Category: রাজনীতি

কুয়েতে মানব ও অর্থ পাচার সঙ্গে হাজার কোটি টাকার কারবারের অভিযোগ ওঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে

কুয়েতে মানব ও অর্থ পাচার সঙ্গে হাজার কোটি টাকার কারবারের অভিযোগ ওঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে । দেশটিতে মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযানের মুখে বাংলাদেশের এই সংসদ সদস্য কুয়েত ছেড়ে পালিয়েছেন বলে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের পত্রিকাগুলো খবরে বলা হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম মূলতঃ কুয়েতপ্রবাসি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শহিদ আওয়ামী লীগের আওয়ামী ঘরণার প্রবাসী হিসেবে শহিদ মনোয়ন আওয়ামী লীগ থেকে চেয়েছিলেন। কিন্তু মহাজোটের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচনে এই আসন থেকে সমর্থন দেওয়া হলে শহিদ সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকে নির্বাচন করেন। তবে মাঝ পথে এসে নির্বাচন থেকে সরে মোহাম্মদ নোমান দাঁড়ালে স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোহাম্মদ শহিদ ইসলামকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দেয়।

পরবর্তীতে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-৪৯ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বুধবার কুয়েতের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম আল কাবাস জানায়, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। অর্থ ও মানব পাচার ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তি একটি অসাধু চক্রের সদস্য যার মূল হোতা বাংলাদেশি সংসদ সদস্য। তাদের সঙ্গে আরও একজন জড়িত আছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সাংসদ বিপদ আঁচ করতে পেরে এক সপ্তাহ আগে দেশ ত্যাগ করে। যখনই তিনি বুঝতে পারেন সিআইডির কর্মকর্তারা তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তৎপর হবে তখনই তিনি পালিয় চলে আসেন। বিপদ বুঝে তার অপর সঙ্গীও কুয়েত ছাড়া হয়েছেন। পলাতক এই সাংসদের সংস্থার মানবসম্পদ রফতানি সম্পর্কিত যেসব নথিপত্র ছিল সেগুলো বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Image may contain: 9 people, people smiling, people standing

আল কাবাসের তথ্যমতে, অভিযুক্তরা তিনটি নামকরা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। তারা ২০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিককে কুয়েতে কাজ দেয়ার কথা বলে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। ধারণা করা হচ্ছে এই অর্থের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার। অবাক করা তথ্য হল, এই তিন ব্যক্তির মধ্যে একজন বাংলাদেশে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি দেশের একটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আছেন যেটির সুবিধা আদায় করে তিনি বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে অর্থ পাচার করেছেন।

যেসব শ্রমিকদের আনা হয়েছে তারা সবাই ভিসা জালিয়াতির শিকার। তাদেরকে যেই বেতনের চুক্তিতে আনা হয়েছিল সেই বেতন থেকে তাদের অনেক কম বেতনে খাটানো হত।

সূত্রের মতে, সিআইডি-র কর্তারা তদন্তের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন ওই তিন জনের চক্রটি বাংলাদেশে একটি বড় জালিয়াতি নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্কিত। এই নেটওয়ার্কটি ভিসা জালিয়াতির সাথে জড়িত যারা শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১৮০০ থেকে ২২০ দিনার পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে যেখানে চালকদের চাকরি দেয়ার ভিসার জন্য আদায় করা হয়েছে জনপ্রতি ২৫০০ থেকে ৩০০০ দিনার।

বৃহস্পতিবার মানবপাচার নিয়ে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে আল-কাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশি ওই সংসদ সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতে একজন মার্কিন বাসিন্দার সঙ্গে আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। কুয়েতে আয় করা বেশিরভাগ অর্থই তিনি আমেরিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সূত্রের বরাতে আল কাবাসের খবরে জানানো হয়- প্রাথমিক পর্যায়ে কুয়েতের একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজেই প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদার হয়ে ওঠেন। এরপর আর তার পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে শুরু করেন।

