Category: বিবিধ

শিশুদের অবশ্যই মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হবে।

Image result for child mobile addection

আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম আবিষ্কার হচ্ছে স্মার্টফোন। তবে বাবা-মায়ের ব্যবহার করা ফোন শিশুর হাতে দেয়ার অভ্যাস করা খুবই বিপজ্জনক। কারণ এভাবে শিশুদের মোবাইল আসক্তি তৈরি হচ্ছে।

এই ফোন ব্যবহারের ফলে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় এবং পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান সময়ের শিশুরা এখন আর বাইরে গিয়ে খুব একটা খেলাধুলা করে না। তারা খেলা বলতে বোঝে মোবাইলের স্ক্রিনে হরেকরকম খেলা। এ খেলা নেশায় পরিণত হয়। এই নেশা শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মোবাইলের পর্দার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে মাথা ধরা, মাইগ্রেন ও পেশিতে ব্যথা এবং চোখের জ্যোতি কমে যায়। আর আট বছরের কম বয়সের শিশুদের অবশ্যই মোবাইল থেকে দূরে রাখতে হবে।

বেশিরভাগ সময় মোবাইল ঘেঁটে কাটালে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। এ ছাড়া সংবেদনশীলতা বাড়ে ও চিন্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুদের মোবাইলে নেশা থাকলে তা তাড়াতে হবে।

আসুন জেনে নিই শিশুর মোবাইলের নেশা তাড়াতে কী করবেন-

১. শিশুকে বিকালবেলায় খেলার জন্য মাঠে নিয়ে যান। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে উৎসাহ দিন।

২. অবসর সময়ে হাতের কাজ, ছবি আঁকা, কবিতা পড়া ইত্যাদির ওপর জোর দিন।

৩. রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করুন। আর ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ান।

৪. শিশুর খাবারের প্রতি যত্ন নিতে হবে। খাবারে পুষ্টি ঠিক রাখতে সবুজ শাকসবজি খেতে দিন।

৫. জাঙ্কফুড খাওয়া বন্ধ করুন। কোল্ড ড্রিঙ্কের বদলে দিন লাচ্ছি ও ফলের রস।

নিউজ সুত্র

Meshbah Ahmed ভোরের সুর্য

৭৯ বছরের ঝগড়া শেষে ৮০-তে টম অ্যান্ড জেরি!

টম অ্যান্ড জেরি, ৮০ বছর

ইঁদুরছানার জ্বালায় বিরক্ত বিড়াল। লেজ ধরে টানাটানি, কখনও আবার খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি। একজন অপর জনকে বিপদে ফেলার চেষ্টা। জনপ্রিয় চেনা দু’টি কার্টুন চরিত্র— ‘টম অ্যান্ড জেরি’র এই গল্প ছোট-বড় সকলের জানা। আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার ঠাণ্ডা লড়াইয়ের আবহে তাদের জন্ম। অ্যানিমেটেড এই শর্টফিল্ম কালে কালে জিতেছে অস্কারও। এই কার্টুন-জুটি এই সপ্তাহে ৮০ বছরে পা দিচ্ছে।

মার্কিন প্রযোজনা সংস্থা এমজিএম স্টুডিয়োর অ্যানিমেশন বিভাগে কাজ করতেন বিল হ্যানা এবং জো বারবেরা। অন্য সংস্থার পর্কি পিগ বা মিকি মাউসের জনপ্রিয়তার সঙ্গে তখন পাল্লা দিতে চাইত তাদের সংস্থা। হ্যানা-বারবেরার বয়স সেই সময়ে ৩০-এর নীচে। ভাবতে বসলেন নিজেদের মতো করে। বারবেরা বললেন, সাধারণ ইঁদুর-বেড়ালের কার্টুন ভাবলে কেমন হয়? তাদের লড়াই-ছোটাছুটি যদি গল্প হয়? ঝুঁকিটা নিয়েই ফেললেন দুই সহকর্মী। ১৯৪০ সালে ইঁদুর-বেড়াল নিয়ে প্রথম তৈরি হল ‘পাস গেটস দ্য বুট’। তখন তাদের নাম ছিল জ্যাসপার আর জিঙ্কস।শুরুতেই বাজিমাত। তুমুল জনপ্রিয় হয় সেটি। অ্যানিমেটেড শর্টফিল্ম-এর ক্যাটেগরিতে অস্কার মনোনয়নও জুটে যায় তার। সে সময়ে অবশ্য অ্যানিমেটরদের কোনও কৃতিত্ব দেওয়া হয়নি। কারণ প্রযোজনা সংস্থা তখনও ওই জুটিকে নিয়ে ইতস্তত করছে। এই রকম সময়ে টেক্সাস থেকে একজন প্রভাবশালী শিল্পপতির চিঠি পান পরিচালকদ্বয়। চিঠিতে লেখা ছিল- মজার বিড়াল-ইঁদুরকে আবার কবে দেখা যাবে? জ্যাসপার আর জিঙ্কস এর পরেই পরিচিত হয় টম আর জেরি-র নামে।তবে তাদের দুষ্টুমির মধ্যে কথাবার্তা রাখার ব্যাপারে আলাদা করে কিছু ভাবেননি হ্যানা-বারবেরা। স্কট ব্র্যাডলির তৈরি মিউজিক দিয়েই ব্যাকগ্রাউন্ড করেছেন। চার্লি চ্যাপলিনের নিঃশব্দ ছবি দেখে বড় হওয়া বারবেরা বলেছিলেন, কথা ছাড়া শুধু মজা দিয়েই দর্শকের মন ভোলানো সম্ভব। টমের গলায় মানুষের মতো চিৎকারের শব্দ দিয়েছিলেন হ্যানাই।

দুই দশক হ্যানা আর বারবেরা টম-জেরির ১০০টি শর্টফিল্ম বানিয়েছিলেন। সপ্তাহের পরে সপ্তাহ লেগে যেত একটা শর্টফিল্ম বানাতে। প্রযোজনার খরচ লাগত ৫০ হাজার ডলার। তাই বছরে খুব বেশি সংখ্যক শর্টফিল্ম ​ বানানো সম্ভব ছিল না।

এমজিএম স্টুডিয়োর প্রযোজনা থেকে ১৯৫০-এর মাঝামাঝি ফ্রেড কুয়িম্বি অবসর নেওয়ার পরে হ্যানা-বারবেরা দায়িত্ব নেন কার্টুন বিভাগের। বাজেটের টানাটানিতে ১৯৫৭ সালে সে বিভাগ বন্ধ হয়ে যায়। হ্যানারা নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা খোলেন। তার কয়েক বছর পরে আবার এমজিএম টম-জেরিকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে স্রষ্টাদের হাত ধরে নয়, প্রাগের এক স্টুডিয়োকে ভার দেওয়া হয় এই কাজের। তারা তেমন জমাতে পারেনি। আরও হাত ঘুরেছে টমরা। শেষমেশ ১৯৭০ সালের দিকে হ্যানা-বারবেরা ফেরেন টম-জেরিতে। তত দিনে টম-জেরির প্রথম দিককার এপিসোড নিয়ে নানা আপত্তি উঠেছে। এই কার্টুনে ‘ম্যামি টু শুজ’ বলে যে কৃষ্ণাঙ্গ পরিচারিকাকে দেখা যায়, প্রশ্ন ওঠে তার কথা বলার ধরন নিয়ে। কোমরের নীচের অংশ থেকে পা— কার্টুনে এইটুকুই দেখানো হয় এই চরিত্রের। জাতিগত বিদ্বেষ থেকে এই চরিত্রটি দেখিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে বলে দাবি ওঠে। এশিয়া এবং আমেরিকার আদি বাসিন্দাদের ‘আপত্তিকর’ ভাবে দেখাতে কার্টুনে বিভিন্ন বিদ্রুপের মুহূর্ত তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। আজকাল চেষ্টা করা হয় আপত্তিকর এপিসোডগুলোকে না দেখাতে।

