Category: ধর্ম কথা

সরকারের জামিন হলনা

Baul_Shariat02

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত শরিয়ত সরকার বয়াতির জামিন হল না।

নবী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথিত কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার শরিয়ত বয়াতির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০ বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জিনিয়া বক্স গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ মামলায় ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ ছিল। পরে আমরা তার আগাম জামিনের জন্য আবেদন করি। আজ জামিন শুনানি হলে আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন।’ তিনি আরও বলে, ‘তার জামিনের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’

শরিয়ত বয়াতি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে। ৯ জানুয়ারী ২০২০ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মির্জাপুর থানায় শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে একই উপজেলার আগধল্যা দারুসসুন্নাহ ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শরিয়ত বয়াতি ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই থানার রোহারটেক এলাকায় পালাগানের একটি অনুষ্ঠানে নবী, মসজিদের ইমাম ও ইসলামের নানা বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে ১১ জানুয়ারী ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজহারীর মাহফিলে মুসলিম হওয়ার প্র’তারণা, আ’টক ১১

ভারতীয় নাগরিত্ব গোপন রেখে বাংলাদেশে মুসলমান হিসেবে নিবন্ধন করে বসবাস করছিলেন কয়েকজন ভারতীয়। এরপরেও পুনরায় কালেমা পাঠ করিয়ে তাদের মুসলমান বানায় আজহারী সমর্থিত একটি মহল। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাব্যাপী সকল ধ’র্মালম্বীদের মাঝে ক্ষো’ভ বিরাজ করছে।

রা’মগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর হাফেজ আয়াত উল্যার বাড়ি থেকে মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে হিন্দু পরিচয়ে কালেমা পাঠ করে ধ’র্মান্তর হওয়া এক পরিবারের ১১ জনকে আ’টক করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে তাদের আ’টক করা হয়।

এ’লাকাবাসী জানান, মনির হোসেন মুসলমান ছিল। সে ছোটবেলায় ভারতে চলে যায়। গত কয়েক মাস আগে সে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশে এসে মুসলমান হিসেবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তার দুই মেয়ে জান্নাত আক্তার ও আয়েশা আক্তার হরিশ্চর মাদ্রাসায় ৫ম শ্রেণিতে এবং ছেলে আব্দুল্লাহ নামে হরিশ্চর নুরানী মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত। জা’মায়াতপন্থী একটি চ’ক্র তাদের লোভ দেখিয়ে শুক্রবার মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে নিয়ে পূনরায় কালেমা পড়িয়ে ধ’র্মান্তর করেন।

রা’মগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ধর্মান্তর হওয়া ১১ জনের কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট আছে। তারা নাগরিকত্ব গো’পন করেছে। তাই তাদেরকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রাষ্ট্রিয়, আমাদের হাইকমান্ড বিষয়টি দেখছে।

সূ’ত্রে জানা যায়, উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নারায়নপুর ডাক্তারবাড়ির মোসাম্মদ ফাতেমা বেগম ও আবদুল মজিদের ছেলে মনির হোসেন (৩৯) বিশ বছর পূর্বে অ’বৈধভাবে ভারতে চলে যায়। সেখানে গিয়ে সংকর নামে ভারতীয় নাগরিত্ব নিয়ে একটি বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন। কয়েক মাস যেতে না যেতেই ভাড়া বাসার মালিকের মেয়ে রেখা অধিকারীকে বিয়ে করে। পরে রেখার জেঠাতো বোন সুজাতা অধিকারীকেও বিয়ে করেন।

দু’ই সংসারে মিতালী, শ্যাফালী, রুপালী, কোয়েল, শ্যামলী, রাজা, সুমা, রাজেস নামে ৮ সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকমাস আগে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে নিজে মনির হোসেন নামে (১৯ অক্টোবর ২০১৯) রামগঞ্জ উপলোর ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জম্ম নিবন্ধন করেন তিনি। এবং ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মুসলমান হিসেবে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের জম্ম নিবন্ধন করেন।

এ’র আগে বড় মেয়ে শ্যাফালী বেগমকে উপজেলার চন্ডিপুরে তার বড় বোন পারভিন বেগমের ছেলে পারভেজ হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়। সেখানে আবদুর রহমান নামে এক নাতি রয়েছে। মাহফিলে তাদেরসহ পরিবারের ১১ জনকে কালিমা পাঠ করিয়ে পূনরায় মুসলমান বানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাব্যাপী মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে শনিবার রাতে তাদের আ’টক করা হয়।

কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি

মানববন্ধন অমুসলিম শিক্ষার্থী

কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন করেছে কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার জেলা শহরের মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড থেকে কাউতলী মোড় পর্যন্ত  দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই মানববন্ধনে শত শত মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন।মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন মাওলানা সাজিদুর রহমান, মুফতি মোবারকউল্লাহ, আব্দুর রহিম কাশেমী, এনামুল হাসান ও কেফায়েত উল্লাহ।বক্তারা বলেন, দাবি বাস্তবায়নে আগামী বৃহস্পতিবার প্রতি উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মানবন্ধনের কারণে জেলার তিন শতাধিক কওমি মাদরাসা বন্ধ রাখা হয়।

সংগীত মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য !বিশ্বসেরা আলেমদের মতে ইসলামে সংগীত হারাম নয়

(বামে) এবং শেখ জাদ আল হক (ডানে)। শীর্ষ এ দুই আলেমের মতে, সংগীত হারাম নয়।

জবাবটা সিম্পল। ইমামরাই দাবি করেন, “মোহাম্মদী ইসলাম একটি ফিৎরাতি (অর্থাৎ প্রাকৃতিক) ধর্ম”। সংগীত মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য। সেজন্যই প্রতিটি দেশ জাতি সভ্যতার ব্যতিক্রমহীন অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সংগীত। যখন মানুষের ভাষা ছিল না, কাপড় ছিল না, তখনও মানুষ বিভিন্ন উচ্চারণে গান গেয়েছে, অতীত সভ্যতার গুহার দেয়ালে সেসব চিত্র আজও উৎকীর্ণ। এবং সেজন্যই সৌদি, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আমিরাত, জর্দান, সিরিয়া, মিসর, ইরাক, প্যালেস্টাইন, ইয়েমেনসহ প্রতিটি মুসলিম দেশ ও প্রতিটি দেশের জাতীয় সংগীত আছে।

অসুখ নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে মতভেদ হলে রোগীর যে করুণ দশা সংগীত নিয়ে আমাদেরও তাই। বিভিন্ন আলেম বিভিন্ন মতামত দিচ্ছেন, জনগণের কে কার মতামত মানবেন সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমরা মানছি ‘দুনিয়ার সর্বোচ্চ প্রভাবশালী ইসলামী বিশেষজ্ঞ’দের মতামত, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাণ্ড মুফতি (১৯৮২ – ১৯৯৬) শেখ জাদ আল হক এবং ডক্টর ইউসুফ কারযাভীর মত।

ইউসুফ কারযাভী তার প্রজ্ঞার জন্য সুপ্রসিদ্ধ। তার পরিচয় দেখুন-

১. বিশ্বের সর্ববৃহৎ অন লাইন ফতোয়া-সংগঠন “ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফতোয়া অ্যান্ড রিসার্চ”-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট,

২. আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড-এর উপদেষ্টা ছিলেন,

৩. আন্তর্জাতিক আলেম-সংগঠন “ইন্টারন্যাশন্যাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স”-এর চেয়ারম্যান ছিলেন,

৪. বিশ্বময় “ইসলামী ব্যাঙ্কিং” এর প্রভাবশালী আলেম,

৫. কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান,

৬. “মুসলিম-বিশ্বের নোবেল” নামে বিখ্যাত “বাদশাহ ফয়সাল পুরস্কার” পদক পান,

৭. “ব্যাংক ফয়সল” পুরস্কার লাভ করেন।

৮. ব্রুনাই সরকার তাকে “হাসান বাকলি” পুরস্কার প্রদান করে।

মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রয়াত) গ্র্যান্ড মুফতি (১৯৮২ – ১৯৯৬) শেখ জাদ আল হক (বিস্তারিতের জন্য সার্চ করুন “Al Azhar university – music in Islam, দি ইসলামিক টেক্সট ইনস্টিটিউট) এর মতে- “অনৈতিক ও গুনাহ-এর কর্মকাণ্ডের সহিত যুক্ত না হইলে, কিংবা সেই বাহানায় মানুষকে হারামের দিকে না টানিলে, কিংবা মানুষকে ফরজ ইবাদত (আল ওয়াজিবাত) হইতে সরাইয়া (বা ভুলাইয়া) না দিলে সংগীত শোনা, সংগীত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা, এবং বাদ্যযন্ত্র বৈধ”।

