Category: বাংলাদেশ

৬ মুসলিমের জীবন বাঁচিয়ে মৃত্যুমুখে প্রেমকান্ত

দিল্লির অধিবাসীরা গত কয়েক দশকের মধ্যে শহরটির সবথেকে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখলেন। দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৪ জন। আহত হয়েছেন আরো দুই শতাধিক। ফলে রাজধানীর একাংশে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে একে অপরের প্রতি বিরাজ করছে ঘোর অবিশ্বাস। একইসঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে এমন কিছু গল্পের যা প্রমাণ করে মানবতা এখনো টিকে আছে পৃথিবীতে। এমনই এক গল্পের স্রষ্টা প্রেমকান্ত বাঘেল।

ইন্ডিয়া টাইমসসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলিতে উঠে এসেছে, কীভাবে নিজের জীবন বাজি রেখে ৬জন মুসলিম প্রতিবেশির জীবন বাঁচিয়েছেন প্রেমকান্ত। ঘটনার দিন দাঙ্গা চলাকালীন প্রেমকান্তের বাড়ির পাশে থাকা মুসলিম বাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদীরা।প্রেমকান্ত যখন দেখলেন তার মুসলিম প্রতিবেশিদের বাড়িতে আগুন জ্বলছে তিনি এক মুহুর্ত দেরি না করে তাদেরকে সাহায্য করতে চলে যান। জীবন বাজি রেখে প্রতিবেশিদের উদ্ধার করতে থাকেন। আগুন জ্বলতে থাকা ঘরগুলো থেকে বের করে আনেন আটকে পড়া মানুষদের।

তবে মুসলিম বন্ধুর বয়স্ক মাকে উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন প্রেমকান্ত। দগ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচিয়েছেন অন্তত ৬ জন মুসলিমের। তবে দগ্ধ হওয়ার পরেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি কেউ। সারারাত একইস্থানে থাকার পর পরদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা গুরুতর। শরীরের ৭০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে গেছে। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। তবে তার অবস্থা এখনো সঙ্কটাপন্ন। প্রেমকান্ত সর্বশেষ জানিয়েছেন, তিনি তার বন্ধু ও তার প্রতিবেশিদের রক্ষা করতে পেরেছেন ভেবে তৃপ্তি অনুভব করছেন।

প্রেমকান্তের মত এমন অনেকেই এগিয়ে এসেছেন দিল্লির দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্থদের বাঁচাতে। মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছে দিল্লির শিখ সম্প্রদায়ও। হামলা থেকে নিরাপদ থাকতে যেসব মুসলিম ঘর ছেড়েছিলেন তাদের জন্য নিজেদের একটি প্রার্থনাস্থল গুরদোয়ারার দরজা খুলে দিয়েছেন দিল্লির শিখরা। মুসলিমদের পাশে দাড়িয়েছেন ভারতের রাজধানীর অশোকনগরের হিন্দুরাও। তারা ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মুসলিম পরিবারকে নিজেদের বাড়িতে সুরক্ষা দিয়ে রেখেছেন। দাঙ্গাকারীদের থামাতে নিজেরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। ভ্রাতৃত্বের নজির রেখেছেন মুসলিমরাও। বুধবার হিন্দুদের মন্দিরে হামলা হলে স্থানীয় অন্য মুসলিমরা হাতে হাত রেখে মানবশৃঙ্খল গড়ে তোলে। দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে চাঁদবাগের একটি মন্দিরকে।

উল্লেখ্য, গত রোববার থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দ্রুতই এটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পরিণত হয়। এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন দাঙ্গায়। এরমধ্যে শুধু বৃহস্পতিবার নিহত হয়েছেন ৭ জন।

মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে: ঢাকার মেয়রদের প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার দুই সিটির নব-নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মশা, বিশেষ করে এডিস মশার ব্যাপারে দৃষ্টি দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখানে ডেঙ্গু নিয়ে সমস্যা রয়েছে। আপনাদের এখন মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা নাহলে মশা আপনাদের ভোট খেয়ে ফেলবে। আপনারা অবশ্যই এটি দেখতে পাবেন। আপনাদের মনে রাখতে হবে যে, মশা ছোট (পোকামাকড়) হলেও খুব শক্তিশালী।’

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

এসময় ঢাকা মহানগরীতে চলমান মেগা প্রকল্প ও উন্নয়ন প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নে নব-নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। খবর ইউএনবির