ওই সংসদ সদস্য কুয়েতে এমন বেশকিছু টেন্ডার কেনেন, যেগুলো লাভজনক ছিল না। সেগুলো কেনার উদ্দেশ্য ছিল, চুক্তিগুলোর আওতায় কুয়েতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেয়া। এসব কর্মী নেয়ার মাধ্যমে আয় করা অর্থ দিয়েই ওই টেন্ডারগুলোর অর্থায়ন করতেন তিনি। অবৈধভাবে আয় করতেন ব্যাপক অর্থ।

বাংলাদেশি শ্রমিক নেয়ার জন্য কুয়েতে তার প্রতিষ্ঠানটি যেন সরকারি চুক্তি পায় সেজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ৫টি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকজন কর্মচারীর কাছে অডিও এবং ভিডিও প্রমাণ আছে যে, সংস্থার কর্মীদের তাদের ভিসা অন্য সংস্থায় স্থানান্তর করতে দেওয়ার পরিবর্তে আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। সিআইডি গোয়েন্দারা এইসব কর্মীএবং সংস্থার কিছু কর্মকর্তাকে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানা গেছে।

আল কাবাসের প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, তিন আসামির মধ্যে একজনকে (সুলতান) বলা হয় যদিও তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন, তবে তিনি এখনও বড় কোম্পানির কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্কে বজায় রেখেছেন এবং তিনি সক্রিয় রয়েছেন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে শ্রমিক আনা এবং কুয়েতের বাইরে যাংক একাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করাতে। সাংসদ ছাড়াও এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের আরো একজনের পরিচয় কেবল এস (S) বলে জানা গেছে যে বর্তমানে ইউরোপের একটি দেশে অবস্থান করছে।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংসদ সদস্য নিয়ে কুয়েতের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে সিআইডির যোগাযোগ করে দূতাবাস কর্র্তপক্ষ। সিআইডি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে মারাতিয়া কুয়েতি গ্রুপ অব কোম্পানীজ এর স্বত্বাধিকারী কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি ।

দূতাবাসের দায়িত্বশীল সূত্র আরও জানিয়েছে, সাংসদ পাপুল কুয়েতে নেই এটাও নিশ্চিত করেছে সিআইডি। তবে কুয়েতি সংবাদ মাধ্যমে একজন গ্রেপ্তারের যে খবর বেরিয়েছে তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

অভিযােগের বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য এবং কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের সঙ্গে জন্য যেগােযােগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে আকাশযাত্রা। তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি এবং তিনি এ মুহুর্তে কোথায় আছেন সে ব্যাপারেও নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে আকাশযাত্রার যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। যদি পাওয়া যায় এই বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরা হবে। বিস্তারিত জানতে সিআইডিকে চিঠি দিয়েছে দূতাবাস।

সূত্র : আল কাবাস ও আরব টাইমস

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে মধুর ক্যানটিন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অপরাজেয় বাংলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।মিছিলে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।সমাবেশে ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী রাখলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে যাওয়ার পরেও কেউ কথা বলার থাকে না। নেত্রী জেলে থাকলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেয়ার বাজারের শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলেও লক্ষ কোটি মানুষের সামনে দরাজ কণ্ঠে প্রতিবাদ করার কেউ থাকে না।তিনি বলেন, বর্তমান এই স্বৈরাচারী সরকার খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দী রাখা যত বিলম্বিত করতে পারবে, আওয়ামী লীগের শাসকদের দুঃশাসন তত বেশি লম্বা হবে।তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আর ঘরে বসে থাকবে না। কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।এ সময় উপিস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান, যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন নাসির।

সরকারের জামিন হলনা

Baul_Shariat02

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত শরিয়ত সরকার বয়াতির জামিন হল না।

নবী ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কথিত কটূক্তির অভিযোগে গ্রেফতার শরিয়ত বয়াতির জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০ বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জিনিয়া বক্স গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ মামলায় ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ ছিল। পরে আমরা তার আগাম জামিনের জন্য আবেদন করি। আজ জামিন শুনানি হলে আদালতের বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করেন।’ তিনি আরও বলে, ‘তার জামিনের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’