ডক্টর কারযাভীও একই কথা বলেছেন- “কাজী আবুবকর ইবনুল আরাবী বলিয়াছেন ‘গান হারাম হওয়া পর্যায়ে একটি হাদিসও সহীহ নহে’। ইবনে হাজম বলিয়াছেন – ‘এ পর্যায়ের সকল বর্ণনাই বাতিল ও মনগড়া রচিত’… এ পর্যায়ে বর্ণিত নিষেধমূলক হাদিসগুলি সমালোচনার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত ….বহুসংখ্যক সাহাবী ও তাবেয়ীন গান শুনিয়াছেন,… যে গানের সাথে মদ্যপান, ফষ্টিনষ্টি ও চরিত্রহীনতার মতো কোনো হারাম জিনিসের সংমিশ্রণ হয় সেই গান হারাম… রাসূলে করীম (স) বলিয়াছেন- ‘কার্যাবলীর ভালোমন্দ নির্ভর করে তাহার নিয়তের ওপর।’ কাজেই যেই লোক এই নিয়তে গান শুনিল যে তাহার দ্বারা গুনাহের কাজে উৎসাহ পাওয়া যাইবে তাহা হইলে সে ফাসিক। পক্ষান্তরে যেই লোক স্বভাব মেজাজের সুস্থতা লাভের উদ্দেশ্যে শুনিল, আল্লাহর আনুগত্য কাজে শক্তি সাহস পাওয়ার এবং ভালো ও সৎকাজে আগ্রহ ও উৎসাহ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে শুনিল, তাহার এই কাজ নিশ্চয়ই অন্যায় বা বাতিল নহে। আর যেই ব্যক্তি না আল্লাহনুগত্যের নিয়তে শুনিল না নাফরমানি নিয়তে, তার এই কাজ নিষ্ফল কাজের পর্যায়ে গণ্য।” (ইসলামে হালাল হারামের বিধান- পৃষ্ঠা ৪০৬ – ৪১১)

এবারে কোরান।

সংগীতের আরবী হচ্ছে “মুসিকি”, সারা কোরানে ওই “মুসিকি” শব্দটাই নেই। কোরান কোথাও সংগীতকে নিষিদ্ধ করেনি অথচ “সঙ্গীত হারাম” দাবি করা হয় কোরানের দুটো আয়াত দিয়ে-

(১) সুরা লোকমান ৬ নম্বর আয়াত− “একশ্রেণির লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ হইতে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে,

এবং

(২) বনি ইসরাইল ৬৪ নম্বর আয়াত (আল্লাহ শয়তানকে বলছেন) −“তুই তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়াজ দ্বারা, অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে সত্যচ্যুত করে তাদেরকে আক্রমণ কর।”

সঙ্গীত-বিরোধীরা বলেন সুরা লোকমান ৬-এর অবান্তর কথাবার্তা-ই নাকি সঙ্গীত (মওলানা মুহিউদ্দিনের কোরানের অনুবাদ, পৃঃ ৭৮৩ ও ১০৫৩-৫৪)। কি হাস্যকর! আম জিনিসটা আম-ই। জামও নয়, কাঁঠালও নয়। অবান্তর কথাবার্তা অবান্তর কথাবার্তাই, অন্যকিছু নয়। একই খেলা করা হয়েছে বনি ইসরাইলের ৬৪ নম্বর আয়াত নিয়েও। আয়াতটা হলো, মানুষকে পথভ্রষ্ট করার ব্যাপারে আল্লাহ শয়তানকে অনুমতি দিচ্ছেন: “তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়াজ দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর”। অথচ এর অনুবাদ করা হয়েছে: “তুই তোর…রাগ-রাগিনী গান-বাজনা ও বাদ্যবাজনা দ্বারা …।”

সংগীত-বিরোধী হাদিসগুলো ভিত্তিহীন তা আমরা বিশ্ববরেণ্য ইসলামী স্কলারদের কাছ থেকে শুনলাম। সংগীতের পক্ষে অজস্র হাদিস আছে, লম্বা হয়ে যাবে বলে উদ্ধৃতি দিচ্ছিনা। এবারে চলুন আরো কিছু দলিল দেখা যাক।