সরকার ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি চান এসব উন্নয়নমূলক কাজে যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম না হয়। যদি এ জাতীয় ঘটনা ঘটে, তবে আমি কাউকেই ছাড়ব না, সে যেই হোক না কেন। কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শপথ নেন ঢাকা উত্তরের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। পরে দুই সিটি করপোরেশনের নব-নির্বাচিত কাউন্সিলররা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কাছে শপথ নেন।

তবে শপথ নিলেও এখনই দায়িত্ব বুঝে পাচ্ছেন না নবনির্বাচিত মেয়ররা। কারণ দুই সিটির মধ্যে বর্তমান মেয়রদের পাঁচ বছরের মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। ডিএনসিসি বর্তমান মেয়রের মেয়াদ শেষ হবে ১৩ মে এবং ডিএসসিসি মেয়রের মেয়াদ শেষ হবে ১৭ মে।

প্রসঙ্গত, গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জয়ী হন।

মেয়র পদ ছাড়াও ডিএসসিসি-তে ১০০টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৭৫টি ওয়ার্ড থেকে ৭৫ জন সাধারণ কাউন্সিল এবং ২৫ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর রয়েছেন। আবার ডিএনসিসির ৭২টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৫৪টি ওয়ার্ড থেকে ৫৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১৮ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর রয়েছেন।

উন্নত চিকিৎসার 'সম্মতি দেননি' খালেদা জিয়া

উন্নত চিকিৎসা (অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট) নিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্মতি দেননি বলে আদালতকে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।

বিএসএমএমইউর পাঠানো প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। পরে আদালত তা পড়ে শোনান।

আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চিকিৎসা নিতে সম্মত হননি। পরে আদালত আদেশের জন্য বেলা ২টায় সময় নির্ধারণ করেন ।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজী ব্যারিস্টার মওদুদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার জামিন আবেদনের ওপর আদেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সবার চোখ উচ্চ আদালতের দিকে। খালেদা জিয়া কি জামিন পাবেন? নাকি আবেদন খারিজ হয়ে যাবে? এ নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিও বাজাতে হবে: হাইকোর্ট

দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধের বিষয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণটিও দেশের সব স্থানে বাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ব্যাংক খালি হয়ে গেছে, হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে গেছে। এখন যদি বেসরকারি ব্যাংকের মতো সরকারি ব্যাংক থেকেও টাকা চলে যায়, তাহলে এ খাতে ধস নামবে।

বুধবার ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা নিয়ে করা রিটের শুনানিতে এ মন্তব্য করেন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণের অংশ বিশেষ আদালতে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ইনশাল্লাহ সোনার বাংলা আবার জাগবে। যদি শোষণহীন সমাজ গড়তে পারি, তবে আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনাদের কাছে আমার আরেকটা অনুরোধ হলো, দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করতে রাজি আছেন কিনা? দুর্নীতি আর ঘুষ, রাজি আছেন? হ্যাঁ, খোদা হাফেজ-জয় বাংলা।’

এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ এখন বেশি করে জনগণকে জানানো দরকার। সেজন্য ভাষণটি সব স্থানে বেশি বেশি বাজানো দরকার। আদালত বলেন, আমানত সুরক্ষা আইন করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী ১০ কোটি টাকা রাখলে পাবেন মাত্র এক লাখ টাকা। এটা কি দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করতে করা হয়েছে? আদালত বলেন, ২০-২২ জন ব্যক্তি, যাদের কাছে সম্পদ রয়েছে, তারা যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে আর্থিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এরপর শুনানি মুলতবির আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আজ খালেদা জিয়া জামিন পাবেন !

বহুল আলোচিত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি-না তা জানা যাবে দুপুরে।

বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা নেওয়ার পর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদেশের সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজী ব্যারিস্টার মওদুদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন আবেদনের ওপর আদেশকে কেন্দ্র করে সবার চোখ আজ উচ্চ আদালতের দিকে। খালেদা জিয়া কি জামিন পাবেন? নাকি আবেদন খারিজ হয়ে যাবে? এ নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।

বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায়বিচার পেলে খালেদা জিয়া জামিন পাবেন বলে আশাবাদী। তবে দুদকের আইনজীবী বলছেন, তার জামিন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের কেউ কেউ বলছেন, ‘রাজনৈতিক সমঝোতা’ হলেই কেবল খালেদা জিয়া জামিন পেতে পারেন। কেউ-বা বলছেন, স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে আদালতের আদেশ। এর মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে টেলিফোন করায় সমঝোতার বিষয়কেও গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে।

