Category: প্রবাসে আমরা

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক সম্পন্ন।

জাহেদ জারিফ
নতুন নেতৃত্বকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল পুরো মাসজোড়ে।অভিষেক অনুষ্ঠানকে চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় করে সাজাতে একের পর এক আলোচনা-পর্যালোচনা লেগেই ছিলো।সোসাইটির সবার সহযোগীতায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে ফলে আগত অতিথি সহ প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসী একটি ব্যতিক্রম,দৃষ্টিনন্দন অভিষেক অনুষ্টান উপভোগ করলেন।নেতৃত্বের পালাবদলে সোসাইটির নতুন নেতৃত্বকে বরণ ও সদ্য সাবেক নেতৃবৃন্দকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত করা হয় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি উডসাইডস্থ কুইন্স প্যালেস মিলনায়তনে।অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে পুরো কমিউনিটির মধ্য উৎসাহ উদ্দীপনা আর প্রাণ চাঞ্চল্য দেখা দেয়।নির্ধারিত সময়ের আগে থেকে দূরের পথ পাড়ি দিয়ে সবাই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করলে অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই হল রুম কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী ও মায়েদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। অভিষেক অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মুহিবুর রহমান।পরে সমবেত কন্ঠে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়।এবাদ চৌধুরী ও ওয়াহিদ পারভেজের যৌথ পরিচালনায় অতিথিবৃন্দ আসন গ্রহণ শেষে শুরু হয় নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণপর্ব।প্রধান নির্বাচন কমিশনার বীরমুক্তিযোদ্ধা ওহিদুর রহমান মুক্তা শপথপর্ব পরিচালনা করেন।শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নবনির্বাচত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমিত চৌধুরী ওমেল,সদ্য সাবেক কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম।অভিষিক্ত কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত অতিথি সহ সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়েজ আহমদ চৌধুরী,সদস্য তুহিন আহমদ চৌধুরী।প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজমল হোসেন কুনু গোলাপগঞ্জের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আলোকপাত করে সোসাইটির উত্তোরত্তর সাফল্য কামনা করেন।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত সচিব সামীম আহমদ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তাঁর মুগ্ধতার কথা বলেন এবং নতুন নেতৃত্বের সফলতা কামনা করেন,খ্যাতিমান সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন বলেন আমার পরিচয়ের প্রশ্নে আমি সবসময়ই গোলাপগঞ্জ বলতে কোনো হীনমন্ম্যতায় ভোগিনা,গোলাপগঞ্জ পরিচয় দিতে পারা আমার জন্য গর্বের।সোসাইটির যেকোন প্রয়োজনে নেতৃবৃন্দকে সাহায্য সহযোগীতা আপসহীনভাবে করে যাবেন বলে উল্লেখ করেন।আরোও বক্তব্য প্রদান করেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ কামাল আহমদ,এমাদ আহমদ চৌধুরী,আব্দুল হাসিব মামুন,ওহিদুর রহমান মুক্তা,আব্দুর রহিম বাদশা,ময়নুল হক চৌধুরী,তাজুল ইসলাম চৌ.,সুলেমান আহমদ চৌধুরী,আজিজুর রহমান বুরহান,ফয়জুর রহমান ফটিক,মহি উদ্দীন দেওয়ান,মুহিবুর রহমান চৌধুরী ।অভিষিক্ত কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সাংগঠনিক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হেলিম আহমদ অতিথিবৃন্দ সহ উপস্থিত সবাইকে সোসাইটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান,বিশেষ করে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী ও তাদের মায়েদের অংশগ্রহণ কে তিনি সাধুবাদ জানান।তাদের স্বতস্ফূর্ত সমর্থন সোসাইটিকে আগামীতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন ।নৈশভোজ শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতাকে মাতিয়ে রাখেন নিউইয়র্কের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী।অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে ছিলো কমিউনিটি হেল্পডেস্ক;যেখানে নবাগত প্রবাসীদের সুবিধার্থে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়।লিফলেটে আমেরিকায় সরকারী বেসরকারী চাকরী,ব্যবসা সহ আবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ছিলো।অভিষিক্ত কমিটির সভাপতি হেলিম আহমদের সাথে একান্ত আলোচনায় প্রতিবেদকের সাথে তিনি তাঁর অনুভুতি ও কর্ম পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন বহিঃবিশ্বে সিলেটের সর্ববৃহৎ সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন সহ প্রবাসে অসংখ্য সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটিকে প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর আস্থা ও ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।সোসাইটির সাবেক ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ সহ সকল গোলাপগন্জবাসীকে সাথে নিয়ে কমিউনিটির জন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোসাইটির ভিত আরো মজবুত করবো।তিনি সোসাইটির সাথে সম্পৃক্ত প্রয়াত সকল নেতৃবৃন্দের মাগফেরাত কামনা করেন।

শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে

ছবি: প্রতীকী

রাজধানীর আগারগাঁও পরিসংখ্যান ভবনে ‘মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’ এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এ জরিপ পরিচালনা করে। ৬৪টি জেলার ৬১ হাজার ২৪১টি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আর এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখার জন্য আরও দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। শিক্ষা ও খাবার পানির গুণগতমান, শিশু বিয়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মতো বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত সুরক্ষামূলক বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। 

অন্যদিকে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। পনের বছরের নিচে প্রতি ১০ জনে নয়জন শিশুই তাদের অভিভাবক বা সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে সহিংস শাসনের শিকার।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে শিশু অপুষ্টির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু বেড়েছে শিশুদের প্রতি সহিংস শাসন। ৩৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে শৈশবকালীন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তুলনামূলক কম। এ সংখ্যা গড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১২-১৩ সালে যা ছিল ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময়ে স্কুলে উপস্থিতির হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও এখনও ১৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ছয় দশমিক আট শতাংশ শিশু শ্রমের সঙ্গে জড়িত। স্কুলে যাওয়া শিশুদের তুলনায় এ হার বেশি। শিক্ষা শেষ না করে ঝড়ে পড়ার হারে প্রতি পাঁচজনের একজনই ছেলে। একইসঙ্গে গ্রামে শিশুদের বিয়ে এখনো ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। দারিদ্র্য নিরসনে অগ্রগতি হলেও শিশুদের পুষ্টির হার ভালো নয়।

প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ৯৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ শিশু একবার হলেও মায়ের দুধ পান করেছে। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় এমন শিশুর সংখ্যা ৪৬ দশমিক ছয় শতাংশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, এবারের সার্ভে থেকে পাওয়া নতুন উপাত্তসমূহ মধ্যম আয়ের একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শিশুদের উন্নতির জন্য সহায়ক হবে। শিশুদের উন্নত বিকাশে সার্ভে নানা অবদান রাখবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিবিএস’র অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম ও ইউনিসেফের অফিসার ইনচার্জ অ্যালেন বালাডিন ডমসন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে T10 ক্রিকেট বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও মুজিব বর্ষ মোটর শোভাযাত্রা আয়োজন

নিউইয়র্ক সিটি যুবলীগ কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষেT10ক্রিকেট বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও মুজিব বর্ষ মোটর শোভাযাত্রা আয়োজন এর জন্য এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয় এতে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন! এবং নিউইয়র্ক মহানগরের নেতৃবৃন্দ ।

পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছেন সালমান শাহ।

‘সামিরা-শাবনূর দুইজনকে নিয়েই সংসার করতে চেয়েছিলেন সালমান’

স্ত্রী সামিরা এবং চিত্রনায়িকা শাবনূর দুইজনকেই প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ। এ কারণে শাবনূরকেও বিয়ে করে সংসার করতে চেয়েছিলেন সালমান। কিন্তু সামিরা তাতে রাজি হননি। এমন সব তথ্য উঠে এসেছে পুলিল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআইর) তদন্ত প্রতিবেদনে।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। এ বক্তব্যটি আসলে সালমানের বাসায় রান্নাবান্নার কাজ করা মনোয়ারা বেগমের জবানবন্দি থেকে নেয়া। ওই জবানবন্দীতে আরো বলা হয়, সতীনের সংসার করতে রাজি ছিলেন না সালমানের স্ত্রী সামিরা।পিবিআইয়ের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, হত্যা নয়, আত্মহত্যাই করেছিলেন সালমান শাহ। চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্তকারী সংস্থার প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি তার পরিবার। প্রথমে থানা পুলিশ পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করে।

সেটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সালমান শাহ অপমৃত্যু নাকি হত্যার শিকার তা নিশ্চিত হতে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে। সেটাও প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর র‌্যাব এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট তদন্ত সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পায় পিবিআই।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