ফারুক আহমদের"গোলাপগঞ্জের ইতিহাস” ও আমার ভূগোল পাঠ

ক্ষরণটা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে , তখন আমি রাণাপিং আদর্শ উচ্ছ বিদ্যালয়ের ক্লাস সেভেন এর ছাত্র । একদিন গোয়াসপুর গ্রামের ভিতর আবিষ্কার করলাম পুরোকীর্তির সাক্ষরে সুরম্য দেবপীঠ শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ ও শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর আখড়া । সময়ের প্রহারে জৌলোসহীন সেই প্রাসাদের ভিতর এতো সুন্দর , এতো সুবিন্যস্ত গাঁথুনি । দ্বিতল ভবনের সিঁড়ির পাশে তখন বর্তমান কিছু পাতা কুসুমের গাছ । নারীর স্নেহ ব্যকুলতার ভিতর প্রশ্রয় পায় সুন্দরের অনন্ত পিপাসা । সম্ভবত তারই প্ররোচনায় আমাদের দেশের বসত বাড়িতে বহুবিধ ফুলের চাষি ছিল মুলত বাড়ির যুবতী মেয়েরা । সেই পরিত্যক্ত মন্দিরে পাতা কুসুমের ঝোঁপ দেখে সমূহ মনোবেদনায় এক কল্পিত বোনের অনাথ মুখ মনে করে সেই যে ভিতরে ভিতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিলো তা বন্ধ হলো এই ২০১৫ সালে আমার রাণাপিং এর এক প্রচার বিমুখ লেখক শ্রদ্ধেয় ফারুক আহমদ সাহেবের গোলাপগঞ্জের ইতিহাস বই পাঠ করে।
পাঠ্য বইয়ের বাইরে অন্য কিছু পড়ার অভ্যাস রপ্ত করি ৯০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এর সময় খবরের কাগজে খেলার পাতা পড়ে । আমার পরিবার বই পড়ুয়া পরিবার । ঘরে সংগৃহিত বইয়ের ভিতর রাহুল সংস্কৃতায়ন হতে অচ্যূতচরণ চৌধুরীর শ্রীহট্টের ইতিবৃত্তের মতো পুরাতন বই ছিলো । তখন যা বয়েস তাতে শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত বই শুধু বেরসিক ঠৈকত না সাথে মনে হতো খুব কঠিন ভাষা । তবু যতদূর পারি চেষ্টা করেছি ঐ আখড়া সম্পর্কে কিছু উদ্ধার করার । বস্তুত বাবার কাছে শোনা রাকেশ ঠাকুরদের মন্দির ব্যতিত আর কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারিনি । বয়েস বাড়তে থাকলো সাথে বাড়লো বই পড়ার ঝোঁক এরই ধারাবাহিকতায় একদিন হাতে এলো আলীনগরের মতিন চৌধুরীর গোলাপগঞ্জ দর্পন । বইটা পড়লাম , ভালো লাগলো কিন্তু যা খুঁজেছিলাম তা পেলাম না । ২০০০ সালে হাতে পেলাম আনোয়ার শাহজান সাহেবের গোলাপগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বইটি । এই বইয়ে আমার জিজ্ঞাসার কোন উত্তর না থাকলেও বইটি এতো ভালো লাগলো যে ভিতরে ভিতরে লেখকের ঋণ স্বীকার করে নিলাম । এরপর ছালিকুর রহমান সাহেবের বই, এই বইয়ের নির্বাচিত একটি অধ্যায়ের কয়েক পাতা পড়ে মনে মনে স্বিদ্ধান্ত নিলাম এটা পড়ে শুধু শুধু সময় নষ্ট করার মানে হয়না, আর এগোইনি ।
সিলেটের ইতিহাসের পাঠোদ্ধার করতে গিয়ে মুসলমান ইতিহাসবীদদের বই পড়ে পড়ে সিলেটি মুসলমান লেখকদের প্রতি একটা অনীহা কাজ করতো আমার মাঝে । জনাব ফারুক আহমদ সাহেবের গোলাপগঞ্জের ইতিহাস বই দেখে সেই পুরনো এলার্জিতে সংক্রমিত হ লাম । তবু কৌতুহলবসত দু-এক পাতা উল্টিয়ে মনে হলো এই বই ব্যতিক্রম । এই বই পড়া যায়, পড়া যায় করে করে পুরো ছয়বার পড়ে ফেললাম ।
গোয়াসপুরের আখড়া সম্পর্কে আমার মনোবেদনার কারন, তখন যারা ঐ আখড়ার ভূ-সম্পত্তির দখলদার ছিল তাদের ভাষ্যমতে ঐ জমি হিঁদুদের কাছ হতে তাদের ক্রয় করা । আমার জানামতে, দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয় হয়না । তার উপর কোনভাবেই এর কোন কিনারা পাচ্ছিলাম না যে , হিন্দুদের কি এমন দায় পড়েছিলো যে , দেবতার বেদী বিক্রি করে দিতে হলো ।
ফারুক আহমদের বইয়ে গোয়াসপুরের আখড়া সম্পর্কে উল্লেখিত পাঠ হু-বহু কপি করে যোগাযোগ করি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সিলেটের ভূমি সন্তান বর্তমান ভারতের শিলিগুড়িতে বসবাসকারি মহাপ্রভূ শ্রী চৈতন্যের বংশধর ইতিহাসবীদ কালীপ্রসন্ন মিশ্রের সাথে । তিনি একটি ব্যতিক্রম ছাড়া ফারুক আহমদের কাহীনীর সাথে উচ্ছসিত একাত্ততা প্রকাশ করেন । ব্যতিক্রমটা হচ্ছে ভগবান শ্রী চৈতন্য গোয়াসপুর আসেননি । এর স্বপক্ষে তিনি আমাকে যে সব তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করেন, তাতে দেখা যায় ভগবান শ্রী চৈতন্যের মৃত্যুর একশো বছর পর গোয়াসপুর আখড়া প্রতিস্থাপিত হয় । তাছাড়া শ্রী চৈতন্যের জীবন চারিতের লেখক এবং তাঁর সহচর মুরারি গুপ্ত, বৃন্দাবস দাস, জয়াননন্দ তাদের সর্বজন স্বীকৃত উপাদান সমূহে শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমি শ্রীহট্ট উল্লেখ করলেও গ্রাম হিসেবে ঢাকাদক্ষিণের কথা কেউ উল্লেখ করেননি । অথবা শ্রী চৈতন্য যে শ্রীহট্টে পরিভ্রমণে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে শ্রী চৈতন্যের অগ্রজ , অনুজ শ্রীহট্টিয় লেখকদের বইয়ে কোন উল্লেখ নেই ।
এশিয়াটিক সোসাইটির সংগ্রহশালা হতে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত শ্রী চৈতন্য দেবের সমসাময়িক লেখক চূড়ামনি দাস তার “গোরাঙ্গ বিজয় চৈতন্য জীবনীতে প্রথম উল্লেখ করেন শ্রী চৈতন্য পিতৃআদেশে তার পিতৃভূমি শ্রীহট্টের জয়পুর (হবিগঞ্জ) গ্রামে গিয়েছিলেন । কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে জয়পুর শ্রী চৈতন্যের মা সচী দেবীর জন্মস্থান । একমাত্র মহাপ্রভূর জ্ঞাতি ভ্রাতা কংসারি পুত্র প্রদ্যুশ্ন মিশ্র কতৃক ষোড়শ শতাব্দীতে রচিত এবং ১৮৯২ সালে শ্রীহট্ট হতে মুদ্রিত ” শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যেদোয়াবলী ” নামক গ্রন্থে ১০২টি সংস্কৃত শ্লোকে সন্নাসী শ্রী চৈতন্য দেবের পিতৃভূমি শ্রীহট্টের ঢাকাদক্ষিন পরিভ্রমণের বিস্তারিত উল্লেখ আছে । এছাড়া শ্রী চৈতন্যের বংশীয় জগজ্জীবন মিশ্র কতৃক প্রদ্যূস্ত্র মিশ্রের বইয়ের বাংলা অনুবাদ নাম “মনঃসন্তোষিনীনী-তে” উল্লেখ করেছেন ভগবান শ্রী চৈতন্য পিতৃআদেশে অতিবৃদ্ধা পিতামহীর সঙ্গে দেখা করতে সন্ধ্যার পর ঢাকাদক্ষিন আসেন । পিতামহী সহ দুই জীবিত পিত্বব্যের সঙ্গে দেখা করে পরদিন অতি ভোরে যে নদী পথ ধরে ঢাকাদক্ষিন এসেছিলেন সেই পথে ঢাকাদক্ষিন ত্যাগ করেন । এই বইয়ে শ্রী চৈতন্যের গোয়াসপুরের আখড়ায় আসার কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি ।
রাণাপিং এর নামকরণ নিয়ে ফারুক আহমদ সাহেব ছালিক রহমানের বইয়ের প্রস্তাবিত কাহিনীটিকে বাতিলের খাতায় রেখেছিলেন । আমি ফারুক আহমদের সাথে সম্পূর্ণ একমত হয়ে সেই ছালিক রহমানকে রাণাপিং এর ইতিহাসের পাঠ দিতে চাই——“১৫৪০ সালে শেরশাহ্ হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লীর মসনদে বসেন । এবং তিনি সমস্ত বাংলায় ভূমি জরিপকালের ধারাবাহিকতায় গোলাপগঞ্জের এক অঞ্চলের ভূমি জরিপ করে সেই অঞ্চলের নাম রাণাপিং নির্ধারণ করে একটি পরগনা তৈরী করেন “—এই হলো ছালিক রহমানের বয়ান । কিন্তু ইতিহাস হতে জানা যায় , হযরত শাহজালাল যখন সিলেট বিজয় করেন তখন দিল্লীর সম্রাট তাকে সিলেটের নবাবী গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন । হযরত শাহজালাল সবিনয়ে এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন । পরে সম্রাট অনুরোধ করেন তাহলে আপনি সিলেটের জায়গীর গ্রহণ করেন । হযরত শাহজালাল এই প্রস্তাবও সবিনয়ে প্রত্যাখান করেন । তখন সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজী হযরত শাহজালালের নির্মোহ চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে সিলেটকে রাজস্বমুক্ত কসবে সিলেট হিসেবে ঘোষণা দেন । এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনের আগ পর্যন্ত যতো মুসলমান শাসক সিলেটের অধিপতি হয়েছেন , সবাই সুফি সাধক শাহজালালের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সিলেট হতে ভূমি রাজস্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি , এবং কোনপ্রকার জরিপকাজ ও চালান নি । তবে এটাও সত্যি বিভিন্ন মুসলমনা সাধকের নামানুসারে যখন বিভিন্ন এলাকার নামকরণ করা হতো তখন ঐ এলাকার সীমানা নির্ধারণে স্থানীয়ভাবে অনুমান নির্ভর জরিপ কাজ চলতো । তাছাড়া সিলেটের আদি ইতিহাস অনুসারে পূর্ব সিলেটে ঢাকাদক্ষিণ ও ঢাকাউত্তর নামে দুটি পরগনার উল্লেখ পাওয়া যায় । এবং ঢাকাউত্তর পরগনা করিমগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত ছিলো । আমাদের রাণাপিং ছিলো ঢাকাউত্তর পরগনার অধিভূক্ত । শ্রী অচ্যূতচরণ চৌধুরীর শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত হতে জানা যায় , ১৭৭২সালে সিলেট হতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষে প্রথম কালেক্টর পদের সৃষ্টি হলেও সিলেট শহরের ভূমিকে শাহজালালের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক রাজস্ব অনাদায়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় , এবং তা আজও বলবৎ আছে । সিলেটে প্রথম হস্তচালিত ভূমি জরিপের কাজ করেন সিলেটের কালেক্টর উইলিসে ১৭৯০ সালে । ১৭৯০ সালের পূর্বে সিলেটে তালুকের সংখ্যা ছিলো গৌড় রাজা প্রবর্তিত ২৯২৪টি এবং ১৩৭টি পরগনা । এবং উইলিসের জরিপের পর সিলেটের নবনির্ধারিত তালুক ও পরগনার সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬৩৯৩৯টি এবং ১৬৫টি । আর তখনই ঢাকাউত্তর পরগনা হতে বের হয়ে রানাপিং, মোহাম্মদপুর সহ অন্যান্য নতুন নতুন পরগনার জন্ম হয় । এখানে ছালিক রহমান সাহেব ১৫৪০ সালে রাণাপিং পরগনার অস্থিত্বের স্বীকার করা সর্বরোগের চিকিৎসকদের স্বপ্নে পাওয়া মহা-অষুধের মতো ।
ইতিহাস সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো ,সময়ের দ্বৈতশাসন এবং কালের দর কষাকষি , নইলে মহাভারতে উল্লেখীত সীতার কাটা হস্ত আমাদের এই ভূমিতে পড়েছিল বলে এলাকার নাম শ্রীহস্ত ছিলো । রাণাপিং ক্ষেত্রবিশেষে নারাপিং হতে পারলে শ্রীহস্ত হতে শ্রীহট্ট হওয়া বিচিত্র কিছু নয় । সপ্তম শতাব্দীতে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েং সাং সিলেটকে শি-লা-চ-ট বলে উল্লেখ করেছেন । অথচ মুসলমান ইতিহাসবীদেরা মরিয়া হয়ে সিলেটের নামকরণের ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করতে বারবার বলে গেছেন, শাহজালালের পথে বাধা সৃষ্টি করতে রাজা গৌড় নাকি (শিলা) পাথর দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করলে শাহজালাল বলেছিলেন, ‘শীল হট’ সাথে সাথে পাথর সরে যায় । সেই থেকে নাকি এলাকার নাম শীলহট হয়ে শ্রীহট্ট, পরে সিলহেট পরে সিলেট । এটা ত্রয়োদশ শতাব্দীর কথা । এর ও কয়েক শতাব্দী আগের ইতিহাসে পাওয়া ‘শ্রীহস্ত’,’শিলচট’ নামগুলো আমিও ভুলে যাব যদি তিনিরা আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন । শাহজালাল তো এসেছিলেন ইয়ামেন হতে তুর্কি হয়ে ভারতবর্ষে । সেখানে ঐ তিন ভাষার যে কোন একটি ব্যবহার করা তার পক্ষে বাঞ্চনীয় । সেটি না করে ‘শীল+হট’ এই দুটি ফার্সি শব্দ তিনি কোথায় খুঁজে পেয়েছিলেন ?
মহাভারতের যুদ্ধের সময় প্রাগজ্যোতিষের রাজা ছিলেন ভৌমভগদত্ত । তার উপরাজধানী ছিলো লাউর রাজ্যে যা বর্তমানে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের উঁচো টিলায় ছিলো এ ব্যাপারে শ্রী অচ্যূতচরণ চৌধুরী তার বইয়ে কোন স্বিদ্ধান্তে না গিয়ে একটি ধারণা দিয়েছিলেন । শ্রী অচ্যূতচরণ চৌধুরী তার শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত রচনা করেন ১৯১০ সালে । আর শ্রীহট্টের পক্ষখন্ড পরগনার নিদনপুরে বাস্কর বর্মন কতৃক ব্রাহ্মণদের দানকৃত ভূমির তাম্রশাসনের আবিষ্কার হয় ১৯১২ সালে । কিন্তু ঐতিহাসিক কনকলাল বড়ুয়ার মতে, শ্রী অচ্যূতচরণ সিলেট কামরুপের সাথে জড়িত ছিলো বলে উল্লেখ করে প্রমাণ করতে চাইছিলেন সিলেট বাংলাদেশের অনেক আগেই আর্য সভ্যতার সুফল অনুভব করেছে । নিদনপুর তাম্রশাসনে চন্ড্রপুরী, কোশিকা বা কৌশিকা এই তিন শব্দের বাইরে আর বেশ কিছু উদ্ধার করা যায়নি বলে অচ্যুতচরণ চৌধুরী তার শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত পূর্বাংশ (প্রকাশকাল১৯১৭ ইংরেজি) বইতে নিদনপুর তাম্রশাসন অথবা সিলেট যে প্রাগজ্যোতিষ বা কামরুপের অধিভুক্ত ছিলোনা এর বিপরীতে কিছু বলেননি । কিন্তু সাম্প্রতিককালে মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখীত দশম শতাব্দীতে মহারাজ শ্রীচন্দ্র কতৃক ব্রাহ্মণদের দান করা ভূমির বিবরণে শ্রীহট্ট মন্ডলীর চন্দ্রপুর, গরলা ও পোগার এবং এর সীমানা নির্ধারণে বলা হয়েছে পূর্বসীমায় বড় পাহাড়, পশ্চিমে জুজবাস খাল, ও বেত্রঘঙ্ঘী নদী, উত্তরে কোশিয়ার নদী এবং দক্ষিণে মনি নদী ,এতে স্পষ্ট আগের নিদনপুর তাম্রশাসনে উল্লেখিত কোশারি মানে কোশিয়ার নদী বর্তমানের কুশিয়ারা নদী । নিদনপুর তাম্রশাসনের প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে ঐতিহাসিক কনক বড়ুয়া বলেছিলেন, হয়তো কোন ব্রাহ্মণ সাথে করে অন্য কোথাও হতে নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু রাজনগর তাম্রশাসন সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
দশম শতাব্দীতে প্রদত্ত রাজনগর তাম্রশাসনে যেখানে শ্রীহট্ট নামের উল্লেখ পাওয়া যায় সেখানে তারও তিনশত বছর পরের হযরত শাহজালালের সিলেট বিজয়ের কাহিনীকে অবলম্বন করে শীলহট গল্পের উপস্থাপনের মাধ্যমে মুসলমান ঐতিহাসিকদের সিলেটের নামকরণের গল্প ফাঁদার বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা হতে আমি এখন মুসলমান ঐতিহাসিকদের বই হতে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকি। কিন্তু সুখের কথা ফারুক আহমদ সাহেব মুসলমান লেখক হওয়া সত্ত্বেও তার বই আমাকে বার বার পড়তে হল। হিন্দু ইতিহাসবিদেরা যেখানে ব্যতিব্যস্থ দ্বিজাতি তত্ত্বের জনক জিন্নাহ প্রমাণ করে দেশ ভাগের সব দায় মুসলমানদের কাঁধে তুলে দিতে। সেখানে মুসলমান ইতিহাসবিদরা জানেন না দেশ ভাগের প্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেন ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বাইরে হিন্দু জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নিখিল ভারত কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা রাজা গোপাল চারিয়া এবং ১৯৪২ সালে কংগ্রেসের জাতীয় অধিবেশনে তিনি তা উপস্থাপন করে। (আমি শুভাস বলছি- শৈলেশ রায় পৃষ্ঠা ১১২৩)। মুসলমান ঐতিহাসিকরা যেখানে রণ উম্মুখ অভিবক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ফজলুল হক কে মুসলিম স্বার্থ রক্ষার প্রতীক মুসলিম জাতীয়তাবাদের নেতা হিসেবে প্রমাণ করতে অথচ তারা জানে না ১৯৩৭ সালের ভারতীয় জাতীয় নির্বাচনে অভিবক্ত বাংলায় যখন কেউ একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় তখন কৃষক প্রজা পার্টির কর্ণদ্বার ফজলুল হক তার দলের ৩৮ আসন নিয়ে মুসলিম লীগের ৪২ আসনের পুঁজিকে অগ্রাহ্য করে ছুটে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের কাছে, বলেছিলেন, এসো আমরা কোয়ালিশ সরকার গঠন করি, বাংলা হতে মুসলিমলীগ কে উৎখাত করি। বাংলায় ধর্মীয় উগ্রবাদীদের কোন জায়গা হবে না। কংগ্রেসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী নেতা জহর লাল নেহরু মুসলমানদের সাথে কোয়ালিশনে যেতে রাজি না হওয়ায় ফজলুল হক বাধ্য হয়ে মুসলিম লীগের সাথে কোয়ালিশন করে প্রধানমন্ত্রী হন। (আমি শুভাস বলছি- পৃষ্ঠা ৪০১)। ভারত যখন চুড়ান্ত ভাবে ভাগাভাগির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন মহাত্মা গান্ধী তার ভুল বুঝতে পারেন। ছুটে যান জিন্নাহর মুম্বাইয়ের বাসায় এবং বলেছিলেন নেতা দেশের অখন্ডতা কি রা করা যায় না? তখন জিন্নাহ অনেক ক্ষণ চিন্তা করে বলেছিলেন, আমিও তো তা চাই, কিন্তু দেখেন কংগ্রেসের রাজনীতিতে আমি আপনাদের সিনিয়র এবং আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক সেই আমি যখন আপনাদের নেতৃত্ব লোভে কংগ্রেস হতে বিতাড়িত হলাম সেখানে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের মানচিত্র আপনারা হিন্দুরা ক্ষমতায় গেলে এখন যদি মুসলমানের পৃথক রাষ্ট্র না হয় তবে তখন আর যাওয়ার জায়গা থাকবে না। গান্ধী বলেছিলেন, নেতা আপনি হবেন অভিবক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার সব সদস্য আপনার মনোনীত। জিন্নাহ বলেছিলেন, আমি এই শর্তে রাজি আছি কারণ ক্ষমতায় থাকলে অন্তত রাষ্ট্র যন্ত্র ব্যবহার করে মুসলমানকে নিগৃহের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।