ব্যাংক বন্ধ হলেও সব টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহকরা

কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বা অবসায়িত হলে সবার আগে টাকা ফেরত পাবেন ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট সম্পদ হতে সকল আমানতকারীর পাওনা পরিশো’ধ করা হবে। এরপর ফেরত দেয়া হবে বন্ড ইস্যুকারী বন্ডহোল্ডার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের টাকা। এরপরও যদি টাকা থাকে তবে সেখান থেকে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার টাকা ফেরত পাবেন। এছাড়া বীমা তহবিল থেকে ৬ মাসের মধ্যে ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন সকল আমানতকারী।

এমন বিধান রেখে ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ এর প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ আইনের ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীগণ সুরক্ষিত হবেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

জানা যায়, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৭৪ ধারায় বলা আছে, আদালত কোন ব্যাংকের অবসায়নের আদেশ দিলে ৩ মাসের মধ্যে সরকারী অবসায়ক আমানতকারী ও আমানতের তালিকা বীমা ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে দাখিল করবে। সে মোতাবেক সবার আগে টাকা ফেরত পাবেন ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবশিষ্ট সম্পদ হতে সকল আমানতকারীর পাওনা পরিশো’ধ করা হবে। এরপর ফেরত দেয়া হবে বন্ড ইস্যুকারী বন্ডহোল্ডার ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের টাকা। এরপরও যদি টাকা থাকে তবে সেখান থেকে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার টাকা ফেরত পাবেন।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, যখন কোন ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়, তখন লিক্যুইডেটর নিয়োগ দিতে হয়। তার কাজ ব্যাংকের সম্পদ কেমন আছে তার খোঁজ নিয়ে আমানতকারীদের পাওনার একটি তালিকা করা। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রথমে ছোট আমানতকারী ও পরে বড় আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়া হয়। কে কোন মাসে কী পরিমাণ আমানত পাবেন সেটাও নির্ধারণ করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বা অবসায়িত হলে সবার আগে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীদের টাকা পরিশো’ধ করা হবে। তারপর ফেরত দেয়া হবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের টাকা।

অন্যদিকে ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ অনুযায়ী, বীমা তহবিল থেকে ৬ মাসের মধ্যে ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন সকল আমানতকারী। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। যা বিভ্রা’ন্তি সৃষ্টি করছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আইন অনুযায়ী আমানতকারীরা সবার আগে টাকা ফেরত পাবেন। এদের মধ্যে প্রথমে ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারী, তারপর বন্ড ইস্যু হয়ে থাকলে বন্ডহোল্ডাররা, এরপর পাবেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তারপর কিছু থাকলে পাবেন উদ্যোক্তা পরিচালক ও কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা। কারণ শেয়ারহোল্ডাররা মালিক, সবাইকে দিয়ে কিছু থাকলে তারা পাবেন।

তিনি বলেন, আমানতকারীদের পাওনা টাকার চেয়ে যদি আমানতের পরিমাণ কম থাকে ওই কম টাকাই ভাগ করে দেয়া হবে। কারণ কোম্পানিটি লিমিটেড লায়াবিলিটি, ফলে শেয়ারহোল্ডাদের দায় শেয়ারহোল্ডিং পর্যন্ত। শেয়ারহোল্ডাররা প্রয়োজনে কোন অর্থ পাবেন না, কিন্তু নেগেটিভ দায় নিতে হবে না। অর্থাৎ আমানতকারীর পাওনা অনুযায়ী পরিশো’ধ করার মতো অর্থ না থাকলেও উদ্যোক্তাদের বাড়তি কোন অর্থ পরিশো’ধ করতে হবে না। তবে কোম্পানি থেকে কেউ ঋ’ণ নিয়ে থাকলে তা উদ্ধার করে আমানতকারীদের ফেরত দিতে হবে।

আবু আহমেদ বলেন, সরকার চাইলে আমানতকারীদের ভর্তুকি দিয়ে পুরো টাকা পরিশো’ধ করতে পারে।

জানা গেছে, ব্যাংকের আমানতের সুরক্ষা দিতে ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশকে ২০০০ সালে ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০-এ পরিণত করা হয়। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত এ আইনের বাইরে ছিল। ২০১৭ সালে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ আইনের খসড়া করা হয়েছে। এবার ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২০’ খসড়ায় আমানতকারীদের ক্ষ’তিপূরণের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, কোন ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারীরা ক্ষ’তিপূরণ বাবদ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পাবে। এই অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা ক্ষ’তিপূরণ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। আমানত সুরক্ষা আইন-২০২০’র খসড়া নিয়ে সমালোচনার মুখেই এমন চিন্তা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সংশোধিত খসড়া আইন অনুযায়ী, ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানতকারী সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে ২ লাখ টাকা পাবেন। তিনি ২ লাখেরও বেশি টাকা ব্যাংকে জমা রাখলেও ২ লাখ টাকাই পাবেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং কোম্পানি আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, বীমা করা অর্থের বাইরে যে আমানত রয়েছে, তা বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাংকের সম্পদ বিক্রি করে পরিশো’ধ করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দু-একদিনের মধ্যে খসড়া আইনের সংশোধিত কপি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