নিউজ সূত্র বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর বুলডোজারে পিষে দিল ইসরায়েলি সেনারা

ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর বুলডোজারে পিষে দিল ইসরায়েলি সেনারা

গাজার খান ইউনিসে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যার পর মৃতদেহ বুলডোজার দিয়ে পিষে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

রবিবার সকালে ফিলিস্তিনের গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ফিলিস্তিনের কয়েক জন নাগরিকের ওপর গুলি করলে ওই ব্যক্তি নিহত হন। এই ঘটনায় আরও কয়েক জন আহত হন।পরে ওই ফিলিস্তিনির মরদেহ বুলডোজার দিয়ে পিষে দিতে দেখা যায় এক ভিডিওতে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ফিলিস্তিনের নাগরিক নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করতে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই ইসরায়েলি বাহিনী বুলডোজার নিয়ে গাজা উপত্যকার ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর নিহতের মরদেহ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে থাকে।

ফিলিস্তিনিরা মরদেহ উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও পারেনি। তবে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন তারা। আর মরদেহটি থেতলে দিয়ে সেটি বুলডোজারে তুলে নিয়ে চলে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। এসময় কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে ঢিল ছুড়তে দেখা যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। গাজার প্রতিরোধ সংগঠন ‘ইসলামি জিহাদ’ এক বিবৃতিতে 
এর চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।

হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেছেন, যাকে নিহত করা হয়েছে তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাকে হত্যা করে জঘন্য অপরাধ করেছে ইসরায়েলিরা। সূত্র:পার্সটুডে।

আত্মহত্যা করেছিলেন সালমান শাহ পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে !

হত্যা নয়, আত্মহত্যাই করেছিলেন সালমান শাহ : পিবিআই

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, তদন্তে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

পদত্যাগই করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নতুন সরকার গঠন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দফায় দফায় বৈঠক ও ক্ষমতাসীন জোটে ভাঙনের জোরালো গুঞ্জন ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে অবশেষে পদত্যাগই করলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।

সোমবার দেশটির রাজার কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ৯৪ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন। তবে পদত্যাগের ব্যপারে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, শিগগিরই এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি জারি করা হবে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ের পর পাকাতান হারাপান জোটের প্রধান হিসেবে ওই বছরের ১০ মে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন মাহাথির মোহাম্মদ। বারিসান ন্যাশনাল দলের নেতা হিসেবে টানা প্রায় ২২ বছর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৩ সালে ক্ষমতা থেকে সরে যান তিনি।

পুলিশের ব্যানারে ভাষাসৈনিকের বদলে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি পুলিশ জানে না !

পুলিশের ব্যানারে ভাষাসৈনিকের বদলে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি

একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, রফিক, শফিক, বরকতসহ অসংখ্য ভাষাসৈনিক। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই শহীদ দিবস। তবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাদের ছবি না দিয়ে মহান একাত্তরের শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ছবিটি ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ত্রুটিপূর্ণ এই ব্যানারটি রাজধানীর রমনায় টানানো ছিল। তবে পরে এটি খুলে ফেলা হয়।

এত বড় ভুল দিয়ে একটি দায়িত্বশীল বাহিনীর ব্যানার কীভাবে তৈরি হলো জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্যানার তৈরির দায়িত্ব ও এটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেন ডিএমপির লজিস্টিক বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার ইমাম। ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি ও পুলিশ সদর দফতরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কীভাবে এত বড় ভুল দিয়ে ব্যানার তৈরি হলো তা নিয়ে কাজ করছে ডিএমপি।’

ব্যানারটির ওপরে লেখা ছিল, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০।’ মাঝে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ ৭ বীরশ্রেষ্ঠর ছবি। আর ছবির নিচে লেখা, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।’ তার নিচে ব্লক অক্ষরে লেখা, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ’।

ব্যানারের ওপরের ডান কোণে মুজিববর্ষের লোগো এবং বাম পাশের ওপরে ও নিচে ডিএমপির দুটি লোগো ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা (ডিএমপি) ব্যানার টানাই নাই। কারা টানিয়েছে তা আমরা দেখছি।