জিন্নাহর কাছ থেকে ফিরে এসে গান্ধী দেখা করেন ভারত সচিব স্যার পেথিক লরেন্সের সাথে ৩১শে মার্চ ১৯৪৭ সালে, আমি শুভাস বলছি পৃষ্ঠা ১১১১)। ভারত সচিবের সাথে দেখা করে সংগ্রেসের নেতাদের সাথে কয়েক দফা মিটিং করে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পর্কে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন,এবং সবাই তার প্রস্তাবে সম্মতি ও দেন,এর পর ১২ এপ্রিল ভারত সচিবকে চিঠি লেখেন আপনি জিন্নাহ সাহেবকে অভিবক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী করুন এবং মন্ত্রীসভার বাকী সদস্য জিন্নাহ সাহেব নির্বাচিত করবেন। ঠিক ঐ মুহূর্তে সারা জীবন গান্ধীর পা চাঠা নেহরু বেঁকে বসেছিলেন। তিনি তা মানবেন না, শুনে বিমূড় গান্ধী কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, জানি এরা এখন আমার ছবিতে ফুল দিবে কিন্তু আমাকে অনুসরণ করবে না।
যে শৈলেশ রায় আমি শুভাস বলছি বইয়ে ভারতীয় স্বাধীনতার পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরে মুসলমানের অপবাদ দূর করলেন এবং ভারতীয় স্বাধীনতার সিংহ পুরুষ নেতাজী শুভাষ চন্দ্র বসুকে জাতীয় নায়ক হিসাবে উপস্থাপন করলেন (আমিও স্বীকার করি কংগ্রেসের সাথে প্রতিশ্র“ত কথায় নয় এক দিকে ইংল্যান্ডে যুদ্ধবিদ্ধস্ত স্বদেশ অন্যদিকে বার্মায় অবস্থিত নেতাজী ও তার আধা হিন্দ ফোর্সের হাতে মরার ভয়ে ব্রিটিশ দেশ ছেড়ে চলে যায়)। তিনি ভারতীয় রাজনীতির তিন দিক পাল,লাল-বাল-পাল, যারা কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা অধিবেশন (সম্ভবত ১৮৭৫ সালে) হতে দলের সাথে থাকা তাদেরই একজন আমার সিলেটের বিপীন পাল যিনি ১৯০৬ সালে বোম্বে কংগ্রেসের সভাপতিত্ব করেছিলেন। সেই বিপীন পাল যখন মহাত্মা গান্ধীর সাথে অহিংস নীতির বিরোধীতা করে বাধানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন তখন শুভাষ বসুর রাজনৈতিক গুরু দেশ বন্ধু গান্ধীর পথ অবলম্বন করলে আমার সিলেটের মহান নেতা হলেন রাজনীতি হতে নির্বাসিত।
যে শৈলেশ রায় চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহের বিবরণ দিয়ে মাষ্টার দা সূর্যসেন কে মহা নায়কের আসনে বসালেন তিনি লিখলেন না ঐ দিন মুসলমানদের শুভ ধর্মীয় উৎসব চলছিল। বিপ্লবীরা অস্ত্র লুট করে আশেপাশে মুসলমানদের উৎসবে ব্যবহার করা বিশেষ ধরনের শিরাস্রান ফেলে দিয়ে দায়টা মুসলমানদের উপর চাপাতে চেয়েছিলেন। চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের যুদ্ধে আহত মহান বিপ্লবী বিনোদ রায় চৌধুরীর সাথে ২০০১ সালে আমার দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি কোন অবস্থায় আমাকে সময় দিলেন না। আমি অনেক মিনতি করে বললাম, স্যার একটি মাত্র প্রশ্ন। তিনি বলেছিলেন, ঠিক আছে তাড়াতাড়ি বলো? আমি বলেছিলাম আচ্ছা আপনি কি মনে করেন না চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে মুসলমানদের কাঁধে দায় চাপানো আপনাদের ভুল স্বিদ্ধান্ত ছিল? তিনি আমাকে বসতে বললেন। কিছু সময় ভেবে বললেন, হ্যা ঐ অপারেশনে আমাদের একমাত্র এবং আত্মঘাতী স্বিদ্ধান্ত ছিল মুসলমানদের কাঁধে দায় তুলে দেয়ার চেষ্টা করা। এর জন্যই তো অস্ত্রাগার লুঠ করে নিরাপদে চলে যাওয়ার পরও মুসলমানরা আমাদের বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিল, মাষ্টার দা কে মরতে হলো। আমার পাল্টা প্রশ্ন আপনাদের দেশপ্রেম নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই কিন্তু ঐ মুসলমানদের ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তার মানে আপনারা ভারতীয় জাতীয়তাবাদ থেকে হিন্দু জাতীয়তাবাদে বেশি বিশ্বাস করতেন। তিনি বলেছিলেন, না,এটা যুদ্ধের একটা কৌশল ছিলো যাতে অপারেশন শেষে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারি, আর তুমি যা বলছো দেশপ্রেমের উর্ধ্বে যদি হিন্দু জাতীয়তাবাদে বেশি আসক্ত থাকতাম তাহলে দেশ ভাগের সময় হিন্দুদের ভারতে না গিয়ে মুসলমানের পাকিস্তানে আসতাম না। আমি বলেছিলাম আপনাদের দেশ প্রেম নিয়ে আমার সন্দেহ নেই দেশপ্রেম ছিলো বলে পার্টিসনের অপশনে আপনি মাতৃভূমিকে বেছে নিছেন স্যার, কিন্তু দেশভাগের বীজ মূলত চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহেই রোপন করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে হিন্দু-মুসলমানের রক্তয়ী সংঘর্ষ আপনার মাষ্টার দার মতো হিন্দু জাতীয়তাবাদীতে বিশ্বাসী নেতাদের ফসল। তিনি খুব অসহায় ভাবে আমার দিকে থাকিয়ে বলেছিলেন, যাও তোমার সময় শেষ। আমি বলেছিলাম স্যার একটা ছবি উঠাবো আপনার সাথে। তিনি সিংহের মতো গর্জে উঠলেন। আমি দেখলাম জীবন সায়াহ্নে আজো আহত সিংহের গর্জন।কোনু মতে পালিয়ে বেঁচেছিলাম।
মুসলামন ইতিহাসবিদেরা মিথ্যাচার আর অযাচিত অহমবোধের আশ্রয় না নিয়ে এই কথাগুলো যদি জন সম্মুখে তুলে ধরতেন তবে কি মুসলমানের ইতিহাস সমৃদ্ধ হতো না? যে মুসলমানেরা জিন্নাহকে পাকিস্থানের জনক বলেন তারা সম্ভবত জানে না ১৮ জুলাই ১৯৪৭ সালে যখন দেশ ভাগের চূঢ়ান্ত ঘোষনা হয় তখন জিন্নাহ অশ্র“ স্বজল নয়নে বলেছিলেন, I never thought it would happen, i never exepted to see Pakistan in my life.
কিন্তু ফারুক আহমদের গোলাপগঞ্জের ইতিহাস বইয়ের পাঠোদ্ধারে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো লেখক শুধু স্রোতের ভাঁটিতে হাঁটেন নি প্রয়োজনে বিপরীতেও হেঁটেছেন। তিনির যে সাহসী পদক্ষেপ আমাকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছে তা হচ্ছে রানাপিং মাদ্রাসার ইতিহাস (গোলাপগঞ্জের ইতিহাস-ফারুক আহমদ পৃষ্ঠা-২১১)।
বর্তমান বাংলাদেশ সয়ংক্রিয় সংবিধানকে স্বীকার করে একটি নিখুঁত রাষ্ট্র যন্ত্রের সাহায্যে পরিচালিত, তবু দিন শেষে আইন আদালতকে উপেক্ষা করে বিধান নিতে হয় মাদ্রাসার ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। এমনই গণতন্ত্রে বিকশিত দেশে মাদ্রাসার বিপক্ষে কথা বলার পরিণতির ভয়ে কয়েক ফর্মা বিষ হজম করে বসে আছে। সময়ে সময়ে সেই বিষের ক্রিয়া উথলে উঠে। বহুদর্শী কালের প্রথিত ব্যবস্থা হাতে নিয়ে ও চুপ আছি সামাজিক অপশাসনের ভয়ে। কিন্তু আজ তা উগরে দিলাম….. বেশ কয়েক বছর আগে চৌঘরীর এক অগ্রজের সাথে মাদ্রাসা নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে আমি বলেছিলাম রানাপিং মাদ্রাসা প্রথম চৌঘরীতে প্রতিষ্টিত হয়েছিল কিন্তু অর্থাভাবে পরে তা রানাপিং-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সাথে সাথে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন যে কোন রকমে আত্মসম্মান নিয়ে পালিয়ে এলাম। আসার আগে ঐ অগ্রজ আমাকে শাসিয়ে দিলেন তুমি যা বলেছ তার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে জানো? আমি জোড় হাতে ক্ষমা চাই। তিনির সাথে আমার সম্পর্ক বেশ ভাল বলে ব্যাপারটা বেশিদূর গড়ায় নি। অতি সম্প্রতি রানাপিং মাদ্রাসার ইতিহাস নিয়ে একটি বই বেরিয়েছে যা প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে মিথ্যার প্রশ্রয়। রানাপিং মাদ্রাসা যে চৌঘরী হতে রানাপিং এ স্থানান্তরিত হয়েছে তার তো উল্লেখ নেই তার উপর পরিবার কেন্দ্রিক বিত্ত বৈভবের অনুকূল্যে মাদ্রাসা এতো দূর এসেছে বলে মাদ্রাসার ইতিহাস লিপিবদ্ধ।
ফারুক আহমদ এ কি করলেন, এমন আত্মঘাতী সত্যকে শুধু উচ্চারণই করলেন না ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে প্রমাণও রেখে দিলেন। যদি তিনি দেশে থাকতেন তবে এতোদিনে এর মূল্য শোধ হয়ে যেত। বিদেশে আছেন বলে একেবারে নিশ্চিত হইয়েন না কোনদিন বাগে পেলেই হল। ফারুক আহমদ তাঁর বইয়ে রানাপিং মাদ্রাসা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, রানাপিং মাদ্রাসা প্রথমে চৌঘরিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু অর্থাভাবে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেলে আবার তা রানাপিং-এ প্রতিস্থাপিত হয় ১৯৩০ সালে। এবং উপমহাদেশের বিখ্যাত আলীম, আওলাদে রাসূল, হুসেইন আহমদ মদনী (রঃ) নামের সাথে মিল রেখে ঢাকা উত্তর এবং রানাপিং পরগনার মুরব্বিদের সমন্বয়ে নাম রাখা হয় ঢাকা উত্তর রানাপিং আরবিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসা।
রাণাপিং মাদ্রাসা যে প্রথমে চৌঘরীতে স্থাপিত হয় এবং অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেলে পরে তা আবার রাণাপিং-এ স্থানান্তরিত হয় আমি ফারুক আহমদের এই কথার সাথে একাত্ম হলেও পরের দুটি তথ্য সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করি। ২০০০ সালে কিংবা তার দু-এক বছর পরে ভূমি জরিপের সময় আমাদের পারিবারিক ভূমি ভাগ-ভাটয়ারার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ পত্রের সাথে ভূমি রেকর্ড অফিস হতে আমাকে মাদ্রাসায় দান কৃত প্রথম জমির দলিল ও উঠাতে হয়। সেই দলিল মতে রানাপিং মাদ্রাসা ১৯৩৯ সালে রানাপিং সৎখন্ড গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নাম রাখা হয় সৎখন্ড আলিয়া মাদ্রাসা (দলিলের কপি আমার কাছে আছে, কেউ চাইলে আমি দিতে পারি)। এটা ইতিহাসের ভুল নয় তথ্যের ভুল উপস্থাপন, আমি আশা রাখি পরবর্তী সংস্করণে লেখক তা শুধরে নিবেন।
কিছুদিন আগে মাদ্রাসার দলিলের কপি ফারুক আহমদ সাহেবের বই এবং বইয়ের সাপোর্টে সংগৃহীত আরো কিছু তথ্য-উপাত্ত সাথে নিয়ে আমি দেখা করি সেই অগ্রজের সাথে। ব্যক্তি ফারুক আহমদ সম্পর্কে তিনির কাছে জানতে চাইলে উত্তরে তিনি বলেন বেশ ভাল লোক। আমি বললাম তিনি যে বইয়ে গোয়াসপুরের দেবোত্তর জমির ব্যাপারে এবং রানাপিং মাদ্রাসা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ঐ সম্পর্কে কি কিছু জানেন? সাথে সাথে তিনির স্বরগ্রাম উঁচুতে উঠে গেলো, বললেন তিনি ইতিহাসের জানে কি। এই সব ভুল তথ্য, সাথে সাথে আমি রানাপিং মাদ্রাসার দলিল এবং এর সাথে ভূমি আইন বই খুলে দেখলাম যে, দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। তিনির স্বর নিচে নেমে গেলে তাকে বলেছিলাম, ভাই আমি ঐ সময় পর্যন্ত আপনার কাছে সুস্থ যে সময় পর্যন্ত না আপনার অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি,প্রথম স্বীকারে বললে ব্যক্তি ফারুক আহমদ ভাল লোক নিমিষেই তিনি খারাপ হয়ে গেলেন,কিন্তু কেন সত্য উচ্চারণ করায়, মাটি খুঁড়ে কেঁচে বের করে নিয়ে আসায় তাইনা,ভাই আমার চুপসে গেলেন,বল্লাম শুনেন, শুনেছি দেবোত্তর কিছু সম্পত্তি নাকি দখলমুক্ত করা হয়েছে এরপরেও এখনো যাদের দখলে দেবতার বাস্তু ভিটা রয়ে গেছে আপনি সজ্জন লোক দয়া করে তা মুক্ত করে ঐ নিরাশ্রয়ে ভগবানকে একটু আশ্রয় দিন।
জেনারেল আজিজ সাহেবের অবদানকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই কিন্তু ফারুক আহমদ সাহেবের বইয়ে উল্লেখিত মুক্তিযুদ্ধ কালীন সিলেট মুক্ত অভিযান আর দেওয়ান ফরিদ গাজীর কাছ হতে প্রাপ্ত সিলেট মুক্ত করার কাহীনিতে গরমিল বিদ্যমান,যদিও লেখক এর দায় চাপিয়েছেন বক্তার কাঁধে,কিন্তু কারো কাঁধে সওয়ার হয়ে ধাবমান কাহীনিতে পাঠক যদি বিচলিত হন তবে এর দায় কিন্তু লেখক এড়াতে পারবন না, তাই পরবর্ত্তী সংস্করণে এ ব্যাপারে লেখক স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন আশা রাখি।
আমার বাড়ি রাণাপিং, ফারুক আহমদ সাহেবের বাড়িও রাণাপিং। গোলাপগঞ্জের ইতিহাসে রানাপিং এর মানুষের আধিক্য দেখলে খুশিই হব। জেনারেল আজিজ, ডঃ রেনু লুৎফা, ডঃ আব্দুর রহমান এরা আমাদের গর্ব। ঐ ছোট তালিকায় ডঃ আব্দুর রকিবের নাম না দেখে মর্মাহত হলাম। যিনি ১৯৬৭ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় দুই পাকিস্থানে প্রথম হয়েছিলেন। ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান যার গলায় সোনার মেডেল পরিয়ে দিয়েছিলেন। ফারুক আহমদের বইয়ে আমি গোলাপগঞ্জের আরেকজন কৃতি পুরুষকে মিস করেছি, ফুলবাড়ির বিখ্যাত লেখক শাহ আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরীকে। দীন মোহাম্মদ প্রণীত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস দ্বিতীয় খন্ডে যার উল্লেখ আছে। তার লিখিত বই হাশর তরান এবং ভব তরান এর উল্লেখ থাকলেও ভেদ কায়া অথবা উম্মতি তরান এর উল্লেখ নেই।
গোলাপগঞ্জের নিভৃত পল্লী গোয়াসপুরের আশ্রম সম্পর্কে মনে কৌতুহল জেগেছিল ১৯৯২ সালে আর তা প্রশমিত হলো ২৩ বছর পরে। কিন্তু ফারুক আহমদের এই বই আমার মতো আর কোন বই পিপাসুকে প্রতীক্ষার পাদবিন্দুতে কাতর করবে না এই স্বান্ত্বনায় আজ কলম ধরা। আমার ভাই পো শহীদ সাদী সেও জাত পড়–য়া এবং লেখালেখিও করে। সে একদিন নিরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কবিতার ক্লাস বইটি আমার বইয়ের সেল্ফ হতে বের করলে তাকে বলেছিলাম জানো এই বইটির জন্য আমাকে তিন বছর অপক্ষা করতে হয়েছে কিন্তু তুমি এক মুহুর্তও অপক্ষা করলে না বলতো কেন? সে বলেছিল কেন আবার আপনি রাস্তাটা এগিয়ে রেখেছেন বলে, । ঠিক তেমনি ফারুক আহমদ সেই শব্দ চাষী অথবা নির্মাণ শ্রমিকও বলা যায় অতীত আর বর্তমানের মধ্যে যে সেতু বন্ধন তৈরী করছেন তার সিঁড়ি ভেঙে অনাগত পথিক খুঁজে পাবে তার পৌরাণিক পিতৃ-পরিচয়, সব সাক্ষী আদালত মেনে হয়না বলে আগন্তুক অথবা নিরত অনেকে সে খবর জানেনা।
একদিন স্বপ্ন লিখতাম আর আজ স্বপ্নে নয় লিখি বিবেকের তাড়না হতে। কারণ নিজের বক্তব্য তো কোথাও না কোথাও রাখতে হবে এই ভেবে বই সম্পর্কে লেখা,আমাদের সিন্ডিকেট নির্ভর বর্তমান আবহমান সংস্কৃতিতে জীনানন্দের মতো কবি সিন্ডিকেটভূক্ত ছিলেন না বলে অকবির বদনাম নিয়ে মরতে হয়েছে,আপনি এর বেশি আশা কইরেন না,আমাদের বাংলা সাহিত্য আধুনিক আর উত্তরাধুনিকের চিপায় পড়ে আজ বিরান ভূমি,তার উপর দিয়ে উড়ে বেড়ায় সু-চিল নামের অদ্ভূত তকিছু প্রাণি যারা কেবল মিডিয়া কেমেরা দেখলে মাটিতে নামে,আপনার বি যতই শিল্প সমৃদ্ধ হোক না কেন এরা ছুঁয়েও দেখবেনা,তাই বলে আপনার প্রতি তাদের দায়িত্ব কিন্তু কমনা,আজ আপনি মরে গেলে কাল হতে শুরু করে আপনর প্রতি জন্ম অথবা মৃত্যু বার্ষিকিতে পত্রিকায় বিবৃতির বন্যা ছুটাবে,মাইন্ড নিয়েন না গো আমার ফ্রেন্ড লিস্টে এরকম অনেক সু-চিল আছেন যাদের ভিবিন্ন টি.বি চেনেলে লাইভ অনুষ্টান দেখার দাওয়াতের ভয়ে ফেসবুকে ঢুকতে ভয় হয় তাদের বলছি বইটা পড়ে দেখতে পারেন অনেক কিছু শিখতে পারবেন, এবং গোলাপগঞ্জের মানুষের প্রতি অনুরোধ বইটি পড়–ন নিজেকে চিনুন।
সত্যি যুগে এক যাদুকর যাদু দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিত। ঈশ্বর রেগে গিয়ে তাকে পৃথিবী হতে উঠিয়ে নিয়ে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করায়ে বললেন তুমি মানুষের সাথে এমন ধোঁকাবাজি করলা কেন? সে করলো কি ঈশ্বরকেও যাদু দেখাতে শুরু করলো, ঈশ্বর হেসেছিলেন। সমস্ত ফেরেশতারা জানতে চাইলেন প্রভূ হুকুম করুন, ঈশ্বর বললেন শোন পৃথিবীতে যারা আমার ইবাদত করে তারা আমাকে খুশি করতে চায়। কিন্তু এই বোকা লোকটি এই ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই জানে না যা দিয়ে আমাকে খুশি করবে। তাই আমার সামনে তার যথা সাধ্য ধোঁকাবাজি শুরু করেছে আর আমিও তাতে খুশি হয়ে গেছি যাও তাকে জান্নাতে নিয়ে যাও। তেমনি জীবনে পারার মধ্যে এক কবিতা লেখার চেষ্টা করতে পারি। ফারুক আহমদের বই ভাল লেগেছে, এই ভালোবাসার ঋণ শোধিতে আমি অক্ষমের কবিতার অপপ্রয়াস,যদিও জানি তাঁর ঋণ কোনভাবে শোধ হবে না।