জানতে চাইলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, আইন অনুসারে আমাদের চলতে হবে। তবে আমানতকারীদের যত বেশি অর্থ সুরক্ষিত হবে, আমানতকারীরা তত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। তাই বীমা আওতায় আনার পরিমাণটা বাড়ানো যুক্তিযুক্ত হবে।

জানা যায়, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণের ওপর ০.০৮ থেকে ০.১০ শতাংশ হারে বীমার প্রিমিয়াম দিতে হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্ট ফান্ডে (ডিআইটিএফ) টাকার পরিমাণ ৭ হাজার ৪৩০ কোটিতে পৌঁছেছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় ১৬.০৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১০ কোটি ২৮ লাখ এ্যাকাউন্টে আমানতের পরিমাণ ১১ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জমা রাখা আমানতকারীদের এ্যাকাউন্টের মধ্যে ৯০ শতাংশই আমানত সুরক্ষা বীমার অধীনে আছেন। কিন্তু সরকার যদি ১ লাখ টাকার বদলে ২ লাখ টাকা পরিশো’ধের নিয়ম করে, তাহলে বীমা করা এ্যাকাউন্টের পরিমাণ ৯০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ শতাংশে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এ ধরনের বিধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আগেই ছিল। কোন ব্যাংক অবসায়ন হলে ওই ব্যাংকের গ্রাহকদের ক্ষ’তিপূরণ ১ লাখ টাকা দেয়ার বিধান ছিল। এ আইনটি মূলত ছোট আমানতকারীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য। সুরক্ষা আইনে গ্রাহকের লাভক্ষ’তির বিষয়ে প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, বড় গ্রাহকরা তার টাকার সুরক্ষার জন্য নিজেরা কিছু করছেন না। এটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বীমা করে করা হচ্ছে। যে কারণে বড়দের নিয়ে ব্যাংকগুলো সেভাবে ভাবছেও না।

আমানত সুরক্ষা আইনের খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, এর অধীনে কোন কার্যক্রমের ব্যত্যয় ঘটলে দায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরু’দ্ধে মামলা বা ফৌজদারি আইনে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। আর কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরপর দু’বার বীমার প্রিমিয়ামের অর্থ পরিশো’ধে ব্যর্থ হলে গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে না। টানা দুইয়ের অধিক প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করা হবে। গ্রাহকদের ক্ষ’তিপূরণ দিতে, তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য আমানত সুরক্ষা আইনের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকে ট্রাস্ট তহবিল নামে একটি তহবিল গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালকরা এ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড হবেন। এ তহবিলে বীমাকৃত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা জমা রাখা হবে।

এছাড়া কোন ক্ষেত্রে এ তহবিলের টাকা বিনিয়োগ করলে সেখান থেকে যে আয় আসবে, সেটিও তহবিলে জমা রাখা হবে। খসড়া আইনের বিধানে বলা হয়, কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের পর তার আমানতকারীদের যে অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ট্রাস্ট তহবিল পরিশো’ধ করবে, সেটি সংশ্লিষ্ট দেউলিয়া হওয়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদের বিপরীতে যে তারল্য থাকবে তা সমন্বয় করা হবে।

এখানে অবসায়ন বলতে কোন কোম্পানি কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলা, বন্ধ করা এবং দায়দেনা নি’ষ্পত্তি করাকে বোঝায়। আইনটি প্রবর্তনের পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠিত তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ট্রাস্ট তহবিলের সঙ্গে বীমাকৃত হবে। এছাড়া প্রত্যেক বীমাকৃত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের আমানতের অংশের ওপর প্রতি বছর এ তহবিলে প্রিমিয়াম প্রদান করবে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময় নির্ধারণ করে দেবে।

তবে এক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নিয়ে প্রিমিয়ামের হার কম-বেশি করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যয় খাত থেকে প্রিমিয়ামের অর্থ পরিশো’ধ করবে।