শরিয়ত বয়াতি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের পবন মিয়ার ছেলে। ৯ জানুয়ারী ২০২০ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মির্জাপুর থানায় শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে একই উপজেলার আগধল্যা দারুসসুন্নাহ ফোরকানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শরিয়ত বয়াতি ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা জেলার ধামরাই থানার রোহারটেক এলাকায় পালাগানের একটি অনুষ্ঠানে নবী, মসজিদের ইমাম ও ইসলামের নানা বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে ১১ জানুয়ারী ভোরে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বাশিল এলাকা থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার দৌড়ে এগিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ নৌকার প্রর্থীকে তাদের মেয়র হিসেবে বেছে নিতে পারে।

আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার দুই প্রার্থী তুলনামূলকভাবে অধিক অভিজ্ঞ এবং যোগ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার দৌড়ে এগিয়ে থাকায় সাধারণ মানুষ নৌকার প্রর্থীকে তাদের মেয়র হিসেবে বেছে নিতে পারে। সার্বিক বিবেচনায় এমনটাই মনে হচ্ছে।

জগন্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, বয়স, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং সততায় ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ দুই সিটিতেই নৌকার প্রার্থী অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছে। সাধারণ ভোটাররা যদি এগুলো বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেয় তাহলে আওয়ামী লীগ জিতে যাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাবাসি তাদের নগরপিতা নির্বাচন করতে চলেছে। ভোটের ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণ মানুষ প্রার্থীদের যোগ্যতা দেখেই ভোট দেয়। কেননা একমাত্র যোগ্য ব্যক্তিই মানুষের চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে পারে। তাই যদি বিবেচনা করা হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি যাদের মেয়র প্রার্থী করেছে তাদের একেবারেই কোনো অভিজ্ঞতা নেই। অপরদিকে আওয়ামী লীগ অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রার্থী করেছে। ভোটাররা তাদের চাহিদা পূরণে অভিজ্ঞদেরই বেছে নেবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বাজায় রাখতেও মানুষ নৌকার দিকে যাবে।

লিয়ন মীর: 

সাঈদ খোকন আমার ভাই

আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের জন্য নৌকায় ভোট চেয়ে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

এ সময় তিনি বলেছেন, আমরা দুই ভাই। ঢাকাবাসীর জন্য একসঙ্গেই কাজ করে যাব। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করলে আমরা যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছিলাম, সেটি অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সদরঘাটে সিটি করপোরেশনের জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে সাঈদ খোকন এ কথা বলেন।

এদিন ব্যারিস্টার তাপস ওই এলাকায় গণসংযোগে গেলে সেখানে দু’জনের কুশল বিনিময় হয়। এ সময় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, আজকে আমরা দুই ভাই এখানে উপস্থিত হয়েছি। আজ এই মুহূর্তে এ কথা বলতে চাই, মেয়র প্রার্থী তাপসকে আমি নৌকা মার্কায় ভোট দেব। কারণ আমি জানি, তাপস জয়যুক্ত হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে নগরবাসীকে একটি কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সুন্দর ঢাকা উপহার দেওয়া সম্ভব। যদি নির্বাচনী আচরণবিধির বাধ্যবাধকতা না থাকত, তাহলে আমি প্রচারে নেমে ঢাকাবাসীকে আহ্বান জানাতাম, ফজলে নূর তাপসকে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। তার পক্ষেই সম্ভব এই শহরের অগ্রগতি অব্যাহত রাখা।

এদিকে মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে নিয়ে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আমার ভাই। আমরা দুই ভাই সব সময় একসঙ্গে আছি এবং থাকব। আমার ভাই যেসব উন্নয়ন কাজ হাতে নিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ ঢাকাবাসীর সমর্থনে নির্বাচিত হলে আমরা সেসব উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে শেষ করব।

তিনি আরো বলেন, মেয়র সাঈদ খোকন এরই মধ্যে অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন। আমি নির্বাচিত হলে সেগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নেব। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন করব। সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব। ঢাকাকে সাজিয়ে তোলার জন্য আমরা এ ধরনের আরও উদ্যোগ নেব।