১. অখণ্ড ভারতের সর্বোচ্চ ইসলামি নেতাদের অন্যতম, ভারতীয় কংগ্রেসের দুইবারের সভাপতি, কলকাতার ঈদের নামাজ পড়ানোর পেশ ইমাম মওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন: “পয়গম্বর দাউদ (আঃ)-এর কণ্ঠস্বর অত্যন্ত মিষ্টি ছিল। তিনি সর্বপ্রথম হিব্রু সংগীতের সংকলন করেন ও মিশরের ও ব্যাবিলনের গাছ হইতে উচ্চমানের বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবনা করেন”। (তর্জুমান আল্ কুরান, ২য় খণ্ড পৃঃ ৪৮০।)

২. “হজরত ওমর(রঃ)-এর আবাদকৃত শহরের মধ্যে দ্বিতীয় হইল বসরা। আরবি ব্যাকরণ, আরূয শাস্ত্র এবং সংগীতশাস্ত্র এই শহরেরই অবদান” (বিখ্যাত কেতাব ‘আশারা মোবাশশারা’, মওলানা গরীবুল্লাহ ইসলামাবাদী,  ফাজেল-এ দেওবন্দ, পৃষ্ঠা ১০৬।)

৩. ইমাম গাজ্জালী: “নবী করিম (সাঃ) হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) সম্পর্কে বলিয়াছেন − তাঁহাকে হযরত দাউদ (আঃ) এর সংগীতের অংশ প্রদান করা হইয়াছে।” (মুরশিদে আমিন, পৃষ্ঠা ১৭০ − এমদাদিয়া লাইব্রেরি)

এরকম অজস্র দলিল আছে। ‘অশ্লীল আদেশ শয়তান দেয়’ (সুরা নূর ২১)। কাজেই সংগীতসহ শ্লীল কোনোকিছু হারাম হবার প্রশ্নই ওঠেনা। গানের কুৎসিৎ কথা, কুৎসিৎ অঙ্গভঙ্গি বা গানের অতিরিক্ত নেশায় জীবনের ক্ষতি ইত্যাদির সীমা টানেননি ধর্মান্ধরা, পুরো সংগীতকেই ঢালাওভাবে বাতিল করেছেন। করে লাভ কিছুই হয়নি বরং সংগীত আজ সুবিশাল বিশ্ব-ইন্ডাস্ট্রি। দুনিয়ায় কোটি কোটি সংগীতপ্রেমী পরিবার পালছেন, বাচ্চাদের বড় করছেন, প্রতিভার বিকাশ ঘটাচ্ছেন। সংগীত হলো আমাদের সসীম জীবনে এক টুকরো অসীমের ছোঁয়া। চারদিকের আকাশবাতাস সাগর-পর্বত গ্রহ-নক্ষত্র, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এক বিপুল সুরস্রষ্টার মহাসংগীত। তাই, গান শুনুন এবং বাচ্চাদের গান শোনান। গান করুন এবং বাচ্চাদের গান শেখান। গান যে ভালবাসে না, সে মানুষ খুন করতে পারে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ হারাম নয়। ‘আমি বাংলার গান গাই’, ‘বাড়ির পাশে আরশিনগর’, ‘কান্দে হাছন রাজার মন ময়না’, মায়েদের মধুকণ্ঠে ‘আয় আয় চাঁদমামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’ হারাম হবার প্রশ্নই ওঠেনা। শ্লীল সংগীত ইসলামে হারাম নয়।

‘কোনো কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ইসলামে নিষিদ্ধ’ (মায়েদা ৭৭, নিসা ১৭১ ও বিদায় হজ্বের ভাষণ)। সঙ্গীত হারাম মনে করলে শুনবেন না, অসুবিধে কী। কিন্তু যারা সংগীত ভালোবাসেন, সংগীতের পক্ষের বিশ্ববরেণ্য ইসলামী স্কলারদের কথা বিশ্বাস করেন, তাদেরকে আঘাত করাই সেই ইসলাম-বিরোধী বাড়াবাড়ি।