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সৌজন্য সভা অনুষ্টিত

জাহেদ জারিফ

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির ২০২০-২১ সালের কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্টানের প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা ১৯/০২/২০২০ইং রোজ বুধবার বিকাল ৫টার সময় স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্টিত হয়।অভিষেক অনুষ্টানকে উপভোগ্য ও স্মরণীয় করতে গৃহীত সমুদয় কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।নবনির্বাচিত সভাপতি জনাব হেলিম আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিত চৌধুরী ওমেলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্টেয় সৌজন্য সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব শেখ আতিকুল ইসলাম।অভিষেক অনুষ্টান আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দ তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন।অভিষেক অনুষ্টানে বাড়তি চমক সহ সোসাইটির সাথে দেশে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আনিত নানাবিধ প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিশ্লেষণী বক্তব্য রাখেন শেখ আতিকুল ইসলাম, হেলিম আহমদ,এবাদ আহমদ চৌধুরী,ওমেল আহমদ চৌধুরী,মুক্তারুল ইসলাম,জাহেদ জারিফ প্রমুখ।সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফয়েজ আহমদ চৌধুরী,ওয়াহিদ পারভেজ,মোস্তাফিজুর রহমান,এনাম আহমদ,এমরান আহমদ,আবুল কালাম,শেখ অলি আহাদ।নবনির্বাচিত সভাপতি হেলিম আহমদের দেশে গমন উপলক্ষ্যে সভাপতির দেশে অবস্থানকালীন সোসাইটির পক্ষ থেকে জনসেবামূলক কোন কার্যক্রম হাতে নেয়া যায় কিনা এমন প্রস্তাবে শেখ আতিকুল ইসলাম গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এম্বুলেন্স দেবার প্রস্তাব করেন,এবাদ আহমদ চৌধুরী গরীব মেহনতী মানুষকে স্বাবলম্ভী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন,ওমেল আহমদ চৌধুরী প্রস্তাব করেন উপজেলার প্রত্যেকটি মাদ্রাসায় ন্যূনতম একজন করে হাফেজে কোরআন কে স্পন্সর করা যাতে তার যাবতীয় খরচাপাতি সোসাইটি বহন করে।অপরপক্ষে জাহেদ জারিফ প্রস্তাব করেন উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরন্জাম প্রদান করে পল্লি ও দূর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্হ্য সেবায় সরকারের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ সোসাইটিকে সেবার অভূতপূর্ব সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য।সভাপতি প্রস্তাবিত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে অভিষেক অনুষ্টান শেষে আলোচনা পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং অভিষেক অনুষ্টানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির নেতৃবৃন্দ

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সৌজন্য সভা অনুষ্টিত

জাহেদ জারিফ

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির ২০২০-২১ সালের কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ ও অভিষেক অনুষ্টানের প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা ১৯/০২/২০২০ইং রোজ বুধবার বিকাল ৫টার সময় স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্টিত হয়।অভিষেক অনুষ্টানকে উপভোগ্য ও স্মরণীয় করতে গৃহীত সমুদয় কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।নবনির্বাচিত সভাপতি জনাব হেলিম আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিত চৌধুরী ওমেলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্টেয় সৌজন্য সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব শেখ আতিকুল ইসলাম।অভিষেক অনুষ্টান আয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যবৃন্দ তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন।অভিষেক অনুষ্টানে বাড়তি চমক সহ সোসাইটির সাথে দেশে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে আনিত নানাবিধ প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিশ্লেষণী বক্তব্য রাখেন শেখ আতিকুল ইসলাম, হেলিম আহমদ,এবাদ আহমদ চৌধুরী,ওমেল আহমদ চৌধুরী,মুক্তারুল ইসলাম,জাহেদ জারিফ প্রমুখ।সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ফয়েজ আহমদ চৌধুরী,ওয়াহিদ পারভেজ,মোস্তাফিজুর রহমান,এনাম আহমদ,এমরান আহমদ,আবুল কালাম,শেখ অলি আহাদ।নবনির্বাচিত সভাপতি হেলিম আহমদের দেশে গমন উপলক্ষ্যে সভাপতির দেশে অবস্থানকালীন সোসাইটির পক্ষ থেকে জনসেবামূলক কোন কার্যক্রম হাতে নেয়া যায় কিনা এমন প্রস্তাবে শেখ আখতারুল ইসলাম গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি এম্বুলেন্স দেবার প্রস্তাব করেন,এবাদ আহমদ চৌধুরী গরীব মেহনতী মানুষকে স্বাবলম্ভী করার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন,ওমেল আহমদ চৌধুরী প্রস্তাব করেন উপজেলার প্রত্যেকটি মাদ্রাসায় ন্যূনতম একজন করে হাফেজে কোরআন কে স্পন্সর করা যাতে তার যাবতীয় খরচাপাতি সোসাইটি বহন করে।অপরপক্ষে জাহেদ জারিফ প্রস্তাব করেন উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরন্জাম প্রদান করে পল্লি ও দূর্গম এলাকার মানুষের স্বাস্হ্য সেবায় সরকারের পাশাপাশি গোলাপগঞ্জ সোসাইটিকে সেবার অভূতপূর্ব সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য।সভাপতি প্রস্তাবিত জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে অভিষেক অনুষ্টান শেষে আলোচনা পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং অভিষেক অনুষ্টানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটির নেতৃবন্দ