একটি আত্ম জিজ্ঞাসা সূক্ষজাল রাত্রির পথে ঘুরে
নাগরিক তর্কে উঠে এলো-যেদিন পিতা বলতে
বর্ণমালার ভিতর তাদের কোন স্মারক চিহ্ন ছিলো না।

একজন কপঠ তান্ত্রিক সাথে করে নিয়ে এসে পোষা বেজী
তার স্বরে চিৎকার করে উঠলেন সবই মন্ত্রের মুগ্ধতা
একজন বহুদর্শীর আতস কাচের নিচে
আয়ুর্বিদ্যা অনুদূতি হলো- এই পরিপাঠি পৃথিবী
হঠাৎ ডাকে পাওয়া, প্রেমিকার চিঠি নয়।

তান্ত্রিকের চক্ষুমূলে বহুদর্শীর শুষমা এমন করুন
অতলে ধাবিত অশ্রুয় স্নাত হয়ে
সময়ের সন্তরনে বহুদর্শী আজ ইতিহাস আশ্রিত।

তবু মেঘোলীন স্বন্ধ্যার অন্ধকারে- মুহুর্তের বজ্র বিদ্যুতে
তিনি দৃশ্যমান হলে সবাই ভাবে
তিনি আজো এই পৃথিবীতে আছেন।
একজন অসংলগ্ন তার তরে বলে উঠে
তুমি তো শেখালে মা মানে পবিত্র জল
হে আধোলীন ইতিহাসের নাবিক,
পৃথিবীর শেষ আয়ু পর্যন্ত ভূগোলের পাঠে
বালকেরা তোমাকে পড়ে পড়ে বুড়ো হবে।

লেখক:
স্বপন রহমান
কবি ,প্রাবন্ধিক, ও সাংবাদিক

‘ভেড়া বা শিয়ালের মতো দু’শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দু’দিন বেঁচে থাকাও ভালো:টিপু সুলতান

ইতিহাসে তিনি শের-ই-মহীশূর নামে পরিচিত। ভারতবর্ষের প্রথম স্বাধীনতাসংগ্রামী বলা হয় যাকে। নাম তার টিপু সুলতান। 

টিপুর বাঘ (শের) হয়ে ওঠার পেছনে মূল কারণ ছিল তার অসাধারণ দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা, ক্ষিপ্রতা ও কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা এবং সমর নৈপুণ্য। 

শের-ই-মহীশূর টিপু সুলতান

টিপু সুলতানের অমর সেই উক্তি -‘ভেড়া বা শিয়ালের মতো দু’শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দু’দিন বেঁচে থাকাও ভালো’ এই কথা থেকেই তা অনুমান করা যায় তার সাহসী চরিত্র। বর্তমানে তারই প্রজন্ম কিনা রিকশাচালক!   