নিউজ সুত্র

Author
হাসান মাহমুদ
bdnews24

সত্যিই, আমাদের সৃষ্টি বিচিত্র।

Image result for image

পুরুষের মগজ (চিন্তা-ধারা) এবং নারীর মগজ (চিন্তা-ধারা) নিয়ে অনেক হাসি ঠাট্টা করা হয়। এই তো, সেই দিনও একটা বুড়োবুড়ি দাম্পত্যের কথা নিয়ে অনেকক্ষণ হাসলাম। সত্যিই, আমাদের সৃষ্টি বিচিত্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ আমরা অনেকেই একে অপরকে বুঝি না, কিংবা বুঝতে অনেক সময় নিয়ে ফেলি। আমি বলছি না যে আমি বুঝে ফেলছি বা কিছু; কখনও না। তবে নিজের সম্পর্কে কিছুটা বুঝতে পারছি যে কেন বা কিসে আমার মধ্যে এমন বাধা সৃষ্টি করে; তা হচ্ছে সহিষ্ণুতার অভাব, বিনয়িতার অভাব, মনোযোগ দিয়ে না শোনা, অন্যান্য দৃষ্টিকোণকে বিবেচনায় না নেওয়া, ইত্যাদি।নারীরা হচ্ছে মানসিক দিকে দিয়ে vulnerable (সহজে আঘাত বা আক্রমণ করা যায় এমন). এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই সম্ভবত নারীরা ‘মা’-এর ভূমিকা পেয়েছে। মানুষ ছোট থাকতে তাদের আদর যত্ন সোহাগের প্রচুর প্রয়োজন পড়ে যা কিনা কোনো ‘মা’ কিংবা কোনো অত্যন্ত যত্নশীল (নারী) অভিভাবক থেকে পাওয়া যেতে পারে। যেসব নারীকে ব্যতিক্রম দেখা যায়, তারা আসলে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের এই বিচার-ভাবনার বিকৃতি ঘটেছে অন্যদের প্রভাবে, বা নির্মম পরিস্থির শিকার হয়ে।দিন দিন লক্ষ্য করছি যে নারীরা খুব সহজেই সামনের ব্যক্তিকে মার্জনা করে দেয়। ছোটকালও দেখেছি নারীদের এই বিস্ময়কর গুণ। তখন ভাবতাম যে হয়ত স্বজনদের মধ্যে যে স্বজনপ্রীতি বলে কথা আছে তাই হয়ত কেউ বিরাট অপরাধ বা আপত্তিকর কাজ করলেও সে মাফ পায়। যেমনি বয়সে বুড়ো হচ্ছি, লক্ষ্য করছি যে নারীরা আপন কেউ হোক, বা পর … সব ক্ষেত্রে বড় উদার- অর্থাৎ লাপরোয়া করে না।স্বামী যেমনই হোক, তালাকের মনোভাব তাদের মনে অরিজিনালি উদয় হয় না। স্বামী যেমনই হোক, তাকে দেখলে স্ত্রীর চোখ শীতল হয়, যে কোনো মুহূর্তে সে তার হয়ে পুরো পৃথিবীর সাথে লড়াই করবে- এমনই হচ্ছে স্ত্রী। তার জন্য তার স্বামীই যথেষ্ট; অথচ অকৃতজ্ঞ ও অন্ধ পুরুষ অধিকাংশ সময়ই এটা লক্ষ্য করে না। আর বোকা নারী আকাশ-কুসুম কল্পনা করতে করতে করতে থাকে যে একদিন তার স্বামী বদলাবে। অনেক ক্ষেত্রে তা ঘটে অনেক দেরিতে, অনেক ক্ষেত্রে স্বামী গর্দভের গর্দভই থেকে যায়, যা হোক।হিন্দি ছায়াছবিতে বা খবরের কাগজে বা এখানে সেখানে যখনই কোনো ধর্ষণ বা ধর্ষকের কথা আসে, সবাই কেমন উত্তেজিত হয়ে যায়- মারো কাটো অবস্থা। কিন্তু বাস্তবে কোনো ধর্ষিতাও সেই ল্যাভেলের বিরূপ ভাবনা রাখে না যা বাকি সবাই ধর্ষকের প্রতি রাখে। এটা দেখে আমি তাজ্জব। ধর্ষিতাদের প্রতিক্রিয়া এবং কথাবার্তায় এমনও প্রকাশ পায় যেন উল্টো তারা ধর্ষকের প্রতি সহানুভূতি রাখে। তারা ঘটনার জন্য দুঃখিত বটে যে তা ঘটেছে, তবে ক্ষোভ কম, তাদের আফসোছ বেশী।………… আমি কেবল আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। পুরুষদের এমন থাকতেই পারে যাদেরকে নারীদের সাথে তুলনা করা যায়, তবে আমার জানা নাই। নারীদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা রইল। আল্লাহ্‌র কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এমন সৃষ্টির জন্য; আর আফসোছ সেসব সত্তার প্রতি যারা এদের মনকে দূষিত করে, বিকৃত করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে। ASHRAFUL AHAMED·SUNDAY, 1 DECEMBER 2019