শুরু থেকেই বলে আসছি সালমান আত্মহত্যা করেছে: সামিরা

শাবনূর আমাদের বাসায় প্রায়ই আসত। আমি তা পছন্দ করতাম না। ইমন (সালমান শাহ) একবার শাবনূরকে নিয়ে কক্সবাজারে শুটিংয়ে যায়। সেখানে হোটেল উপলের একটি রুমে ইমনকে আটকে রেখেছিল শাবনূর। কৌশলে বেরিয়ে এসে ইমন আমাকে বিষয়টি জানায়।… শাবনূরের মা ও আমার শাশুড়ি ইমনের সঙ্গে শাবনূরের বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিল।’ জবানবন্দিতে এমনটাই দাবি করেছেন নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক। তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে ১৬১ ধারা ও আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব কথা বলেন। সালমানের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্নিষ্ট অন্যদের দেওয়া সাক্ষ্যে সামিরার দেওয়া তথ্যের বেশিরভাগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে জানান তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা। অবশ্য সে সময়ের হার্টথ্রব নায়িকা শাবনূর জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘সালমানের বাসায় আমি মাঝেমধ্যে যেতাম। তার স্ত্রী সামিরা আমার ভালো বন্ধু ছিল। তারাও আমার বাসায় আসা-যাওয়া করত।’ তবে পিবিআই সালমানের আত্মহত্যার কারণ হিসেবে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গতার বিষয়টি তুলে ধরায় এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন তিনি।
সহশিল্পী শাবনূরের সঙ্গে ‘অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা’ নিয়ে জটিলতাসহ পাঁচ কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেন বলে পিবিআইর তদন্তে উঠে এসেছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান সংস্থাটির প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি জানান, সামিরা হক ও শাবনূরসহ ঘটনাসংশ্নিষ্ট ৪৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের ১০ জন পরে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
সামিরা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ জুলাই সালমান ভারতে যান।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে জানতে পারেন, শাবনূরকে সঙ্গে নিয়ে গেছেন সালমান। ভারত থেকে দেশে ফিরে ওই বছরের ১ আগস্ট তারা সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে শাবনূর বিয়ের জন্য সালমানকে চাপ দেন এবং জানান যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। দেশে ফিরে সালমান বিষয়টি তার স্ত্রীকে বলেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা সামিরার কাছে হাস্যকর মনে হয়। কারণ চার বছরের সংসার-জীবনে তাদের কোনো সন্তান হয়নি। সালমানের মৃত্যুর পর ১৯৯৯ সালে মুশতাক ওয়াইজের সঙ্গে বিয়ে হয় সামিরার। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
সামিরা জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘শাবনূর প্রায়ই ফোন করত ও বাসায় আসত। আমার ও ইমনের সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের (সালমান-শাবনূর) মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আমি শ্বশুরকে নিয়ে এফডিসিতে যাই। সেখানে একটি রুমে ছবির ডাবিং চলছিল। ডাবিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে শাবনূর বারবার ইমনকে জড়িয়ে ধরছিল এবং বিভিন্ন অশালীন আচরণ করছিল।… ঘটনার আগের রাতে শাবনূরের সঙ্গে নতুন কোনো ছবি করবে না বলে ইমন চিত্রপরিচালক বাদল খন্দকারের সামনে একটি চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাবনূর পরপর দু’বার ইমনের সিটিসেল মোবাইল ফোনে কল করে। ইমন ফোন নিয়ে বাথরুমে গিয়ে চিৎকার করে কথা বলছিল। তাকে যেন আর ফোন না দেওয়া হয় বলে কথা শেষ করেছিল। সিটিসেলের ওই ফোনটি শাবনূরই ইমনকে উপহার দিয়েছিল। রাত ১২টার দিকে শাবনূর আবারও কল করে। ইমন আবারও বাথরুমে গিয়ে কথা বলে। আমি রাগ করে নিচে চলে গিয়েছিলাম। নিচে দায়িত্বরত দারোয়ান ও খালেককে ইমন বলে দেয়, আমি যেন বাইরে যেতে না পারি। পরে আমি বাসায় চলে আসি ও কান্নাকাটি করি। তখন ইমন শাবনূরের উপহার দেওয়া একটি টেবিলফ্যান, মোবাইল ফোন ও চেয়ার রাগ করে ভেঙে ফেলে।’
