দমন আইন পাসের জোরালো দাবি জানিয়েছে। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘নীরবে কাঁদে পুরুষ দেখার কেউ নাই, পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। এ সময় তারা বিভিন্নভাবে পুরুষ নির্যাতিত হওয়ার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন।

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি শেখ খায়রুল আলম বলেন, ‘আমরা নারী নির্যাতনের কথা বলি, আন্দোলন করি। পুরুষ নির্যাতনের কথা বলি না। অনেক পুরুষ বউয়ের যন্ত্রণায় নীরবে কাঁদেন, পুরুষদের বিষয়টি দেখার কেউ নেই। বিষয়টি হয়তো হাস্যরসের সৃষ্টি করছে। কিন্তু বিষয়টি প্রচারে না আসলেও সত্য। অনেক পুরুষ চক্ষুলজ্জায় বিষয়টি গোপন রাখেন।’

তিনি বলেন, ’নারীদের সামান্য কিছু বললেই যৌতুক ও নারী নিযার্তনের মামলা দেয়। পুরুষরা নির্যাতিত হয়েও কিছু বলতে পারেন না। তবে পুরুষরা শুধু বাড়িতেই নয়, ঘরের বাইরেও নানাভাবে নিযার্তনের শিকার। পুরুষেরা তাদের আত্মসম্মানের জন্যই লুকিয়ে কাঁদেন। দিনের পর দিন বালিশ ভেজান।’

খায়রুল আলম আরো বলেন, ‘দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অনেক আইন থাকলেও পুরুষ নির্যাতন রোধে কোন আইন নেই। স্বামীকে সামান্য অপরাধে শায়েস্তা করতে স্ত্রীরা যৌতুক-নারী নির্যাতনের মামলা দিচ্ছেন। হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।’

তিনি বলেন, ‘পুরুষ নির্যাতন রোধে কোন আইন না থাকায় পুরুষরা অসহায়। অনেকেই আত্মহননের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই যতো দ্রুত সম্ভব পুরুষ নির্যাতন দমন আইন পাস করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সভায় বক্তারা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই নারী বিদ্বেষী নই। তবে নির্যাতিত পুরুষদের জন্য পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চাই। আইনটি বাস্তবায়ন হলে পুরুষরা নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাবেন। যেসব নারী নারী নির্যাতন আইনের অপব্যবহার করছেন তারা সাবধান হবেন।’