‘পৃথিবীর যা কিছু মঙ্গলময়, যা কিছু মহৎ ও সুন্দর সবই নবী মুহাম্মদ। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।’

Related image

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে পৃথিবী এমন সভ্য, সুন্দর ছিল না। ছিল জাহিলিয়াতে ঢাকা। কারণ মানুষ তখন ভুলে গিয়েছিল নিজেদের পরিচয়।

ভুলে গিয়েছিল তারা মানুষ। ফলে পশুত্বের চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে উঠেছিল তাদের মন। তারা এতটাই অমানবিক ছিল, নিজের ঔরসজাত সন্তানকেও জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলত। হানাহানি, মারামারি, রক্তারক্তি, কাফেলা লুট, নারী নির্যাতনসহ এমন কোনো মন্দ কাজ নেই, যা তারা করত না।

এমনই এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে সমাজব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তনের জন্য সে ছিলেন এক মহামানব যাঁর নাম মুহাম্মদ (সা.)। তিনি এক আশ্চর্যময় পরিবর্তন আনেন সমাজে।

ঐশী আলোয় আলোকিত। নূরের চেরাগ জ্বলে। তিনি মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন আবদুল্লাহ। আর মাতা আমিনা। বাবা-মাহারা শিশু মুহাম্মদ বড় হতে থাকেন দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং চাচা আবু তালিবের আদরে। শৈশবেই তিনি সত্যবাদিতা আর সদাচরণে সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন।

আমানতদারির বিশ্বস্ততায় উপাধি পান ‘আল-আমিন’ তথা বিশ্বাসী। সেই যুগে মানুষ যখন কারণে অকারণে হত্যা, লুটতরাজ, মদ্যপান, জোয়া, নারী নির্যাতন হীন কর্মকাণ্ডে উন্মাদ হয়ে থাকত, তখন যুবক মুহাম্মদ (সা.) চিন্তামগ্ন থাকতেন মানবতার মুক্তির।

কীভাবে এ বর্বরোচিত সমাজের পরিবর্তন হবে, মানুষ সত্যিকারের মানুষে পরিণত হবে এ ধ্যানেই মগ্ন থাকতেন দিন-রাত। চল্লিশ বছর বয়সে হলেন নবী ও রাসূল। প্রভুর ঐশী বাণীকে মানুষের কাছে তুলে ধরলেন।

দয়ার সাগর নবীজি অবিশ্বাসীদের বিদ্রুপ, অমানুষিক নির্যাতনে ক্ষুব্ধ না হয়ে তাদের প্রতি দয়া দেখিয়ে করুণাময় রবের কাছে তাদেরই জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাদের ভালোবাসা দিয়ে সত্যের পথে ডেকেছেন। কারণ তিনি যে দয়ার নবী আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এসেছে তোমাদের মধ্যকার এমন একজন রাসূল, তোমাদের দুঃখ যার কাছে দুঃসহ। তিনি তোমাদের হিতাকাক্সক্ষী, বিশ্বাসীদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সূরা তাওবা : ১২৮)।

নবীজির এ দয়া নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সব মানুষের জন্যই সমানভাবে ছিল। হোক সে ভিন্ন মতের বা পথের। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশ দিয়ে একবার এক লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি তখন তা দেখে দাঁড়ালেন, উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন বললেন, এ তো ইহুদির লাশ। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করলেন, আলাইসাত নাফসা? অর্থাৎ সে কি মানুষ নয়? (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৩১২)।