আপনি হয়তো কলকাতার টালিগঞ্জে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে রিকশায় নিশ্চয় চড়েছেন। রিকশাচালক আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছেও দিয়েছে। কিন্তু কখনো কি জানতে চেয়েছেন তার বংশ পরিচয়? নিশ্চয় না! জানেন কি এক সময়কার পুরো দাক্ষিণাত্যের অধীশ্বর, যার ভয়ে কাঁপতো ব্রিটিশ সরকারও। তাকে এতোটাই সমীহ করা হতো যে, নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সঙ্গে এক আসনে তাকে বসান ব্রিটিশ ইতিহাসবিদগণ। ভাবছেন কার কথা বলছি? তিনিই ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসক টিপু সুলতান। তার পিতা হায়দার আলী ছিলেন মহীশূর রাজ্যের সেনাপতি।

টিপু সুলতানের বর্তমান প্রজন্ম রিকশাচালক

তবে এক সময়কার সেই প্রতিপত্তির কোনো কিছুই তার বংশধরদের মধ্যে আর অবশিষ্ট নেই। তারা এখন কেউ রিকশা চালান। আবার কেউ অন্যের বাড়িতে কাজ করছেন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে।

ধন ঐশ্বর্যের সুলতান এবং তার বংশধরদের ওপর সম্প্রতি করা হয়েছিল একটি তথ্যচিত্র। আধঘণ্টার সেই তথ্যচিত্রের নাম ছিল ‘টিপু সুলতান দ্য মিস্ট্রি অব হিস্ট্রি।’  সেখানে টিপু সুলতানের পরবর্তী সপ্তম উত্তসূরী আনোয়ার আলী শাহকে দেখানো হয়েছে, যিনি সংসার পরিচালনা করছেন রিকশা চালিয়ে। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে যে রাস্তায় তিনি রিকশার প্যাডেল ঘুরান সেই রাস্তাও তার প্রোপিতামহ প্রিন্স গোলাম মোহাম্মদের নামে।

আনোয়ার আলীর বাকি ভাইয়েরাও তার মতো কেউ রিকশা চালান আবার কেউ সেলাইয়ের কাজ করেন। তারা থাকেন বস্তির খুবই নোংরা পরিবেশে। তাদের স্বপ্ন একদিন মহীশূরে যাবেন। যেখানে সূর্যের আলোয় ঝলমল করে উঠত টিপু সুলতানের খোলা তরবারি। অথচ কলকাতাতেই ছিল টিপু সুলতানের বিশাল সম্পদ। তা দিয়ে রাজার হালেই থাকার কথা তার বংশধরদের।

বর্তমানে রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাব, টালিগঞ্জের ক্লাব এ সবই টিপু সুলতানের জায়গায়। যার মালিকানা এখন প্রিন্স গোলাম মোহাম্মদ ট্রাস্টের।

নামমাত্র টাকায় লিজ দেয়া আছে এসব জমি। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায়, টিপু সুলতানের বংশধররা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের প্রাপ্য থেকে। আবার ট্রাস্টের দাবি টাকা দিলে নয়ছয় করেন টিপু সুলতানের বংশধররা। তাছাড়া ট্রাস্টের দায়িত্ব টিপু সুলতানের সম্পদের রক্ষনাবেক্ষন করা। এছাড়াও পার্ক স্ট্রিট, চৌরঙ্গী, থিয়েটার রোড, দক্ষিণ কলকাতার বিস্তর জায়গার মালিক টিপু সুলতান। কিন্তু এসব কিছুর ভোগ থেকে বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে তার বংশধরদের।

তার বংশধরদের অনেকেই মধ্যবিত্ত অবস্থায়ও দিনাতিপাত করছেন। তবে রয়্যাল শব্দটি তাদের মধ্যে আর নেই। অথচ এখনো ভারতে অনেক রাজবংশের মানুষ রাজার হালেই বসবাস করছেন। আসল কথা হলো, যারা ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন তারা টিকে আছেন এখনো কোনো না কোনো ভাবে। আর যারা আপোসে যাননি তাদের গরিমাই আজ ধূলোয় মিশে গেছে।

১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরঙ্গপত্তনম নামের যুদ্ধে পরাজিত হন মহীশূরের শাসনকর্তা টিপু সুলতান। এরপর ব্রিটিশরা তাকে হত্যা করে। মৃত্যুকালে টিপু সুলতানের চার জন স্ত্রী, ১৫ জন পুত্র এবং কমপক্ষে আট জন কন্যা সন্তান ছিল।

টিপুর এক সেনাপতি মীর সাদিক বিশ্বাসঘাতকতা করে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মেলান। পরে তার পরিবারের লোকজনকে ভেলোরের দুর্গে বন্দী করে রাখে ব্রিটিশ শাসকরা। এরপর তারা টিপু সুলতানের আরো তিনশ আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের কলকাতায় নির্বাসনে পাঠানো হয়।

টিপু সুলতানের জন্ম ২০ নভেম্বর ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি বীরত্ব সহকারে যুদ্ধ করেন। তিনি তার শৌর্যবীর্যের কারণে শের-ই-মহীশূর (মহীশূরের বাঘ) নামে পরিচিত ছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ভারতের বীরপুত্র বলা হয় তাকে। তিনি বিশ্বের প্রথম রকেট আর্টিলারি এবং বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করেছিলেন। এ উক্তিটি লিখেছেন মুজাহিদীন।

টিপু সুলতানকে ডাকা হতো শের-ই-মহীশূর; উপাধিটা ইংরেজদেরই দেয়া। তার এই বাঘ (শের) হয়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কিত ছিল। বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরী ছিলেন টিপু  সুলতান। বাবা হায়দার আলী, ১৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে টিপু নামে এক ফকিরের দোয়ায় এক পুত্রসন্তান লাভ করেন এবং আনন্দচিত্তে ওই ফকিরের নামেই ছেলের নাম রাখেন টিপু। মহীশূরের স্থানীয় কানাড়ি ভাষায় ‘টিপু’ শব্দের অর্থ হলো বাঘ। হয়তো তাকে ‘শের-ই-মহীশূর’ ডাকার পেছনে এটাও একটা কারণ ছিল।

ছোটবেলা থেকেই টিপু, বাঘের গল্প শুনতে ভালোবাসতেন। বাবা হায়দার আলীই তাকে বাঘের গল্প শোনাতেন। এরপর কিশোর বয়সে টিপু সুলতান বাঘ পুষতে শুরু করেন। বাঘ নিয়ে তার ব্যঘ্রতার শেষ ছিল না। হায়দার আলীর মৃত্যুর পর তিনি  সিংহাসনে আরোহণ করলেন। বাবার পুরনো সিংহাসনটি তার ঠিক পছন্দ হলো না। তাই তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ কারিগর দিয়ে কাঠের ফ্রেমের ওপর সোনার পাত বসিয়ে তার ওপর মণিমুক্তা ও রত্নখচিত একটি সিংহাসন বানিয়ে নিলেন। যাকে ‘ব্যাঘ্রাসন’ই বলা যায়।

কারণ আট কোণা ওই আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিল একটি বাঘের মূর্তি। আট ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিল সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি দশটি বাঘের মাথা। আর উপরে উঠার জন্য ছিল দুইধারে রূপার তৈরি সিঁড়ি। এমনকি পুরো ব্যাঘ্রাসনটাই ছিল বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা।

টিপু সুলাতের সমস্ত পরিধেয় পোষাক ছিল হলুদ-কালো রঙে ছাপানো আর বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন, তার গায়েও ছিল ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিল খোদাই করা বাঘের মূর্তি। সুলতানের ব্যবহৃত রুমালও ছিল বাঘের মতো ডোরাকাটা। এমনকি রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোষাকে থাকতো বাঘের ছবি। 
সৈন্যদের ব্যবহার্য তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নল, কুদো, হ্যামারেও আঁকা থাকতো বিভিন্ন আকারের বাঘের প্রতিরূপ কিংবা মূর্তি। এমনকি তিনি তার রাজ্যের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে, বাড়ির মালিকদেরকে বাড়ির দেয়ালে বাঘের ছবি আঁকার নির্দেশ জারি করেছিলেন। তখনো তার বাঘ পোষার বাতিক যায়নি এবং রাজবাড়িতে বেশ কয়েকটি পোষা বাঘ ছিল। তার কয়েকটি আবার তার ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকতো।

১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর ও তার বাহিনীর কাছে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধে টিপু ও তার বাবা মারাত্মক নাজেহাল হন এবং টিপুর রাজ্যে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়, নিহত হয় অনেক সৈন্য। এমনিতেই তিনি প্রচণ্ড ইংরেজ বিরোধী ছিলেন, তদুপরি এই পরাজয়ে তিনি আরো বেশি তেজদীপ্ত হয়ে ওঠেন।

ঘটনাক্রমে ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে হেক্টর মুনরোর একমাত্র পুত্র সুন্দরবনের সাগর দ্বীপে বাঘ শিকার করতে গিয়ে বাঘ আক্রমণে নিহত হয়। এরপর ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশদের কাছে তার নিজের মানুষদের বিশ্বাস ঘাতকতায় পরাজিত এবং নিহত হন।

ডেইলি বাংলাদেশ#

বাংলাদেশী সমকামী নারী বিয়ে করেছেন আমেরিকান আরেক নারীকে! অসহায় অভিবাবক ।

Image may contain: 2 people

নববধূর নাম ইয়াশরিকা জাহরা হক (৩৪)। বাবার নাম ইয়ামিন হক, মায়ের নাম ইয়াসমিন হক। ইয়াশরিকা জাহরা হক ওয়াশিংটনের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র‍্যাজুয়েশন করেছে। তারপর ইলিনয়েসের নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছে। বর্তমানে ম্যানহাটনের একটি ল’ ফার্মে এসোসিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। জাতিগতভাবে বাঙালি ইয়াশরিকা হক বিয়ে করে মার্কিন যুবতী এলিকা রুথ কুকলিকে (৩১)। ইয়াশরিকা হকের পরনে ছিল লাল টুকটুকে বেনারসি। অর্নামেন্টস পয়েন্টে নানন্দিক সোনার গহনা। দু’হাতের কনুই থেকে হাতের তালু পর্যন্ত মেহেদির আলপনা। ব্রুকলিনের ২৪০ কেন্ট এভিনিউ’র “The W LOFT” ওয়েডিং ভেন্যুতে সাউথ এশিয়ান রিচুয়াল ফলো করে মহা ধুমধামে ইয়াশরিকা– এলিকা দুই লেসবিয়ানের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসে এই দুই লেসবিয়ানের বিয়ে নিয়ে একটি বিশেষ আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসে উল্লেখ করা ছিল, এই বিয়েতে আনুমানিক হাফ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল।

Image may contain: 2 people, people smiling, people standing and outdoor

এলিকা রুথের পরনে ছিল অফ হোয়াইট কালার শেরওয়ানি, লাল পাজামা। দু’হাতে মেহেদির নকশা। গলায় মুক্তার মালা। এলিকা পেশাগতভাবে একজন অডিওলজিস্ট।

অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশী কন্যার অভিবাবক এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি । উল্লেখ আমেরিকায় সন্তান প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পর বাবা মা কোন কারনেই বা কোন প্রকার কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না এমন কি কোন বয়সেই পিতা মাতা স্পন্তান দের কোন প্রকার মানুষিক বা শারিরিক নির্যাতন বাধা নিষেদ করতে পারে না যদি কোন অভিবাবক করে তবে সন্তান ইচ্ছে করলে পুলিশ এ জানিয়ে মা বাবা কে আইনের আয়ত্তে আনতে পারবে ।

Image may contain: 3 people, people smiling, people standing

আমিরিকায় সমকামীতা বৈধ

নিউজ সুত্র যুবরাজ শাহাদাত হসেইন এর ফেসবুক থেকে

প্রেম এর মরা জলে ডুবে না !