আজাহারী জামায়াতের প্রোডাক্ট: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আজাহারী জামায়াতের প্রোডাক্ট: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা মিজানুর রহমান আজাহারীকে জামায়াতের প্রোডাক্ট বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আজাহারীসহ কিছু ধর্মীয় বক্তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে জামায়াতের প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রকাশ্যে জামায়াতের রাজনীতির সুযোগ না থাকায় কৌশলে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে এসব বক্তা জামায়াতের পক্ষে কথাবার্তা বলছেন। তিনি আরও বলেন, তারা কোরআন-হাদিসের যেসব ব্যাখ্যা দেয় তার অধিকাংশই মিথ্যা কথার আশ্রয় নিয়ে আজেবাজে কথা বলে। 

মন্ত্রী মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর শহরের গৌরীপুর কাছারি এলাকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পাড়া ধর্মীয় বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্যগুলো সরকারের নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সরকার ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী এসব বক্তাদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করারও আহ্বান জানান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ‘বিশেষ আবেদন’ করবে পরিবার

বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা

বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে সরকারের কাছে বিশেষ আবেদন করার কথা ভাবছে তার পরিবার ও স্বজনরা। শুক্রবার বিকেলে পরিবারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বেগম জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম।এইদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনকে হাসপাতালের কেবিনে দেখতে যান পরিবারের ৫ সদস্য। ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন তারা।পরে বেগম জিয়ার মেজো বোন সেলিমা ইসলাম জানান, তার ছোট বোনের শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। বারবার বমি করছেন, খালি পেটে তার ডায়াবেটিসের মাত্রা ১৫ এর উপরে। এই হাসপাতালে যেভাবে চিকিৎসা চলছে সেখান থেকে বেগম জিয়াকে হয়তো জীবিত ফেরানে যাবে না বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন কমিটির সকল কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এসময় হেলিপ্যাডে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী হেলিপ্যাড থেকে সড়ক পথে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন।

তিনি প্রতিবারই টুঙ্গিপাড়া আসার পর ও ঢাকা রওনা দেয়ার আগে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া- মোনাজাত করেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা টুঙ্গিপাড়া পৌঁছানোর পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। পরে দলীয় প্রধান হিসেবে নবগঠিত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ প্রথম সভায় প্রধানমন্ত্রী সভাপতিত্ব করবেন।

‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও যখন প্রবৃদ্ধি অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে, তখনও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতিমুক্ত করে দেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন অনুশীলন-প্রশিক্ষণ উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক, নিরাপদে থাকুক, উন্নত জীবন পাক-সেই লক্ষ্যই আমরা বাস্তবায়ন করছি।’ বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের কর্তব্য নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেম সম্পর্কে সচেতন করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম কোর্স সমাপনীতে ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ভাষণের চুম্বক অংশ উদ্ধৃত করেন । জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি, এই স্বাধীনতা নিশ্চয়ই ইনশাআল্লাহ থাকবে, কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। তবে স্বাধীনতা বৃথা হয়ে যাবে, যদি বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে না পারো। সেই জন্য তোমাদের কাছে আবেদন রইল- সৎ পথে থেকো।’

জাতির পিতার কন্যা বলেন, ‘জাতির পিতা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে এ কথা বলেছিলেন। তবে, এটা শুধু সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নয়, সমগ্র জাতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন আয়োজিত এই প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণ অনুশীলন (মহড়া) ‘অপারেশন বিজয় গৌরব’ প্রত্যক্ষ করেন।

স্বাধীনদেশে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরু দায়িত্ব ‘সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী যেন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে পারে এবং বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে সেভাইে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যার শুভফল ইতোমধ্যেই সকলে পাচ্ছেন।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বহুদেশে শান্তি স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশপাশি সামাজিক কাজেও যথেষ্ট আন্তরিকতার সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনী ভূমিকা রাখছে।’