নবীজির দয়ামায়া শুধু মানব জাতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাকহীন পশু-পাখির জন্যও ছিল তার দয়ামায়া। তাদের জন্যও নবীজির মমতা ছিল মানুষের মতোই। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা এক সফরে রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় একটু প্রয়োজনে দূরে গেলাম। দেখলাম একটি লাল পাখি, সঙ্গে দুটি বাচ্চা। আমরা বাচ্চা দুটি ধরে নিয়ে এলাম। কিন্তু মা-পাখিটিও চলে এলো। বাচ্চা দুটির কাছে আসার জন্য পাখিটি মাটির কাছে অবিরাম উড়ছিল। তখন রাসূল (সা.) এসে পড়লেন। তিনি এটি দেখে বললেন, কে এ বাচ্চা ধরে এনে এদের মাকে কষ্ট দিচ্ছে? যাও, বাচ্চা দুটি মায়ের কাছে রেখে এসো। (আবু দাউদ ১৪৬/২)।

এ জন্যই তো নবীজি লক্ষ কোটি হৃদয়ে সুবাসিত ফুল হয়ে আছেন। যা স্বীকার করেছেন মহাত্মা গান্ধীজিও। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সেরা একজনের জীবন সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলাম, যিনি আজ লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে অবিতর্কিতভাবে স্থান নিয়ে আছেন। যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি বেশি নিশ্চিত যে, ইসলাম তরবারির মাধ্যমে সেসব দিনগুলোতে মানুষের জীবন-ধারণ পদ্ধতিতে স্থান করে নেয়নি। ইসলামের প্রসারের কারণ হিসেবে কাজ করেছে নবীর দৃঢ় সরলতা, নিজেকে অন্যের জন্য প্রতিভাত করা, ভবিষ্যতের ব্যাপারে সতর্ক ভাবনা, বন্ধু ও অনুসারীদের জন্য নিজেকে চরমভাবে উৎসর্গ করা।

মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী সাহিত্যিক মাইকেল এইচ হার্ট তার ‘দি হানড্রেড’ গ্রন্থে বলেন, ‘মুহাম্মদকে আমি বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী মনীষীদের তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়েছি, এতে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু মানবজাতির ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি ধর্মীয় ও ধর্মবহির্ভূত ক্ষেত্রে একযোগে বিপুলভাবে ও সর্বাধিক সফলকাম হয়েছেন।’ ইংরেজ কবি জন কিটস বলেন, ‘পৃথিবীর যা কিছু মঙ্গলময়, যা কিছু মহৎ ও সুন্দর সবই নবী মুহাম্মদ। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।’

নবীজির মূল্যায়নে এ রকম উৎকৃষ্ট উক্তি অসংখ্য মনীষীগণই করে গেছেন। সেই দেড় হাজার বছর আগের বুহাইরা থেকে শুরু করে এখনকার মহাত্মা গান্ধী, সামনে আরও অসংখ্য মনীষীরাও নবীজির শানে এমন উক্তি-উপমা করে যাবেন। কারণ নবীজি এমনই এক ফুল, যে ফুল যুগ যুগ খশবু ছড়ায়।

এমনভাবেই নবীজি পৃথিবীর ইথারে ইথারে মহাসত্যের আলো ছড়িয়ে গেছেন। রোপণ করেছেন মানবতার বীজ। দিয়েছেন আল্লাহ প্রদত্ত সুন্দর একটি জীবন ব্যবস্থা। এরপর এগারো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে আল্লাহতায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে এই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়ে মদিনা মুনাওয়ারায় শায়িত হয়েছেন।

নবীজি ছিলেন হজরত ইউসুফ (আ.) চেয়েও বহুগুণ সুন্দর। পূর্ণিমার চাঁদের মতো গোলাকার ছিল নুরানি মুখমণ্ডল। প্রশস্ত কপাল, চিকন ও ঘন ভ্রু, দুই ভ্রুর মাঝখানে একটা উঁচু রগ ছিল। কবির ভাষায়, ‘যখন বুলাই তার মুখমণ্ডলে দু’চোখ/ সে যেনো বর্ষামুখী মেঘে বিদ্যুতের চমক।’ গোলাপের পাপড়ির মতো তাঁর ঠোঁটদ্বয়ে প্রায়শই লেগে থাকত ফুলের হাসি। গমের মতো লালচে সাদা ছিল আমার নবীর গায়ের রং।

সুত্র সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল

নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছেন না-তো?