কনের মাকে নিয়ে পালালেন বরের বাবা! ছবি প্রতীকী

আর পাঁচটা বর-কনের মতোই বিয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন দুই তরুণ-তরুণী। রাজকীয় সমারোহে সকলের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিয়ের আয়োজনে নিজের পছন্দের মানুষকে আপন করে নেওয়ার চিন্তায় বিভোর ছিলেন পাত্র-পাত্রী। 

কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে দিলেন তাদের অভিভাবকরাই। ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই পাত্রীর মাকে নিয়ে পালালেন বরের বাবা। সম্প্রতি এই অবাক করার মতো ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের গুজরাটের সুরাট এলাকায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফ্রেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই পাত্র-পাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তবে গত ১০ দিন ধরে কোনো খোঁজ মিলছে না ৪৮ বছর বয়সী বরের বাবার এবং ৪৬ বছর বয়সী কনের মায়ের। স্বজনদের সন্দেহ, পুরনো প্রেম আবার নতুন করে শুরু হওয়ায় তারা দু’জনে পালিয়ে যেতে পারেন। এতে করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে দুই পরিবার। দু’পক্ষই স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে।

জানা যায়, বর-কনের পিতা-মাতা একই এলাকায় থাকার সুবাদে আগে থেকেই দুজনকে চিনতেন। তারা পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কয়েকজন বন্ধু জানান, তাদের আগেই সম্পর্ক ছিল। তবে আলাদা জায়গায় তাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা এক হতে পারেননি। 

অতি-ধনীদের সংখ্যা বৃদ্ধির দিক থেকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ প্রথম স্থান অধিকার করেছে

বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র হয়ে উঠল শোষক, আর জনগণ হতে লাগল শোষিত। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বিশ্ব দু’ভাগে বিভক্ত- শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’ তাই বুঝি দেশ-বিদেশের শোষকরা এক জোট হয়ে শোষিতের কাণ্ডারীকে হত্যা করল; রাষ্ট্রকে শোষণযন্ত্র বানানোর জন্য। শোষিত স্বল্পবিত্ত নাগরিকদের ‘দাবিয়ে রাখার জন্য’ তাদের ওপর শাসন-শোষণ চালানোর জন্য। কিন্তু অবাক হই, ব্যথিত হই যখন দেখি বঙ্গবন্ধু-কন্যার দশককালের অধিক সময়ে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও স্বল্পবিত্তের ওপর শোষণ প্রক্রিয়া শুধু অব্যাহতই থাকেনি, আরও শক্তিশালী হয়েছে। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক সরকারের ওপর অতি-ধনীদের প্রভাব বেড়েই চলেছে। বঙ্গবন্ধু সংবিধানে লিখে গিয়েছিলেন ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ [৭(১)]’। নাগরিকের মালিকানা এখন ছিনিয়ে নিয়েছে স্বল্পসংখ্যক নব্যধনিক গোষ্ঠী। রাষ্ট্র এখন তাদের। তারা এখন রাজা। নাগরিকরা হয়েছে প্রজা। ধনীদের শনৈঃশনৈঃ উন্নতি। অতি-ধনীদের সংখ্যা বৃদ্ধির দিক থেকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এদেশে অতি-ধনীদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৭ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকেও অতিক্রম করে গেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বাংলাদেশে শোষণের ব্যাপ্তি ও গভীরতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শোষণের দু’একটি প্রক্রিয়া ও দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা যাক।

বাংলাদেশে কোনো নাগরিকের বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা হলেই তাকে আয়কর দিতে হয়। ধনী দেশের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। বাংলাদেশের মতোই দরিদ্র ও উন্নয়নশীল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কোনো নাগরিকের বার্ষিক আয় ৫ লাখ রুপি (বাংলাদেশের ৬ লাখ টাকা) হলে আয়কর প্রদান করতে হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশি ৬ লাখ টাকার বেশি আয় না হলে একজন ভারতীয় নাগরিককে আয়কর দিতে হয় না। এর অর্থ দাঁড়ায় এই যে, ভারত স্বল্প আয়ের মানুষদের একটু ভালো রাখতে চায়। বছরে ৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ আয়ের অর্থ হলো গড়ে মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা। ভারতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও মূল্যস্টম্ফীতি বিবেচনা করলে মাসিক ৫০ হাজার টাকা আয়ে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা স্বচ্ছন্দে চলে যায়। এর বিপরীতে বাংলাদেশে মাসিক মাত্র ২০ হাজার ৮০০ টাকা আয়ে মধ্যবিত্ত দূরের কথা, নিম্ন ও স্বল্পবিত্তেরও সংসার চলে না। এই স্বল্প আয় থেকে ট্যাক্স কেটে নিলে গভীর সংকটে থাকে পরিবার। মাসিক ২০-২১ হাজার টাকার মধ্যে ৪/৫ জনের খাওয়া খরচ, কাপড়চোপড়, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচ কীভাবে চলতে পারে, তা হিসাবকেই বিপর্যস্ত করে ফেলে। কীভাবে চলছে, তাও একটু দেখা যাক। খাবারের তালিকায় মাছ-মাংস প্রায় অনুপস্থিত। কখনও সবজি আবার কখনও ভর্তা-ভাজি। ডালও নিয়মিত থাকে না। ছেলেমেয়েদের খাইয়ে কখনও বাবা-মা আধাপেট খান, কখনও উপোস থাকতে হয়। পরিচ্ছদ বলতে এক কাপড়ে চলেন অনেকেই। কেউ আবার কম দামে পুরোনো কাপড় ক্রয় করেন। আমি দর্জির দোকানে স্বচক্ষে দেখেছি, দু’ভাই একসঙ্গে এসে দু’জনের জন্য একটি প্যান্ট তৈরির অর্ডার দিচ্ছে। বাইরে যাবার সময় যার বেশি প্রয়োজন (ইন্টারভিউ ইত্যাদি) সে পরবে। দর্জির ব্যবস্থাপনা দেখে মনে হলো, সে এ ধরনের কাজে অভ্যস্ত।

বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি আরও বিস্ময়কর। বিশেষ করে ঢাকার মতো মহানগরীতে। দু’কক্ষের একটি ছোট্ট বাসায় দুটি পরিবার একত্রে বসবাস এখন বহুল প্রচলিত। এ ছাড়া সরকারি কোয়ার্টারে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্যকে ভাড়া দিয়ে নিজে মেসে থাকেন, এমন দৃষ্টান্ত বিরল নয়। এর পরও বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল যেন বোঝার ওপর শাকের আঁটি। চিকিৎসার অবস্থা স্বল্প ও মধ্যবিত্তের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়। ভীষণ কষ্টকর বা বেদনাদায়ক না হলে কোনো অসুখকে অসুখ জ্ঞান করেন না অনেকেই। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার অর্থই হলো সংসারের ব্যয়ে চাপ সৃষ্টি।

অধুনা আরও একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে। বৃদ্ধ মা-বাবাকে সংসারের বোঝা মনে করা হয়। বৃদ্ধ মা-বাবার প্রয়োজন একটু ভিন্ন খাবার। কিন্তু ২১ হাজার টাকা আয়ে তো ব্যয় সংকুলান হয় না। পরিবারপ্রধানের দ্বন্দ্ব থাকে, মা-বাবাকে একটু পুষ্টিকর খাবার দেবে, নাকি নিজ সন্তানের প্রয়োজন মেটাবে। ঢাকার আশপাশে বৃদ্ধনিবাস রয়েছে। আমি গিয়েছি, বৃদ্ধদের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমার ভুল ভেঙেছে। এখানে মধ্যবিত্ত ঘরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যাই বেশি। সন্তানদের আর্থিক অবস্থা খারাপ নয়। তবুও মা-বাবাকে বৃদ্ধনিবাসে থাকতে হচ্ছে। এখানে আর্থিক দুরবস্থার সঙ্গে মানসিক দৈন্যের সমাবেশ ঘটেছে।

বর্তমানকালে স্বল্প বা মধ্যবিত্তের ঘরে আরেকটি নতুন উপাদান যোগ হয়েছে। স্বামীর স্বল্প আয়ে যখন টানাটানিতেও সংসার চলে না, তখন স্ত্রীও আয়ের সঙ্গী হন। উচ্চশিক্ষিত হলে ভালো চাকরিই পেয়ে যান। কম শিক্ষিত হলে ছোটখাটো কাজ করে কিছু উপার্জনের চেষ্টা করেন। উদ্দেশ্য একটাই- আর্থিক অসচ্ছলতার উত্তাল তরঙ্গে সংসারের ছোট্ট তরীটি যেন ডুবে না যায়। দু’জনের আয়ে গোঁজামিলে সামাল দেওয়া যায়। কিন্তু দারুণ কষ্টে নিপতিত হয় শিশু সন্তান।

ওপরে যে বর্ণনা দিলাম, সবই কিন্তু রাষ্ট্র কর্তৃক নিগৃহীত আয়কর প্রদানকারীদের কথা। মাসিক ২১ হাজার টাকা রোজগার করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়তো আয়কর ফাঁকি দিতে পারেন। কিন্তু চাকরিজীবীদের অবস্থা বেঁধে রেখে পিটুনি দেওয়ার মতো। এদের বেতন থেকে আয়কর কেটে রাখে নিয়োগকারী। বেতনের অবশিষ্ট টাকা চাকরিজীবীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার অর্থ দাঁড়ায়, ২১ হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরিজীবী প্রকৃতপক্ষে বেতন পান কমবেশি ১৮ হাজার টাকার মতো। ১৮ হাজার টাকা বেতন হলে আয়কর দিতে হবে না। কিন্তু ২১ হাজার টাকা বেতন হলে আয়কর কাটার পর ১৮ হাজার টাকা হাতে পাবে। সরকার কি ১৮ হাজার টাকায় সংসার চালানোর হিসাবটা মিলিয়ে দিতে পারবে?

বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় কমবেশি ১৯শ’ ডলার ছিল। এখন ২০০০ ডলার হবে। অর্থাৎ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এই গড় আয় কিন্তু কারও প্রকৃত আয় নয়। দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা ১০ শতাংশ এবং দরিদ্রের সংখ্যা ২০ শতাংশ। এরা আজকের টার্গেট গ্রুপের অনেক নিচে। দেশের অর্ধেকের বেশি সম্পদ মাত্র ১০ শতাংশ অতি-ধনী মানুষের কাছে। অনেকের প্রশ্ন- অতি-ধনীরা কত টাকা আয়কর দেন? এ পরিসংখ্যান জনগণের কাছে পরিবেশিত হয় না।

জাতীয় আয়ের কত অংশ টাকা কর হিসেবে সরকার আয় করে থাকে, তার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। ট্যাক্স :জিডিপি অনুপাত বাংলাদেশে মাত্র ১০ শতাংশ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই অনুপাত ২০ শতাংশ, নেপালে ২৫ শতাংশ। এর সাদামাটা অর্থ হলো, ভারত ও নেপালে অতি-ধনী এবং ধনীরা ট্যাক্স দেয়। সে জন্য তাদের ট্যাক্স আদায়ের অনুপাত বেশি। বাংলাদেশে অতি-ধনী ও ধনীরা হয় ট্যাক্স দেয় না অথবা ফকিরকে ভিক্ষা প্রদানের মতো যৎসামান্য দেয়। বাংলাদেশে স্বল্পবিত্তের কাছ থেকে নিংড়ে ট্যাক্স আদায় করা হয় ধনীদের রেহাই দেওয়ার জন্য। একটি প্রশ্ন এখানে প্রাসঙ্গিক। ভারত ৬ লাখ টাকার নিচে যাদের বার্ষিক আয়, তাদের আয়কর থেকে রেহাই দিয়েও জিডিপির ২০ শতাংশ কর আদায় করে। সেখানে বাংলাদেশে মাত্র আড়াই লাখ টাকা বার্ষিক আয়ের ব্যক্তির কাছ থেকে কর আদায় করেও জিডিপির মাত্র ১০ শতাংশ কর আদায় করছে কেন?