‘দেশের অনেক উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত হয়ে সেনা সদস্যরা ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নয়নের কাজ তাদের দিয়ে আমরা করাতে পারছি এবং তারা করে যাচ্ছে। এভাবে দেশের একদিকে যেমন স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও অনেক অবদান রেখে যাচ্ছেন আমাদের সেনা সদস্যরা।’ তিনি সব সেনা সদস্যকে এ জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের সৈনিকরা ততটা মানবিকতা দেখায় না, যতটা আমরা বাঙালিরা দেখাতে পারি। কাজেই সেইদিক থেকে আমি মনে করি প্রশিক্ষণ এবং সমরাস্ত্রের দিক থেকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত আমাদের সশস্ত্র বাহিনী হবে। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা যথেষ্ট কাজ করেছি এবং উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ না করে বলেন, ‘শুধু এটুকুই বলবো আমাদের সীমিত সম্পদ দ্বারা যতটুকু সম্ভব তা আমরা করে যাচ্ছি।’

বাংলাদেশ রেজিমেন্টসহ তিনটি পদাতিক বাহিনী আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণাঞ্চল এক সময় অবহেলিত ছিল। সেখানে কোনো সেনানিবাস ছিল না। সেখানেও আমরা সেনানিবাস করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে যে প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেন তার আলোকে তার সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক তত্বাবধানে ৬৬ পদাতিক ডিভিশন এই শীতকালীন প্রশিক্ষণ অনুশীলনের আয়োজন করে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্যরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তিন বাহিনীর সম্মিলিত এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করেন। আধুনিক ট্যাংক, এপিসিএস, মিগ ফাইটার প্লেন এবং তিন সশস্ত্র বাহিনীর এমআই হেলিকপ্টারগুলো অনুশীলনে অংশগ্রহণ করে। যেখানে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং শত্রু বাহিনীর মধ্যে ছদ্ম যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে মহড়া সমাপ্ত হয়।

২২২ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব শত্রুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর বিজয় অর্জনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিজয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর সচিবগণ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার উপকূলীয় দ্বীপ স্বর্ণদ্বীপে (পূর্বের নাম জাহাইজ্জার চর) পৌঁছলে সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী তাকে স্বাগত জানান।

পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শামসুল হক এবং প্রকৌশল বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান দ্বীপের উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণদ্বীপে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে নির্মিত ও বাস্তবায়িত তিনটি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার, পরিকল্পিত বনায়ন প্রকল্প এবং এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার সরকার সশস্ত্র বাহিনীতে আধুনিক সরঞ্জাম সন্নিবেশিত করে একে আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেয় এবং উন্নয়ন যাত্রায় কোনো প্রতিষ্ঠান যেন পিছিয়ে না থাকে, তারও উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সশস্ত্র বাহিনীকে তার সরকার আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব থেকে বেশি প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। কেননা একটি আধুনিক বাহিনী গড়ে তোলায় এটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।’ এ জন্যই অতীতে জলদস্যু প্রবণ এই দ্বীপটিকে (স্বর্ণদ্বীপ) সেনাবাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণ এবং খোলামেলাভাবে মহড়া করার জন্য ২০১৩ সাল থেকে বরাদ্দ করেছেন এবং এর নামও পরিবর্তন করে দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শে হাসিনা দ্বীপটির আধুনিকায়নে সেনা সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, ’জাহাইজ্জার চরকে স্বর্ণদ্বীপে রূপান্তরিত করার জন্য আমি সেনা সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই এবং এখানে যা যা করণীয় তা করা হচ্ছে। আমরা তা করবো।’

তিনি বলেন, ’আমাদের তিন বাহিনীর জন্যই প্রত্যেকটি হেড কোয়ার্টারে আমরা একটি করে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স করে দিয়েছি এবং সেখানে প্রশিক্ষণের আরও সুযোগ করে দিয়েছি। শিক্ষা-দীক্ষা, প্রশিক্ষণ-সবদিক থেকেই আমাদের সশস্ত্রবাহিনী আরা উন্নত হোক সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে তার সরকার স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যার ভিত্তিতে বর্তমানে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চলছে এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ’প্রথমে আমরা ১০ বছর মেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছিলাম সেটা বাস্তবায়ন শেষে ২০ বছর মেয়াদি (২০২১-৪১) প্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।’ শতবর্ষ মেয়াদি ‘ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০’র প্রসঙ্গও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি এ সময় দেশের দারিদ্র্যের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের সময়ে দারিদ্র্য আরও কমিয়ে আনার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, সেই অনুষ্ঠান চলাকালে আরও দেড় থেকে দু’ভাগ এবং পরে আরও অন্তত তিনভাগ দারিদ্র্য যদি কমিয়ে আনতে পারি তাহলেই দেশকে আমরা দারিদ্র্য মুক্ত করতে পারবো।’

সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে সেনা সদস্যদের অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সকলকে অন্তত একটি ঘর তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের ‘আশ্রায়ন প্রকল্প’ও শুরু হয় সেনা সদস্যদের সহায়তায়। তিনি এ সময় তার সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি, দেশের সকল বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পাঠ্য পুস্তক প্রদান, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের উল্লেখ করেন।

সরকার প্রধান বলেন, সমাজের কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে এবং উন্নয়নের সুফলটা যেন একদম গ্রামের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছায়, সেটা নিশ্চিত করাই তার সরকারের লক্ষ্য।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে চলছে বলেই তার সরকার দেশের এত উন্নয়ন করতে পারছে। প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১৫ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও যখন প্রবৃদ্ধি অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে, তখনও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

সাবেক ছাত্রদল নেতা নীরু গ্রেফতার

সাবেক ছাত্রদল নেতা নীরু গ্রেফতার, জেলহাজতে প্রেরণ

ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা একটি মারামারির মামলায় আশির দশকের তুখোড় ছাত্রদল নেতা সানাউল হক নীরুকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট  (সিএমএমস) আদালত।

ধানমন্ডি থানার ওসি হুমায়ুন কবির ঘটনার সত‍্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সানাউল হক নীরু ধানমন্ডির ৪ নাম্বার সড়কের একটি এপার্টমেন্টে নিজস্ব ফ্ল‍্যাটে বসবাস করেন। 

আশির দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ছাত্রনেতা সানাউল হক নীরু। ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাহবুল হক বাবলুর ভাই তিনি। ক্যাডার রাজনীতিতে ওই সময়ের ছাত্রদল সভাপতি গোলাম ফারুক অভির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হিসেবে আলোচিত হলেও, তৎকালীন স্বৈরাশাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগে, ১৯৯০ সালে ছাত্রদল থেকে নীরুকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

পরে আর বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও, ২০০৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসন থেকে কুলা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন সানাউল হক নীরু।

নিউজ সুত্র নিউজনেক্সট

ইআইইউর এই গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তৈরি বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে আট ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বের ১৬৫টি দেশ ও দুটি ভূখন্ডের এই সূচকে গত বছর ৮৮তম অবস্থানে থাকলেও এ বছর এক লাফে বাংলাদেশ উঠে এসেছে ৮০তম স্থানে।

গতকাল ইআইইউ গণতন্ত্র সূচক প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ এ সাময়িকীর গবেষণা শাখা ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ২০০৬ সাল থেকে বিশ্ব গণতন্ত্র পরিস্থিতি পাঁচটি মানদন্ডে ১০ স্কোরের ভিত্তিতে প্রকাশ করে আসছে। মানদ-গুলো হলো-নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নাগরিক অধিকার।
প্রতিবেদনে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিযুক্ত গণতন্ত্র, মিশ্র শাসন (হাইব্রিড) ও স্বৈরশাসন। গণতান্ত্রিক এই সূচকে গতবারের চেয়ে আটধাপ উন্নতি ঘটলেও বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থাকে তৃতীয় শ্রেণির অর্থাৎ মিশ্র শাসনের অন্তর্ভুক্ত করেছে ইআইইউ। এ বছর ইআইইউর এই গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম।