ঘটনার দিনের বর্ণনায় সামিরা বলেন, ‘ইমন ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। এরপর সে বাথরুমে যায়। বাথরুম থেকে বেরিয়ে ড্রেসিংরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।… ডলির ডাকাডাকিতে আমি ঘুম থেকে উঠে আসি এবং দরজা খোলার জন্য নক করি। চাবি আনিয়ে দরজা খুলে দেখতে পাই, ইমন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। আমি ও মনোয়ারা ইমনকে পায়ের দিক থেকে তুলে ধরি। আবুল ড্রেসিংরুমে থাকা মই ধরে এবং ডলি মই বেয়ে উপরে উঠে বঁটি দিয়ে ইমনের গলার রশি কেটে দেয়। আমরা ইমনকে মেঝেতে নামিয়ে রাখি। আবুল ইমনের প্যান্টের পকেটে একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) পায়। এর মধ্যে রমনা থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা বাসায় আসে। চিরকুটটি আবুল আমার হাতে দেয়। কিছুক্ষণ পর পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমি চিরকুটটি তাদের দিয়ে দেই। পাশের ক্লিনিক থেকে ডাক্তারকে ডেকে আনা হয়। ডাক্তার ইমনকে দেখে বলেছিলেন সে আর বেঁচে নেই।… ইমনকে সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার শরিফ কবরস্থানে দাফন করা হয়।’
সালমানের সঙ্গে পরিচয়পর্বের বর্ণনায় সামিরা জানান, ১৯৯০ সালে চট্টগ্রামের একটি ফ্যাশন শো-তে সালমানের খালার মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। এরপর সাত দিন সেখানেই থাকেন সালমান। তিনি প্রায়ই সামিরার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ল্যান্ডফোনে কল দিতেন। সামিরার ভাষ্যে বিষয়টি এমন- ‘সে আমাকে বিয়ে করতে চায়। আমাকে ছাড়া বাঁচবে না। আমাকে না পেলে আত্মহত্যা করবে ইত্যাদি বলে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখত। ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার সঙ্গে কথা বলা নিয়ে ইমনের মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর সে তার বাসায় ৯০টি ইনোকটিন ট্যাবলেট খেয়ে মরতে চেয়েছিল।… ১৯৯২ সালের নভেম্বর মাসে কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির শুটিংয়ের সময় মায়ের সঙ্গে ইমনের কথা কাটাকাটি হয়। ওই সময় সে স্যাভলন খেলে তাকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করানো হয়েছিল। ১৯৯২ সালের ২০ ডিসেম্বর ইমনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়।’
এদিকে বাসার নিরাপত্তাকর্মী আবদুল খালেকের সঙ্গে সামিরার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলেও একবার সন্দেহ করেন সালমান। তার বাবা এই সন্দেহের কথা ছেলেকে বললে দু’জনের মধ্যে ঝগড়াও হয়। সামিরা ও গৃহকর্মী জরিনা বেগম পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে এ বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। জরিনা বলেছেন, ‘খালেকের সঙ্গে সামিরা আপার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তাও জিজ্ঞাসা করে (সালমান শাহ)। আমি বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করি। কিন্তু তারা আমাকে মারপিট করার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন কথা স্বীকার করায়, যা প্রকৃতপক্ষে সত্য নয়। সামিরা আপা চট্টগ্রাম গেলে নায়িকা শাবনূর দুই দিন সালমান শাহর বাসায় আসে। এর মধ্যে এক দিন সারারাত ছিল। অন্য দিন ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত।’
অবশ্য যে শাবনূরকে ঘিরে এত কথা, তিনি কিন্তু তার জবানবন্দিতে এসবের কোনো উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, ‘অভিনয় করার সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তার সঙ্গে জুটি হিসেবে ১৪টি ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছি। অভিনয়ের সূত্রে তার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করতে গিয়েছি। সহশিল্পী হিসেবে তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। আমাকে আদর করে পিচ্চি বলে ডাকত। সালমান শাহ বেঁচে থাকলে আমাদের জুটি উত্তম-সুচিত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারত। তার সঙ্গে আমার ফোনেও কথা হতো।’ এর বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে জানান তিনি।