আয়কর কি গরিব মারার ব্যবস্থা? নাকি অতি-ধনীর কাছ থেকে কর আদায় করে স্বল্পবিত্তের মানুষের জন্য ব্যয় করার ব্যবস্থা? রাজস্ব বোর্ডের উচিত এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করা। তবে মানুষের ধারণা এ রকম, শক্তিশালী ধনীচক্রের কাছ থেকে সঠিক পরিমাণ আয়কর আদায় দূরের কথা, তাদের ধারে-কাছে ঘেঁষার সাধ্য আয়কর বিভাগের নেই। আরেক শ্রেণির ধনী রয়েছেন, যারা স্বল্প পরিমাণ কর পরিশোধ করেন এবং নথি ঠিক রাখার জন্য কিছু উপহার প্রদান করেন কর্মকর্তাদের। এর বিপরীতে সুদাসলে কর আদায় করা হয় স্বল্প ও মধ্যবিত্তের কাছ থেকে, যারা ক্ষমতার দিক থেকে দুর্বল। স্বল্প-মধ্যবিত্তের কাছ থেকে আদায়কৃত আয়করই জিডিপির ১০ শতাংশ।

রাজস্ব বোর্ড প্রায়ই কর্মচারীস্বল্পতার কথা বলে থাকে। দেশের অগণিত চুনোপুঁটি ধরার জন্য কর্মচারীর বহর বাড়িয়ে লাভ নেই। খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি হবে। অগ্রাধিকারের নজরটা চুনোপুঁটির দিক থেকে সরিয়ে রাঘববোয়ালদের দিকে ফেরান। রাঘববোয়ালদের সংখ্যা কম এবং আয়-সম্পদ অনেক বেশি। অধিক সংখ্যক আয়কর কর্মকর্তার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন ক্ষমতার সদিচ্ছা ও সততার। ধনীদের প্রতিটি নথি আপসের বিনিময়ে বিস্তর অর্থপ্রাপ্তি ঘটে। পারবেন লোভ সামলাতে? লোভ সামলানোর মতো ইমানদার লোকও স্বল্প সংখ্যায় রয়েছেন। বিগত সময়ে কাস্টমসে সৎ কর্মকর্তার হয়রানি এবং প্রাণনাশের ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। তাই মূলকথা হলো, অতি-ধনীদের ক্ষমতা ও দুঃসাহসের লাগাম টেনে ধরতে হবে। আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এখানেই প্রয়োজন রাষ্ট্রযন্ত্র তথা সরকারের কমিটমেন্ট ও সহায়তা। আয়কর সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কারণ এটি একটি দ্বিমুখী অস্ত্র। বাজেটের একটা বড় অংশ জোগান দেয় আয়কর। জোগান কম হলে ঋণ বেড়ে যাবে, যা কাঙ্ক্ষিত নয়। জোগান বেশি হলে বাজেটের মাধ্যমে স্বল্পবিত্তদের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়ানো যায়, যা আয়-বৈষম্য হ্রাসে সহায়ক। একই সঙ্গে উচ্চবিত্তের কাছ থেকে আয়কর আহরণ করতে পারলেও আয় বৈষম্য কমবে।

সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়েসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্রগুলো ইউরোপে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত অথচ নিম্নতম আয় বৈষম্যের দেশ হিসেবে সুনামের অধিকারী। এসব দেশে জিনি কোয়েফিশিয়েন্ট দশমিক ৩ শতাংশের আশেপাশে রয়েছে, যা নিম্ন পর্যায়ের আয় বৈষম্য নির্দেশ করে। বর্তমানে জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ দ্রুত আয়-সম্পদ বৈষম্য কমিয়ে আনছে। স্বল্প আয় বৈষম্য মানবাধিকার তথা সভ্যতার নির্দেশক। বাংলাদেশ যতই জাতীয় আয় প্রবৃদ্ধির বড়াই করুক না কেন, আয় ও সম্পদের বৈষম্যের দিক থেকে এর অবস্থান লজ্জাজনক। দশমিক চার নয় (.৪৯) জিনি সহগ নিয়ে বাংলাদেশ একটি নিপীড়ক রাষ্ট্রে পরিগণিত। বঙ্গবন্ধুর স্বল্প বৈষম্যের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করতে হলে জিনি সহগ দশমিক চারের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর প্রদর্শিত সাফল্য অনুকরণ করে আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে এই পথে বেশ খানিকটা অগ্রসর হওয়া সম্ভব। এই সংস্কারের লক্ষ্য হবে তিনটি- (১) আয়কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ভারতের সমান অর্থাৎ ২০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। (২) স্বল্প আয়ের কষ্টে থাকা নাগরিকদের কষ্ট লাঘবে নিম্নতম আয়করযোগ্য বার্ষিক আয় ছয় লাখ টাকা (ভারতের পাঁচ লাখ রুপির সমান) নির্ধারণ করতে হবে। (৩) আয়কর আদায় তৎপরতা সফল করতে হবে অতি-ধনীদের থেকে শুরু করে নিচের দিকে; উল্টোটা নয়। এই লক্ষ্যে রাজস্ব বোর্ড সম্পদের পরিমাণ অনুযায়ী একটি তালিকা প্রতি বছর রেডি রেফারেন্সের জন্য প্রস্তুত করবে। নমুনা তালিকা নিম্নরূপ হতে পারে :

(ক) ১০০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে সম্পদ আছে এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের তালিকায় কতজন আছে এবং কত টাকা আয়কর দিয়েছে। (খ) ৭৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং ১০০০ কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং তাদের প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ। (গ) ৫০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং ৭৫০ কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ। (ঘ) ২০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ও ৫০০ কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও আয়করের পরিমাণ। (ঙ) ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং ২০০ কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও আয়করের পরিমাণ। (চ) ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং ৫০ কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও আয়করের পরিমাণ। এবং (ঘ) ৫ কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও আয়করের পরিমাণ।

অধিক সম্পদের তালিকায় নিবিড় তদারকি থাকবে। ইনটেলিজেন্স ও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ফলপ্রসূ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সবকিছুর লক্ষ্য হবে আয়কর-জিডিপি অনুপাত অন্তত ২০ শতাংশে উন্নীত করা, উচ্চ-আয়ের ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের আয়কর সঠিকভাবে আদায় করা এবং বার্ষিক ছয় লাখ টাকার নিচে স্বল্পআয়ের ব্যক্তিদের আয়করের আওতার বাইরে রাখা। এ সবকিছুই আয়-সম্পদ বৈষম্য কমাবে এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। এতে হিংসা-বিদ্বেষ হ্রাস পেয়ে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি পাবে।

সাবেক ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ

নিউজ সুত্র সমকাল

যে সব রোগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়

ক্যানসারের চেয়েও ভয়াবহ রোগ সেপসিস

যে সব রোগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায়, তার মধ্যে সেপসিস বা রক্তদূষণ অন্যতম৷ ব্যাকটেরিয়ার ছোট্ট সংক্রমণ থেকে শুরু হয়ে অতি দ্রুত রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এই দূষণ৷ বিশ্বজুড়ে বছরে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ সেপসিসে মারা যাচ্ছেন। যে সংখ্যা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও বেশি। যার অর্থ বিশ্বজুড়ে বছরে যত মানুষ মারা যান, তাদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কারণ এই সেপসিস। সেপসিসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। তবে ধনী দেশগুলোকেও এই সেপসিস মোকাবেলায় কাজ করতে হচ্ছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে।সেপসিস কি?সেপসিস এক ধরনের গুপ্তঘাতক। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত কাজ করার ফলে এই সেপসিস হতে পারে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা কেবল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিবর্তে শরীরের অন্য অংশগুলোতেও আক্রমণ শুরু করে। একপর্যায়ে মানুষের অঙ্গ অকেজো হয়ে যায়। এমনকি বেঁচে থাকা মানুষকেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও অক্ষমতা নিয়ে চলতে হতে পারে।সেপসিস হলো ইনফেকশন সম্পর্কিত বিষয়। এর মানে হচ্ছে মানুষ যখন অসুস্থ হয়, যেমন রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, হার্ট রেট বেড়ে যাচ্ছে, জ্বর হচ্ছে, শ্বাসের সমস্যা হচ্ছে, এমন অবস্থাকেই সেপসিসের সংক্রমণ বলা হচ্ছে। সেপসিস যখন আক্রমণ করে যেমন—ফুসফুস অকার্যকর, ফুসফুসে সমস্যা, কিডনি অকার্যকর, হার্ট অকার্যকর-তখন বলা হয় জটিল অবস্থায় আছে সেপসিস। রোগীর প্রেসার নেমে যায়, যে শকে চলে যায়, তখন তাকে বলা হয় সেপটিক শক। এই মরণঘাতক জীবনকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।গবেষক, সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টিনা রুড বলেছেন, উগান্ডার গ্রামাঞ্চলে কাজ করেছি এবং সেপসিসের ঘটনা আমরা প্রতিদিনই দেখি। তিনি বলেন, সেপসিসে আক্রান্ত হন সবচেয়ে বেশি নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। আর সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশুরা। পাঁচ বছরের কম বয়সী ১০ জন শিশুর মধ্যে চারজনের সেপসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।তবে যুক্তরাজ্যের জন্য সেপসিস একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স ও কানাডার মতো দেশের চাইতে ব্রিটেনে সেপসিসে মৃত্যুর হার বেশি। এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে সেপসিসের কারণে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ মারা যান।সেপসিস কী কারণে হয়?যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ থেকে সেপসিস হয়। তলপেটের সংক্রমণ, কিডনির সংক্রমণ, রক্তস্রোতের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া।সেপসিস কি ছোঁয়াচে?সেপসিস ছোঁয়াচে নয়। সংক্রমণের স্থান থেকে এটা রক্তস্রোতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়াতে পারে।সেপসিসের লক্ষণ ও উপসর্গহার্ট রেট বেশি (নাড়ির গতি), ঠাণ্ডা লাগা ও কাঁপুনিসহ জ্বর, খুব বেশি ঘাম হওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া, অপ্রত্যাশিত মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, প্রসাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অচেতন অবস্থা, দুর্বলতা ও রক্তচাপ কমে যাওয়া।কাদের ঝুঁকির হতে পারে?এটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে খুবই কম বয়সী বা প্রবীণদের হয়। অবশ্য, যেকোনো কারোরই ঝুঁকির কারণ দেখা যেতে পারে।

সেপসিসের লক্ষণপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে১. অস্পষ্ট কথা।২. চরম কাঁপুনি বা পেশিব্যথা।৩. সারাদিনে কোনো প্রস্রাব না হওয়া।৪. মারাত্মক শ্বাসকষ্ট।৫. দ্রুত হৃৎস্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা অনেক বা কম হওয়া।৬. ত্বকের রঙ একেক জায়গায় একেক রকম বা ছোপ ছোপ দাগ।শিশুদের মধ্যে১. চেহারা দেখতে নীলচে বা ফ্যাকাসে হয়। ত্বকের রঙ একেক জায়গায় একেক রকম দেখায়।২. খুব অলস থাকে বা ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়ে যায়।৩. শিশুর শরীর স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।৪. খুব দ্রুত শ্বাস নেয়া।৫. ত্বকে এক ধরনের ফুসকুড়ি হওয়া, যা আপনি চাপ দিলেও মুছে যায় না।৬. হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়া বা খিঁচুনিসেপসিস প্রতিরোধে করণীয়সংক্রমণের সংখ্যা কমিয়ে আনার মাধ্যমে সেপসিসে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো যেতে পারে। অনেক দেশের ক্ষেত্রে সেপসিস প্রতিরোধের উপায় হলো- সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও সঠিক সময় সঠিক টিকার যোগান।অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হলো, দেরি হওয়ার আগেই সেপসিস আক্রান্ত রোগীদের ভালোভাবে চিহ্নিত করা এবং দ্রুত তাদের চিকিৎসা শুরু করা। সূত্র: বিবিসি, ডয়েচেভেলে, ডব্লিউএইচও

বাঁশের বোতল নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

প্লাস্টিক বা কাচের বোতলে আমরা সবাই পানি ব্যবহার করে অভ্যস্ত! কিন্তু কখনো ভেবেছেন কি, বাঁশের পানির বোতল ব্যবহারের কথা! অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই। ভাবছেন বাঁশ দিয়ে আবার কীভাবে বোতল বানানো সম্ভব? সত্যিই এই অসাধ্য বিষয়টিকে সম্ভব করেছেন এক ব্যক্তি। তিনি বাঁশ দিয়েই তৈরি করেছেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পানির বোতল।

ভারতের আসামের এক ব্যক্তি এই প্রাকৃতিক বোতলের উদ্ভাবক। নাম তার ধির্তিমান বোরা। বর্তমানে তার তৈরি এই বাঁশের বোতল নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এটি শতভাগ ছিদ্রহীন। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে এই বাঁশের বোতল অনায়াসেই ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ সবারই জানা প্লাস্টিক মানুষের স্বাস্থ্য এমনকি পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর। বাঁশের তৈরি বোতলের উদ্ভাবক ধির্তিমান বোরো

বাঁশের তৈরি বোতলের উদ্ভাবক ধির্তিমান বোরোবর্তমান বিশ্বের অনেকেই প্লাস্টিকের বদলে এখন কাচের পাত্রে পানি পান করে। তবে কাচের বোতল শিশুদের জন্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বটে। এছাড়াও কাচের বোতল বেশ ভারী হয়ে থাকে। তবে এসব সমস্যার সমাধান রয়েছে বাঁশের বোতলগুলোতে। এগুলো পড়লেও ভাঙবে না। আবার বহন করাও বেশ ঝামেলাহীন।

উদ্ভাবক বোরা বিগত ১৭ বছর ধরে এই ছিদ্রহীন বাঁশের পানির বোতল তৈরি করেছেন। এটি তৈরির পর থেকেই তিনি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর সাড়া পাচ্ছেন। এই বোতলগুলো বাঁশের অঙ্কুর দ্বারা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি। তাই প্রচন্ড গ্রীষ্মকালেও এতে পানি ঠান্ডা থাকে। বোতলের বাইরের স্তরটি তেল দিয়ে পলিশ করে মসৃণ করা হয়েছে। আরো জেনে অবাক হবেন, বোতলের ছিপিটিও বাঁশের তৈরি। লিকপ্রুভ ব্যাম্বু ওয়াটার বোটল

লিকপ্রুভ ব্যাম্বু ওয়াটার বোটলধির্তিমান শুধু বাঁশের তৈরি বোতল তৈরি করেই ক্ষান্ক হনননি। তিনি আরো তৈরি করেছেন, বাঁশের চায়ের কাপ, মগ, চায়ের কেটলিসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস। এছাড়াও তিনি পাট দিয়ে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য তৈরি করে রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছেন। প্লাস্টিক পণ্যের পরিবর্তে বাঁশ ও পাটের পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই বোতল তৈরি করেছেন।