দারিদ্রতা লুকোতে চাইছে গুজরাট

যে মোতেরা স্টেডিয়ামে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একযোগে ভাষণ দেবেন বলে স্থির আছে, তার ঠিক সামনেই একটি বস্তির শদুয়েক বাসিন্দাকে উচ্ছেদের নোটিশ ধরানো হয়েছে।

এর আগে শহরে রাস্তার ধারের মলিন ঝুগ্গি-ঝোপড়িগুলো উঁচু দেয়াল তুলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চোখের আড়াল করারও চেষ্টা হয়েছে, সেখানেও বস্তিবাসীরা তাতে প্রবল ক্ষুব্ধ।

এক কথায়, মি ট্রাম্পের সফরের জন্য আহমেদাবাদ তার দারিদ্রের ছবি লুকোনোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুজরাটে পা রাখতে আর সপ্তাহখানেকও বাকি নেই, তার আগে যথারীতি সাজো সাজো রব পড়ে গেছে গোটা আহমেদাবাদ জুড়ে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম হতে যাচ্ছে এই শহরের মোতেরায়, সেখানেই আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার আগে ওই স্টেডিয়ামের কাছে একটি বস্তির গোটা পঞ্চাশেক পরিবারের দুশো লোককে উচ্ছেদের নোটিশ ধরিয়েছে আহমেদাবাদ পুর কর্তৃপক্ষ।

পুরসভার ধরানো কাগজ দেখিয়ে ওই বস্তির বাসিন্দা রমা মেদা বলছিলেন, “কর্পোরেশনের সাহেব এসে জোর করে এই কাগজ আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে গেছে সাত দিনের মধ্যে এই এলাকা খালি করতে হবে।”

“কিন্তু আমরা যাবটা কোথায়? আমরা থাকার জন্য তো আর বাংলো চাইছি না, চাইছি শুধু এক টুকরো জমি!”

বস্তির প্রবীণ আরেক বাসিন্দা বলছিলেন, “গেল বিশ-পঁচিশ বছর ধরে এখানে থেকে মজদুরি করে খাচ্ছি। আজ হঠাৎ করে উঠে যাও বললে আমরা কোথায় যাব? আমাদের তাহলে অন্য কোথাও বসত করার জায়গা দিক।”

পুর কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে, বস্তিবাসীরা ওই জমি জবরদখল করে রেখেছেন বলেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।

তবে গেল কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে যে জমি তাদের হাতছাড়া হয়ে আছে, সেটা এখনই উচ্ছেদ করার কেন তাড়া সে প্রশ্নের সদুত্তর তাদের কাছেও নেই।

এদিকে এর মাত্র কদিন আগেই শহরের শরনিয়াবাস বা দেবশরণ বস্তিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রুট থেকে আড়াল করার জন্য রাস্তার পাশে প্রায় সাড়ে চার ফিট উঁচু দেয়াল তুলেছে আহমেদাবাদ কর্পোরেশন।

সেখানেও ক্ষুব্ধ বস্তিবাসীরা বলছিলেন, “রাষ্ট্রপতি এই রাস্তা দিয়ে যাবেন বলে আমাদের গরীব লোকগুলোকে ঢেকে দিতে হবে কেন?”

“দেয়াল তোলার বদলে অন্য কোনও উন্নয়ন তো করলে পারত বরং!”

কেউ কেউ আবার বলছেন, “এর চেয়ে বরং আমাদের কদিনের জন্য বের করে দিত – ঝোপড়পট্টির লোকজনকে এভাবে অপমান করার কী দরকার ছিল?”