পরিচয় মিলল বনানীতে দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারীর

 

পরিচয় মিলল বনানীতে দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারীর

রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী এলাকায় সেতু ভবনের সামনে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতরা দুজনই একটি স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন। ওই স্কুটিতে প্রেস লেখা ছিল।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- দুলদানা আক্তার কচি ও সোনিয়া। এদের মধ্যে দুলদানা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর এলাকার মৃত সৈয়দ ফজলুল হকের মেয়ে ও পার্ল ইন্টারন্যাশনালের টেরিটরি অফিসার এবং অপরজন সোনিয়া ভোলার মাছদেলছড়িয়ার রুহুল আমিনের মেয়ে বলে জানা গেছে। সোনিয়া তার ভাই রুবেলের সঙ্গে মিরপুরের শাহআলীতে থাকতেন বলেও জানা গেছে।

বনানী থানার উপপরিদর্শক আফজাল হোসেন বলেন, সেতু ভবনের সামনে বাস বা ট্রাক স্কুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই দুজন নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। তাদের মাথায় হ্যালমেট থাকলেও তা খুলে পড়েছে এবং ভেঙে গেছে। তাদের স্কুটিতে প্রেস লেখা ছিল।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে দুই নারীকে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাদের পড়নে জিন্স ও কুর্দির মতো সালোয়ার ছিল।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

দুই আ’লীগ নেতার বাড়ীতে অভিযান, সিন্দুকভর্তি টাকা উদ্ধার

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার বাড়ীতে অফিযান চালায় র‌্যাব। সুত্রাপুর মুরগীটোলা মোড়ের বাসা থেকে নগদ ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ও ৭৩০ ভরি সোনা জব্দ করেছে র‌্যাব। সোমবার দিবাগত রাতে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব সামগ্রী জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কেএম শফিউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি রাজধানীর ইংলিশ রোড থেকে ৫ টি ভল্ট ভাড়া নেয় কে বা কারা। পরে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারি, ভল্টগুলো রুপন ও এনামুল -এই দুই ভাই ভাড়া নিয়েছে। ক্যাসিনোর লাভের টাকা এসব ভল্টে রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জুয়ার টাকা দিয়ে এরা অনেকগুলো বাড়ি কিনেছে। এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ টি বাড়ির সন্ধান পেয়েছি। এই ভবনের (৩১, বানিয়ানগর) দ্বিতীয় ও পঞ্চম তলায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ভল্ট উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকেও টাকা ও স্বর্ণ পাওয়া যায়। একই সময় অভিযান থেকে ৫ টি অস্ত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা র্যাবকে জানিয়েছে, এসব অস্ত্র দিয়ে স্থানীয় লোকদের ভয় দেখাত।

সূত্র জানায়, এনামুল ও রুপনা ৬ ভাই। ১৯৮৫ সাল থেকেই এনামুল ওয়ান্ডার্স ক্লাব ও রুপন আরামবাগ ক্লাবে জুয়া খেলত। কিন্তু গত তিন-চার বছর আগে তারা হঠাৎ করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি কেনা শুরু করে। যে বাড়িটি র‌্যাব ঘিরে রেখে অভিযান চালাচ্ছে সে বাড়িটি গত দেড় বছর আগে হারুনুর রশীদ নামে একজনের কাছ থেকে তারা কিনেছেন। ভবনের চতুর্থ তলায় এনামুলের শ্যালক-শাশুড়ি থাকেন। র‌্যাব সূত্র জানায়, এই চতুর্থ তলার সিন্দুক থেকে ৭ কেজি স্বর্ণ পাওয়া গেছে। আরেকটি সিন্দুক থেকে এক কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওয়ারী, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, বংশাল, কোতোয়ারী থানা এলাকায় এই পরিবারের ৫০টির মতো বাড়ি রয়েছে। তবে এই রুপন এবং এনামুল কোন বাড়িতে থাকে সেটি তারা জানেন না।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই বাড়িতে এখনো অভিযান চলছে। দুপুরে সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

সালমান আমার কারণে কেন আত্মহত্যা করবে ! একজন মৃত মানুষের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে কথা বলাটা খুব বিশ্রী মনে হয়েছে : শাবনূর

img

শাবনূরকে নিয়ে সালমান-সামিরার নিয়মিত ঝগড়া হতো। ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানালেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআইর) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। এছাড়াও সালমানের বাসায় রান্নাবান্নার কাজ করা মনোয়ারা বেগমের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে শাবনূর-সামিরা দু’জনকে নিয়েই সংসার করতে চেয়েছিলেন সালমান। কেননা সালমান সামিরা এবং শাবনূর দু’জনকেই প্রচণ্ড ভালোবাসতেন।

এ কারণে দু’জনকেই বিয়ে করে সংসার করতে চেয়েছিলেন সালমান। কিন্তু সামিরা তাতে রাজি হননি। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাসার কর্মচারীরা সবাই এমন জবানবন্দীই দিয়েছেন।