প্লাস্টিক-মুক্ত দেশ গড়তে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই অসাধারণ কাজটি সবার সামনে তুলে ধরেছেন। তার মতে, বাঁশের একটি বোতল তৈরি করতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। এই প্রাকৃতিক বোতলের দাম ৬০০ রুপির মধ্যে। প্লাস্টিকমুক্ত বিশ্ব গড়তে আমাদের অবশ্যই এমন ঘরানার প্রাকৃতিক জিনিস ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।

নিউজ সুত্র ডেইলি বাংলাদেশ

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী একটি রোগ রক্তদূষণ

ক্যানসারের চেয়ে ভয়াবহ রক্তদূষণ রোগ

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী একটি রোগ রক্তদূষণ বা সেপসিস। এটি রক্তের বিষ হিসেবেও পরিচিত। বিশ্বজুড়ে পাঁচজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে এই সেপসিসের কারণে। কোনো সংক্রমণ প্রতিরোধে শরীর যখন অনেক বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে তখন সেপসিসের উদ্ভব হয়।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, বছরে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ সেপসিসে মারা যাচ্ছে; আশঙ্কার কথা যা কী-না ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। গবেষকরা বলেছেন, এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান আগের ধারণার তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, সেপসিসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন দরিদ্র এবং মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ, তবে ধনী দেশগুলোকেও এই সেপসিস মোকাবিলায় কাজ করতে হচ্ছে।

সেপসিস কী? সেপসিস ‘গুপ্ত ঘাতক’ হিসেবেও পরিচিত। কারণ এটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অস্বাভাবিক কাজ করার ফলে এই সেপসিস হতে পারে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা কেবল সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিবর্তে শরীরের অন্যান্য অংশগুলিতেও আক্রমণ শুরু করে। এক পর্যায়ে মানুষের অঙ্গ অকেজো হয়ে যায়। এমনকি বেঁচে থাকা মানুষেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও অক্ষমতা নিয়ে চলতে হতে পারে। যেসব ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া সংক্রমণ বা ফুসফুসের রোগ হয়ে থাকে সেগুলোই সেপসিস হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড়ো কারণ। সেপসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির হার্ট রেট স্বাভাবিকের চাইতে বেশি হয়।

সেপসিসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মানুষ। শতাংশের হিসেবে যা প্রায় ৮৫%। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিশু এবং বৃদ্ধরা। পাঁচ বছরের কম বয়সী ১০ জন শিশুর মধ্যে চার জনের সেপসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সেপসিসে আক্রান্ত হওয়ার যেসব লক্ষণ রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, অস্পষ্ট কথা, চরম কাঁপুনি বা পেশী ব্যথা, সারাদিনে কোনো প্রস্রাব না হওয়া, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃত্স্পন্দন এবং শরীরের তাপমাত্রা অনেক বা কম হওয়া, ত্বকের রং একেক জায়গায় একেক রকম বা ছোপ ছোপ দাগ।

শিশুদের মধ্যে সেপসিসে আক্রান্ত হওয়ার যেসব লক্ষণ রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—চেহারা দেখতে নীলচে বা ফ্যাকাসে হয়, ত্বকের রং একেক জায়গায় একেক রকম দেখায়, খুব অলস থাকে বা ঘুম থেকে জাগানো কঠিন হয়ে পড়ে, শিশুর শরীর স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা অনুভূত হয়, খুব দ্রুত শ্বাস নিলে, ত্বকে এক ধরনের ফুসফুসি হলে এবং হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়া বা খিচুনি।-বিবিসি

চাঁদে হবে বাড়ি

চাঁদ ও মঙ্গলের বুকে ঘরবাড়ি বানানোর লক্ষ্যে বিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। ইট, সিমেন্ট ও বালু দিয়ে নয়, এসব বাড়ি বানানো হবে ছত্রাক দিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছত্রাকের মূল অংশ ‘মাইসেলিয়া’কেই এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কাজে লাগানো হবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারে ‘মাইকো-আর্কিটেকচার প্রজেক্টে’র প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর লিন রথসচাইল্ড গত রোববার নাসার ওয়েবসাইটে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, চাঁদ আর মঙ্গলে গড়ে তোলা সেই সব বাড়িতে শুধু মানুষ থাকবে, তা নয়। থাকবে ‘সায়ানোব্যাকটেরিয়া’ জাতের নানা ধরনের অণুজীবও। এরা বাঁচার প্রয়োজনে শুষে নেবে সৌরশক্তি, যা দিয়ে পানি ও বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসকে বদলে দেয় নিজেদের খাবার ও অক্সিজেনে। বায়ুমণ্ডলহীন চাঁদ ও মঙ্গলের বুকে আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাস হয়ে উঠবে ওই অক্সিজেন। পানি ও বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ভেঙে এসব অণুজীব বানাতে পারে আরও কিছু পদার্থ, যা খেয়ে মানুষ সেখানে বেঁচে থাকবে। পৃথিবীর বাইরে আমাদের বসতি বানাতে ধাতুর ব্যবহার যত কম করা যায়, সে কথা মাথায় রেখেই এবার কাজ করছে নাসা। সে লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ছত্রাক নিয়ে কাজ।

লিন রথসচাইল্ড জানান, চাঁদে ও মঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হবে ছত্রাক, যা অসম্ভব হালকা। ফলে বহনের ব্যয়ও কমবে। সুদীর্ঘ পথ পেরোনোর সময় ছত্রাক মরে যাবে না। এমনকি নিস্তেজও হয়ে পড়বে না। ছত্রাকের মাইসেলিয়ার বেড়ে ওঠার ক্ষমতা অসাধারণ। মঙ্গলে ও চাঁদের অসম্ভব রুক্ষ পরিবেশে দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে এই ছত্রাক।

বিজ্ঞানীরা জানান, চাঁদে ও মঙ্গলের বুকে বাড়িগুলো হবে ত্রিস্তরবিশিষ্ট গম্বুজের মতো। সবচেয়ে ওপরের স্তরে থাকবে জমাট বাঁধা বরফ। এটি অসম্ভব ক্ষতিকারক তীব্র বিকিরণের হাত থেকে বসতিগুলোকে বাঁচাবে। আর এ থেকে গলে পড়া পানি পৌঁছে যাবে দ্বিতীয় স্তরে থাকা ছত্রাক ও সায়ানোব্যাকটেরিয়া জাতের অণুজীবগুলোর কাছে। যারা সৌরশক্তি দিয়ে সেই পানিকে ভেঙে তাদের প্রয়োজনীয় খাবারদাবার পাবে। আর তৃতীয় স্তরে থাকা মাইসেলিয়াকেও রক্ষা করবে, যা থেকে ফের ছত্রাক গজাতে পারবে।

শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি চাই

শরিয়ত সরকার নামের এক বয়াতিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বয়াতি কারা, সবাই জানেন, তবু বলি। কবিগান বাংলা লোকসংগীতের একটি বিশেষ ধারা। এই ধারায় লোককবিরা প্রতিযোগিতামূলক গানের আসরে অংশগ্রহণ করে থাকেন। গায়ককে কবি হতে হয়। তিনি মুখে মুখে পদ রচনা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সুরারোপ করে গেয়ে থাকেন। কবিগান পরিবেশনকারীদের বলা হয় কবিয়াল, বাউল, বয়াতি, গায়েন। কবিগান সাধারণত দুটি দলের দ্বারা গীত হয়। প্রত্যেকটি দলের নেতৃত্বে থাকেন একজন ‘কবিয়াল’ বা ‘সরকার’। তার সহকারী গায়কদের বলা হয় ‘দোহার’।

কবিয়াল শরিয়ত সরকারকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো? তার অপরাধ হচ্ছে, তিনি কবিগানের আসরে বলেছেন, ‘গান-বাজনা হারাম কোরানের কোথাও বলা হয় নাই। কেউ যদি হারাম প্রমাণ দিতে পারে তবে তাকে আমি ৫০ লাখ টাকা দিব এবং জীবনের জন্য কবিগান ছেড়ে দেব।’ তার অপরাধ আরো আছে। তিনি ধর্মব্যবসায়ীদের, যারা টাকার বিনিময়ে ইমামতি করে, মোয়াজ্জেনি করে, কথায় কথায় হারাম-হালালের ফতোয়া দেয়, তাদেরকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

এখানে একটু বলে রাখি, কবিগানের ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে তরজা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, হাফ আখড়াই, ফুল আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপকীর্তন, টপ্পা, কৃষ্ণযাত্রা, তুক্কাগীতি ইত্যাদি। ‘খেউড়’ ধারার গানের আসরে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে থাকেন কবিয়াল। যেমন করেছেন শরিয়ত সরকার।

ধর্মব্যবসায়ীদের তিনি ‘শালা’ বলেছেন। জামায়াত নেতা ও বক্তা তারেক মনোয়ারকে তিনি ‘তারেক জানোয়ার’ বলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ধর্মব্যবসায়ীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। মাওলানা মো. ফরিদুল ইসলাম নামের এক রক্ষণশীল বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় শরিয়ত বয়াতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দিলেন। এছাড়া বয়াতিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মির্জাপুরের একটি গ্রামের কিছু মুসলমান মানববন্ধন ও সমাবেশও করে। ব্যস, পুলিশ কি আর দেরি করতে পারে? শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেপ্তার করে ফেলল। তাকে রিমান্ডেও নিয়ে গেল।

ইসলাম যদি প্রকৃত অর্থেই শান্তির ধর্ম হয়ে থাকে, তবে রক্ষণশীল মুসলমানরা শরিয়ত বয়াতির এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করত। কোরান থেকে প্রমাণ বের করে দেখিয়ে দিত গান-বাজনা যে হারাম। কিন্তু তারা তা না করে মামলার পথ বেছে নিয়েছে। তাদের ধন্যবাদ যে তারা মামলা করেছে, আইন হাতে তুলে নিয়ে শরিয়ত বয়াতিকে হত্যা করেনি। তাকে মেরে ফেললেও বিস্মিত হতাম না। ধর্মানুভূতির নামে এদেশে যে কোনো সময় যে কাউকে মেরে ফেলা যায়। খুনিদের কোনো বিচার হয় না।

গানের পক্ষে কথা বলায় যদি শরিয়ত বয়াতি দোষী হয়ে থাকেন, তবে একই দোষে দোষী বাংলাদেশের বিস্তর মানুষ। আপনাদের মনে করার কোনো কারণ নেই যে, যারা টঙ্গির এজতেমায় আসে, যারা হেফাজতে ইসলামের অনুসারী, যারা চরমোনাই পীরের অনুসারী এবং যারা জামায়াত-শিবিরের অনুসারী, কেবল তারাই মুসলমান। না, এটি আপনাদের ভুল ধারণা। বাঙালি মুসলমানদের বেশ কটি ‘তরিকা’ বা ‘ধারা’ আছে। প্রধান সাতটি তরিকা হচ্ছে : কাদেরিয়া, চিশতিয়া, নকশবন্দিয়া, মোজাদ্দেদিয়া, ওয়াইসিয়া, মাসুমিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়া। এই সাতটি তরিকার মধ্যে অন্তত পাঁচটি তরিকার অনুসারীরা গানকে বৈধ মনে করে। গানকে তারা বলে ‘সামা’। কেউ কেউ আবার ‘শান’ও বলে থাকে। যেমন ওয়াজ মাহফিলে ‘শান’ গেয়ে থাকেন মাওলানা গিয়াসউদ্দিন তাহেরি। চিশতিয়া তরিকার কবিয়ালরা বেহালা, ঢাক, ঢোল, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাজিয়ে স্রষ্টা, নবি, পির-দরবেশ আর গুরুপ্রেমমূলক গান গেয়ে থাকেন। শরিয়ত বয়াতি দোষী হলেও এরাও দোষী। এদেরকেও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। পারবেন গ্রেপ্তার করতে?

শরিয়ত বয়াতির পুরো ভিডিও ক্লিপটি শুনেছি। তিনি কোথাও ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তিনি কোথাও আপত্তিকর কিছু বলেননি। তিনি ধর্মের নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে বলেছেন, ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে বলেছেন। তার কথা বুঝতে হলে আগে বুঝতে হবে ইসলামের অধ্যাত্মিক দিকটিকে। শাস্ত্রের পাশাপাশি ইসলামে অধ্যাত্মও স্বীকৃত। বুঝতে হবে বহুধা বিভক্ত ইসলামকে। শরিয়ত বয়াতিরা ইসলামের অধ্যাত্ম ধারার অনুসারী। তাকে শাস্ত্র দিয়ে বিচার করাটা মূর্খতা। রক্ষণশীল মোল্লা-মৌলবিদের কথায় তাকে গ্রেপ্তার করাটা অন্যায়।

আমি শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি প্রত্যাহার করা হোক। কবিগান বাংলার লোকসংস্কৃতির অংশ। সেই হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃপক্ষও কবিয়াল শরিয়ত সরকারের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হবে আশা করি। একই সঙ্গে সোচ্চার হবেন মুক্তমত, বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষ।

মহাকালে রেখাপাত
১২.০১.২০২০

লেখক:
স্বকৃত নোমান, কথা সাহিত্যিক