শহরের সুপরিচিত প্রবীণ অ্যাক্টিভিস্ট নির্ঝরী সিনহাও বলছিলেন, এই সব ব্যাপার-স্যাপার দেখে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ।

তিনি বলছিলেন, “যে রাস্তার পাশে দেয়াল তোলা হয়েছে, সেটা এয়ারপোর্ট থেকে শহরে আসার পথেই পড়ে।”

“এর আগেও চীনা প্রেসিডেন্ট বা জাপানি প্রধানমন্ত্রীর গুজরাট সফরের সময় সেগুলো তেরপলের চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়া হত – কিন্তু এবার কংক্রিটের দেয়াল তোলার কী হলো বুঝলাম না।”

“এমন কী আশেপাশের ছোটখাটো বহু পান ও চায়ের দোকানও কয়েকদিনের জন্য বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।”

“আমরা তো একটা গরীব দেশ, শুধু আমরা বিদেশি অতিথিদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত খরচই করছি না – গরীব মানুষের রুটিও কেড়ে নিচ্ছি।”

আহমেদাবাদের বাসিন্দা শাহিনা শেখও মনে করেন, ট্রাম্পের সফরের নামে শহরে অনেক ভুলভাল খরচও হচ্ছে।

তিনি বলছিলেন, “ট্রাম্প আসছেন শোনার পর থেকেই দেখছি শহরের যে রাস্তাগুলো ভালো ছিল সেগুলোকেই আরও ভালো করা হচ্ছে, অথচ যে খারাপ রাস্তাগুলোর মেরামত দরকার সেগুলো যে-কে-সেই পড়ে আছে।”

“সবাই তো জানেন এখানে রাজনীতির কারকারবার, সেই অনুযায়ীই এসব হচ্ছে আর কী!”

“আর এই যে ট্রাম্পকে ‘শো অফ’ করার জন্য রাস্তা সারানোর নামে ভালো রাস্তাগুলোতেই খরচ করছে, এই টাকা তো আমাদের জনগণের পকেট থেকেই যাবে?”

কাজেই একদিকে সুন্দর রাস্তাকে আরও চকচকে করে তুলে, আর অন্যদিকে গরীব বস্তিকে প্রেসিডেন্টের নজর থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা করেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে আহমেদাবাদ।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশকে “দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র বললেন ব্রিটিশ এমপি রুপা হক

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত চার বৃটিশ এমপির একজন রূপা হক। আওয়ামী লীগের শাসনাধীন বাংলাদেশকে “দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র” (rogue state) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি। এছাড়াও বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে বিশ্বের অন্যান্য রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে তুলনা করার সময় কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলেছেন।

৪ঠা ফেব্রুয়ারি বৃটিশ আইনসভা হাউজ অব কমন্সে আয়োজিত লেবার ক্যাম্পেইন ফর হিউম্যান রাইটসের এক অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন বৃটেনের ইলিং সেন্ট্রাল এন্ড অ্যাক্টন আসন থেকে নির্বাচিত ব্রিটিশ লেবার পার্টির এই এমপি।বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করাটা নাগরিকদের জন্য যেভাবে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রূপা হক, আর সমালোচনা করেছেন শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় ন্যারেটিভেরও।

অতীতেও অবশ্য রূপা হক বাংলাদেশ সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের গ্রেপ্তার নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ কোন এমপির এভাবে সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনায় মুখর হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রূপা হক বলেন, “এই মুহূর্তে এটি কোন স্বাভাবিক দেশ নয়, আমি মনে করি [দেশটি] এক ধরণের দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র বা কাছাকাছি [কিছুতে পরিণত হয়েছে]।”

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার পরিমাপের সকল সূচক বা মানদণ্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন খুবই নিপীড়নমূলক একটি রাষ্ট্র। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, কেননা দেশটির মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা এমনকি সমাজতন্ত্র এই শব্দগুলোও ছিল। কিন্তু এখন এটি অত্যন্ত কঠোর ও কর্তৃত্বপরায়ণ একটি ক্ষমতাব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।”