তবে পিবিআইয়ের এই কথায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে তিনি ফোনালাপে জানিয়েছেন, আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিসের জন্য আমার নাম জড়ানো হচ্ছে! সালমান যদি আত্মহত্যাও করে, তাহলে আমার কারণে কেন করবে! আমার নামটা জড়ানোর আগে সবারই একবার ভাবা উচিত।’

শাবনুর বলেন, ‘একজন মৃত মানুষের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে কথা বলাটা খুব বিশ্রী মনে হয়েছে।’

শাবনূর বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে এমন কথা কেন বলা হচ্ছে, তা আমি জানি না! সালমান ও আমাকে জড়িয়ে এই ধরনের কথা কেউ যদিও বলে থাকে, সেটার আমি ঘোর বিরোধিতা করছি। সালমান শুধুই আমার নায়ক ছিল, সহশিল্পী ছিল, বন্ধু ছিল, এর বাইরে আর কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি আগেও বলেছি, তাকে আমি ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। তার সঙ্গে আমার ভাইবোনের সম্পর্ক ছিল। অন্য রকম পরিচ্ছন্ন সম্পর্ক ছিল। এটা নিয়ে এখন কেউ কিছু বললে তা তো আমি মানবই না। একজন মরা মানুষকে নিয়ে এত বছর পর এত বিশ্রী কথা বলার মনমানসিকতা কীভাবে সবার হয়, সেটাও আমি বুঝি না।’

শাবনূর বলেন, ‘আমি তখন অবিবাহিত একটা মেয়ে। সালমান তো বিবাহিত। ওর স্ত্রীর সঙ্গেও আমার একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। সালমানের স্ত্রী সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকত। প্রেমের সম্পর্কের কিছু একটা যদি হতো, এটা তখন সবাই বুঝতে পারত। এত বছর পর এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে নোংরা উক্তি করার ব্যাপারটি মোটেও ভালো লাগছে না। কিছু মানুষ আমাকে জড়িয়ে গুজব ছড়িয়েছে। এখনো ছড়াচ্ছে।’

বর্তমানে শাবনূর অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। অনেক বছর ধরেই আছেন মিডিয়ার বাইরে।

চট্টগ্রাম সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর সভাপতি শাহাদাত হোসেন।আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।এর আগে মেয়র পদে সাহাদাতসহ ৬ জন মনোনয়ন চেয়েছিলেন। অন্যরা হলেন- নগর সাধারণ সম্পাদক আবু হাশেম বক্কর, সহসভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ, সাবেক কমিশনার নিয়াজ মুহাম্মদ খান ও মহিলা নেত্রী লুসি খান।এছাড়া বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড বগুড়া-১ আসনে উপনির্বাচনে বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং যশোর-৬ আসনে উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দিয়েছে।গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।মহাসচিব ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান।

পাপিয়ার ঘটনাই শেষ নয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনে এরকম আরো ১৫৩জন রয়েছে

পাপিয়ার ঘটনাই শেষ নয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনে এরকম আরো ১৫৩জন রয়েছেন যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নানা রকম অপকর্ম করছেন। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে তৃণমূলে পর্যায় পর্যন্ত এ ধরণের অপকর্মকারী রয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এরকম ১৫৩ জনের একটি তালিকা দিয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদের প্রতি কোন রকমের অনুকম্পা না দেখানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের জন্য কেউ যদি তদবির করে তাহলে তার পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।*

*সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী দলের ভিতর যারা অপকর্ম করছেন তাদের ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যারা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সেই প্রধান মন্ত্রীর সেই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে এই শুদ্ধি অভিযান থেমে যায়।*

*এরপর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যারা আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে নানারকম অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত, যারা আদর্শ এবং নীতি বহির্ভুত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে দলে জায়গা দেয়া হবেনা। কিন্তু তারপরেও একইভাবে পাপিয়ার মতো মেয়েরা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে আছে। এটা নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ্ব এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া কেন এদেরকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে আনা হয়, সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।*

*সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সারাদেশে আওয়ামী লীগের যে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যে কমিটি রয়েছে সে কমিটিগুলোতে কারা আছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ রয়েছে তা যেন খতিয়ে দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, ‘আমি জানি কারা কারা এসব অপকর্ম করছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেন এখনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা?’*

*বিশেষ করে একজন অপরাধ করার পর কিংবা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হবার পর বা তাঁর অপরাধ সামনে আসার পর কেন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, আগে কেন নেয়া হচ্ছে না? এবং এই কারণেই আওয়ামী লীগের মধ্যে আবার নতুন করে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।*
*আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হবার আগেই যেন দল থেকে বহিষ্কার কিংবা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।*