মানুষ তার অন্তরে পরিকল্পনা করে, চিন্তা-ভাবনা করে, হওক সেটা ভালো বা মন্দ। মানুষ তার অন্তরে যাহা লালন করে তাহা সে প্রকাশ করতেও পারে আবার লুকাতেও পারে, এটাই মানুষের প্রকৃতি। যদি ধর্মের দৃষ্টিতে বলা হয় তাহলে সেই চিন্তা-ভাবনাসমূহ কেবল স্বয়ং ব্যক্তি নিজে এবং সেই ব্যক্তির স্রষ্টাই ভালো জানেন। কোরআন মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ। কোরআন অনুযয়ী সৃষ্টিকর্তা হলেন “আল্লাহ”। আপনি যদি নিজেকে মুসলমান দাবি করেন তাহলে আপনার অন্তরের খবর আপনি এবং আল্লাহ পূর্ণরূপে জানেন। কোরআন অনুযায়ী মুসলমানরা বিশ্বাস করেন যে মৃত্যুর পর তাদের কর্মের হিসাব দিবস (পরকাল) রয়েছে। সেখানে মুসলমানদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাদের দুনিয়াবি জীবন সম্পর্কে।

যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে আপনি মুসলমান এবং আপনার কর্মের হিসাব দিবস রয়েছে এবং আল্লাহ্ আপনার অন্তরের খবর সম্পর্কে পূর্ণ অবগত রয়েছেন, তাহলে অবশ্যই আপনার কি হিসাব করা উচিত নয় যে, আপনি যে সকল পরিকল্পনা করছেন তা কি কল্যাণকর নাকি কারো জন্য ক্ষতিকর? আপনিই যখন বিশ্বাস করছেন যে, কোরআন আল্লাহর বাণী এবং কোরআন বলছে আপনার অন্তরের খবর আল্লাহ রাখেন, তাহলে যখন মিথ্যা বলছেন, মানুষকে ঠাকাচ্ছেন, ধোঁকা দিচ্ছেন স্বার্থের লোভে, নিজের তুচ্ছ সম্মানটুকু বাচাতে কত রকম রূপ ধারণ করছেন, আপনি যার যোগ্য নন তা দখল করেছেন, অন্যের হক অধিকার নষ্ট করে ভোগ-বিলাসিতায় মেতেছেন, যতসব জটিলতা-কুটিলতায় আপনার অন্তর ভরে গেছে। এতকিছুর পরেও কী আপনি বিশ্বাস করেন যে, আপনি মুসলমান? কিভাবে নিজেকে এতবড়ো ধোঁকায় ফেলেছেন?

এটা তো স্পষ্টই যে আপনি বিশ্বাস করেন আল্লাহকে, তাইনা? আর এটাও বিশ্বাস করেন যে, তিনি আপনার অন্তরের খবর লিখে রাখছেন, তাইনা? তাহলে এখন প্রশ্নটাও আপনার এবং উত্তরটাও আপনাকেই খুঁজে বাহির করতে হবে যে, দুনিয়াতে আপনি নিজেই নিজেকে ধোঁকা দিচ্ছেন না-তো? যেটা কিনা আল্লাহ পছন্দ করেন না? কি অদ্ভুত ধর্ম কর্ম আর কি শোচনীয় আবস্থাতে রয়েছে আপনার অন্তর, সবার কাছ থেকে লুকাচ্ছেন কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে তো নয়? এবং এটাই তো আপনি বিশ্বাস করেন, তাইনা? সত্যই, এটা এক বিরাট বড় ধোঁকা নিজের প্রতি।

[4:108] They hide from the people, and do not care to hide from GOD, though He is with them as they harbor ideas He dislikes. GOD is fully aware of everything they do.

একেশ্বরবাদী

সৃষ্টির প্রথম থেকেই মানুষের ধর্ম এক, এবং সৃষ্টিকর্তা একজন। এর পক্ষে একটা সাধারণ যুক্তি হলো যে, “যদি সৃষ্টিকর্তা একাধিক হতেন তাহলে সৃষ্টির কোনো অস্তিত্ব থাকতো না। সুতরাং আমি নিজেকে যেই রূপেই পরিচয় দেই, সেটা হওক মুসলমান, দিন্দু, খৃস্টান, ইহুদি, বৌদ্ধ কিন্তু সৃষ্টি করেছেন , সেই একজনই। অতএব পৃথিবীতে ধর্মের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকলে সেটা “একেশ্বরবাদ” হওয়া উচিত।