সঙ্গে সঙ্গে স্কোরের উন্নতি ঘটেছে। গত বছর ইআইইউর এই সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৭৭। এবার স্কোর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৮৮। গণতান্ত্রিক এই সূচকে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতি হলে প্রতিবেশী ভারতের অবনমন ঘটেছে ব্যাপক। গত বছর দেশটি ৭.২৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় ৪১তম থাকলেও এবার ৫১তম অবস্থানে নেমে গেছে। এ বছর ভারতের স্কোর ৬.৯০।

দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ৬.১৯ স্কোর নিয়ে গত বছর ৭১তম অবস্থানে থাকলেও এবার দেশটির দুই ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। শ্রীলঙ্কা এ বছর ৬.২৭ স্কোর নিয়ে ৬৯তম অবস্থানে উঠে এসেছে। ৪ দশমিক ১৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান গত বছর ১১২তম থাকলেও এবার ৪.২৫ স্কোর নিয়ে ১০৮তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

ইআইইউর এই সূচকে এবারও ৯.৮৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। এরপরই আছে ৯.৫৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় আইসল্যান্ড। তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন (স্কোর ৯.৩৯), চতুর্থ নিউজিল্যান্ড (স্কোর ৯.২৬), পঞ্চম ফিনল্যান্ড (স্কোর ৯.২৫)।

বিশ্ব গণতন্ত্র সূচকে এ বছর একেবারে তলানিতে কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া। দেশটি ১.০৮ স্কোর নিয়ে ১৬৭তম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ১৬৬তম (স্কোর ১.১৩), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৬৫তম (স্কোর ১.৩২), সিরিয়া ১৬৪তম (স্কোর ১.৪৩) ও চাদ ১৬৩ (স্কোর ১.৬১)।

ইআইইউ বলছে, বিশ্বের মাত্র ২২টি দেশে পূর্ণ গণতন্ত্র রয়েছে; যেখানে প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। এছাড়া বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী এখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার অধীনে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে।

গভীর সংকটে মোদি সরকার

প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। মোদি সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিল পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে ভারতকে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু গত ছয় বছরের শাসনে অর্থনৈতিক হাল ধীরে ধীরে বেহাল হচ্ছে বলে বারবার সোচ্চার হয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেনের মতো অনেকে। এবার সেই পথে হাঁটল ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (আইএমএফ)।

আইএমএফ এর দেওয়া তথ্য বলছে, আরও গভীর সংকটে মোদি সরকার, কেননা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে ভারতের অর্থনীতি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নশীল দেশগুলোর তালিকায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে ভারত। প্রতিবছরে প্রায় তিনমাস অন্তর ভারতের অর্থনীতির মান পড়ছে। পতন হতে হতে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। এখনই পতন থেকে বাঁচতে দেশটির সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছে আইএমএফ। কারণ অর্থনীতির পতনের কারণে ধনীরা আরও ধনী হয়েছে।
এছাড়া ধনী দরিদ্রের ফারাক প্রকট হয়েছে ভারতে। সেই ফারাক মেটানো এখুনি অসম্ভব। জিডিপি বৃদ্ধি কমেছে। মুদ্রাস্ফীতি বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। এমনকি ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআইয়) দেওয়া মাত্রা অতিক্রম করেছে মুদ্রাস্ফীতি। এমনই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দেশটির। তবে হাল ধরলে খুব দ্রুত গতিতে উন্নতি হবে বলেও আইএমএফ জানিয়েছে।

তবে যাইহোক, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই পাঁচ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশে ভারতেকে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদি সরকার। দেশটির যা হাল তাতে সেটা একেবারেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আইএমএফ। এমনকী দেশটির আর্থিক সংকট এতোটাই প্রবল আকার নিয়েছে যে রিজার্ভ ব্যাংতের তহবিলে হাত পড়েছে।

অন্যদিকে, চলতি আর্থিক বছরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি কমে ৪.৮% হতে পারে বলে তারা নতুন পূর্বাভাসে জানিয়েছে। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৬.১% হতে পারে বলে গত অক্টোবরে আইএমএফ তার পূর্বাভাসে জানিয়েছিল। তবে ২০২১ সালে বৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশ হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, আগামী এক ফেব্রুয়ারি ২০২০-২১ অর্থ বছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করবেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সূত্র : ইকোনোমিক টাইমস।