রূপা হক জানান তিনি সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেছেন ২০১৭ সালে, লেবার ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের আয়োজনে। ওই সংগঠনটি সাধারণত বাংলাদেশে গিয়ে সোজাসাপ্টা সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৃটিশ এই এমপি ওই উন্মুক্ত সভায় আরও বলেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একসময় ক্ষমতার পালাবদল ঘটতো। “কিন্তু এখন একদিকেই দেশটি আটকে আছে, কেননা অপর পক্ষের সবাইকে জেলে ঢুকানো হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অগ্রাহ্য করা উচিত নয় মত দিয়ে তিনি বলেন, “আমি অবশ্য আশাবাদী যে [পরিস্থিতি হয়তো ভালোর দিকে যাবে]। কারণ, আমার শৈশবকালে, আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, তখন উত্তর আয়ারল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকায় যা হচ্ছিল, তা কখনই সমাধান হবে না বলেই মনে হতো। কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের সংকটের কথা হয়তো এক্ষেত্রে বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু [বাংলাদেশে] মানবাধিকারের এই ট্র্যাজেডি আমরা অগ্রাহ্য করলে আমাদেরই বিপদ হবে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিয়ে নিজের সূচনা বক্তব্যে রূপা হক দলীয় নেতাদের প্রতি আওয়ামী লীগের প্রশ্নাতীত বন্দনারও সমালোচনা করেন। এ সময় ২০১৭ সালে বাংলাদেশে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষ্য, “সেখানকার স্টাফরুমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার বাবার বিরাট বড় ছবি টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। আমার তখন মনে হলো যে কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফরুমে উইন্সটন চার্চিল বা তখনকার প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের ছবি টাঙানো থাকবে এমনটা আমরা চিন্তাও করতে পারিনা। আমার কাছে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত অশুভ মনে হয়েছে।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, যাকে “জাতির পিতা” বলা হয়, তাকে নিয়ে নির্দিষ্ট করে রূপা হক বলেন, “এই জাতির পিতা সংক্রান্ত বিষয়টি আমাকে কিছুটা চমকে দিয়েছিলো।”

২০২০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশে “জাতির পিতা”-র বিরুদ্ধে “অপপ্রচার” বা “প্রচারণা” ছড়ানো ফৌজদারি অপরাধ, যার সাজা সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড।

এই জন্মবার্ষিকী সম্পর্কে রূপা হক বলেন, “আমি এই মার্চে এখানে হাউজ অব কমন্সের একটি ডাইনিং হলে জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েছি। আমি শুধু এটুকুই বলবো যে আমি আপনাদের এই বর্ণনা (ন্যারেটিভ) মানিনা যে এই লোকটি জাতির পিতা।”

২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তারা বিমানবন্দরের নাম পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলেছে। সব ভয়ানক সব কাণ্ড করেছে। মনে হয় তারা যেন আগের ইতিহাস মুছে ফেলার কাজে নেমে পড়েছে।” প্রসঙ্গত, নাম পরিবর্তনের আগে বিমানবন্দরটির নাম আওয়ামী লীগের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের নামে রাখা হয়েছিল।

লেবার ক্যাম্পেইন ফর হিউম্যান রাইটস ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল মূলত “বৃটেন অ্যান্ড বাংলাদেশ” শিরোনামের একটি প্রকাশনাকে কেন্দ্র করে। এই প্রকাশনার উদ্দেশ্য বাংলাদেশ নিয়ে লেবার পার্টির নীতিমালা ও অবস্থান নির্ধারণে সাহায্য করা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ার ম্যাথিউ টার্নার। অনুষ্ঠানে আরও যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে ছিলেন ব্র্যাক ইউকের বোর্ড সদস্য ও গ্রেটার লন্ডন অ্যাসেম্বলির সাবেক লেবার সদস্য মুরাদ কোরেশী, সামাজিক নীতিমালা ও ত্রাণ বিশেষজ্ঞ হালিমা বেগম, ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলমের বোন কাজী নাজমা করিম, ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক রুমানা হাশেম, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান (নেত্র নিউজের ইংরেজি বিভাগের সম্পাদক)।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কেন সোচ্চার হতে চান, তার ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে রূপা হক ওই অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি ইলিং সেন্ট্রাল এন্ড অ্যাক্টন থেকে নির্বাচিত লেবার এমপি। কিন্তু আপনি যদি আমার মতো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি যেই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন, তার চেয়েও বৃহত্তর [জনগোষ্ঠীর] এমপি। আপনি আসলে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশী ডায়াসপোরার [প্রবাসী জনগোষ্ঠী] একজন এমপি।”

এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করেছে নেত্র নিউজ। তবে এই সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত হাইকমিশনের কোন জবাব পাওয়া যায়নি। সুত্র। নেত্র নিউজ ।

শুদ্ধস্বর/